হোমPlot1বিজয়া দশমীতে সিঁদুর খেলা হয় কেন?

বিজয়া দশমীতে সিঁদুর খেলা হয় কেন?

বিজয়া দশমীতে সিঁদুর খেলা হয় কেন?

ডঃ শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়
দশমীর আগমনে এবার দেবীর ঘরে ফেরা। এখন তাই নিয়ম মেনে সিঁদুর, পান, সুপুরি, পানের খিলি, মিষ্টি, ষোল আনা, জল, ধূপকাঠি, প্রদীপ দিয়ে বরণডালা সাজিয়ে দেবী বরণ। এ যে ঘরের মেয়ের শ্বশুরবাড়ি যাওয়া, তাই যত্ন করে বিদায়ের এমন আয়োজন। তারপর দীর্ঘ অপেক্ষা। দিন খোঁজা – আবার পরের বছর মায়ের আগমনের অপেক্ষা।

দশমী মানেই ঢাকের বাদ্যি, উলুধ্বনি, আর দশমীর দিন স্নান করে শুদ্ধ বস্ত্র পরে, পায়ে আলতা দিয়ে, সিঁথিতে সিঁদুর পরে মাকে বরণ করে দেবী দুর্গার সিঁথিতে সিঁদুর দেওয়া। তারপর মায়ের মুখে মিষ্টি দিয়ে দেবীকে বরণ করে নেওয়া এবং একে অপরকে সিঁদুর দিয়ে সিঁদুর মাখিয়ে সিঁদুর খেলা। এ যেন বাড়ির মেয়েকে শ্বশুরবাড়ি পাঠানোর আগে মিষ্টিমুখ করানো, সিঁদুর – আলতা পরিয়ে বিদায় জানানো। কিন্তু সিঁদুর খেলা কেন?

আমরা যদি এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে যাই তাহলে দেখবো এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে অনেকগুলি বিশ্বাস।

প্রচলিত ধারণা, দেবীকে বিবাহের সময় স্বয়ং দেবাদিদেব মহাদেব সিঁদুর দান করেছিলেন। তাই দেবীকে সিঁদুর পরানো হলে দেবী সন্তুষ্ট হন। ভগবান শিবেরও আশীর্বাদ পাওয়া যায়। অন্য আর একটি মতে, পৃথিবীতে মা লক্ষ্মী যে পাঁচটি স্থানে স্থির হয়ে বিরাজ করেন, তার মধ্যে একটি হলো সিঁথি, যেখানে সিঁদুর পরা হয়। তাই দেবী দুর্গাকে, দেবী লক্ষ্মীকে সাক্ষী রেখে সিঁদুর পরলে গৃহ ধন ধান্যে পূর্ণ হয়ে ওঠে, সিঁদুর অক্ষয় হয়।

আবার এও বলা হয় যে, সিঁদুর পরলে সৃষ্টিকর্তা ব্রহ্মা সন্তুষ্ট হন। তিনি সেখানেই অধিষ্ঠান করেন। আবার, এও বলা হয় যে, যেহেতু কাত্যায়নী ব্রত সামনে রেখে ভগবান কৃষ্ণের প্রতি অনুরাগ প্রকাশ করে কৃষ্ণের মঙ্গল কামনায় গোপিনীরা সিঁদুর খেলেছিলেন তাই সিঁদুর পরা এবং সিঁদুর খেলা।

বিজয়া দশমীতে দেখা যায় দেবীকে সিঁদুর পরানোর পর অনেকেই সেই সিঁদুর বাড়িতে রেখে দেন যত্ন সহকারে। সারা বছর ধরে তা ব্যবহারের জন্য। বিশ্বাস – দেবীর এই সিঁদুর যেহেতু অক্ষয় তাই এই সিঁদুর পরলে সিঁথির সিঁদুর অক্ষয় হয়।

এই সিঁদুর পরা এবং সিঁদুর খেলার পেছনে কাহিনি ও রীতি যাই থাকুক – বাস্তবে মনে হয় এর সঙ্গে সংযুক্ত উৎসবের মেজাজ। আসলে এ হলো নারীদের নিজেদের মধ্যে একান্ত নিজস্বতায় উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নেওয়া।

spot_img
spot_img

সবাই যা পড়ছেন

spot_img