হোমআন্তর্জাতিকবাংলাদেশ: রক্তঝরা আন্দোলনের ৭৭ বছর

বাংলাদেশ: রক্তঝরা আন্দোলনের ৭৭ বছর

বাংলাদেশ: রক্তঝরা আন্দোলনের ৭৭ বছর

নয়ন বিশ্বাস রকি
ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টালেই আগামীকাল ২৩ জুন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। ১৯৪৯ সালের এই দিনে রোজ গার্ডেনের ঐতিহাসিক সভায় জন্ম নেওয়া দলটি আজও এদেশের রাজনীতির মূল স্রোত। কিন্তু এবারের পরিবেশ ভিন্ন। রাষ্ট্রযন্ত্রের তৎপরতা, পুলিশি হয়রানি, মামলা-হামলার ভয় উপেক্ষা করেও সর্বস্তরের কর্মী-সমর্থক প্রস্তুত। ইতিহাস সাক্ষী, আওয়ামী লীগকে দমানো যায়নি, এবারও যাবে না।

৭৭ বছরের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস: সংগ্রামই পরিচয়
১৯৪৯, ২৩ জুন: মৌলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানির সভাপতিত্বে, শামসুল হকের সাধারণ সম্পাদকত্বে “পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ” গঠন। উদ্দেশ্য ছিল শোষণের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলা।

১৯৫২: ভাষা আন্দোলনের নেতৃত্ব। রফিক-সালাম-বরকতের রক্তে ভেজা ২১ ফেব্রুয়ারি, আওয়ামী লীগের কর্মীরাই প্রথম সারিতে।

১৯৫৪: যুক্তফ্রন্টের ব্যানারে নির্বাচনে ২৩ আসনে জয়। জনগণের রায় পেলেও পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী সরকার ভেঙে দেয়।

১৯৬৬, ৫ ফেব্রুয়ারি: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৬ দফা দেন। এটি ছিল বাঙালির মুক্তির সনদ।

১৯৭০: নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়। কিন্তু ক্ষমতা হস্তান্তর না করায় শুরু হয়‌ মুক্তির লড়াই, সেই দিন সাত কোটি বাঙালি শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল। দেশ ও দেশের মা মাটিকে রক্ষা করার জন্য যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর উপর। আর তৎকালীন সময়ের ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী এক কোটি বাঙালিকে আশ্রয় দিয়েছিলেন, মুক্তিযুদ্ধে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ করে স্বাধীনতার সংগ্রাম ত্বরান্বিত করেছিলেন। ভারত আমাদের বন্ধু, ভারতের ইতিহাস বাঙালি হৃদয়ে অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে । বাংলাদেশে কিছু সংখ্যক পাকিস্তানপ্রেমী মৌলবাদী আছে, তারা মিথ্যা কথা বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করে, তাদের মিথ্যা বয়ান এই সমস্ত মানুষ এখন বিশ্বাস করে না। এটা শুধু শুধু ভারতের বিরুদ্ধে তাদের প্রতারণার স্লোগান বাংলাদেশের জনগণ ৯৫% বুঝে গেছে।

১৯৭১, ৭ মার্চ ও ২৬ মার্চ: বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরাই মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত করেন। ৩০ লাখ শহীদ, ২ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে স্বাধীন বাংলাদেশ।

১৯৮১, ১৭ মে: স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস। নির্বাসন কাটিয়ে শেখ হাসিনা দেশে ফিরে দলকে পুনর্গঠিত করেন।

১৯৯৬-২০০১ ও ২০০৯-২০২৪: তিন দফায় রাষ্ট্র পরিচালনা। পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, ডিজিটাল বাংলাদেশ, শতভাগ বিদ্যুৎ উন্নয়নের নয়া অধ্যায়।

৭৭বছরে ১৭ জন সভাপতি, হাজারো শহীদ, লাখো কারাবন্দি। এই দলের ইতিহাস মানেই রক্ত, ত্যাগ আর জনগণের অধিকারের লড়াই।

২০২৬: প্রতিকূল পরিবেশেও প্রতিজ্ঞা অটুট
আজকের বাস্তবতা কঠিন। রাজপথে কর্মসূচি দিলেই মামলা। অফিসে তালা। নেতা-কর্মীদের বাড়ি বাড়ি পুলিশি তৎপরতা। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে দলটির উপর নিষেধাজ্ঞা, ব্যাংক হিসাব জব্দ, মিডিয়া কভারেজে বাধা।

তারপরও ২৩ জুন আসছে। কেন আসছে? কারণ এই দিনটি শুধু জন্মদিন নয়, এটি একটি আদর্শের দিন। “জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু” স্লোগানটি শুধু শব্দ নয়, এটি কোটি মানুষের বুকের স্পন্দন।

সিলেট থেকে চট্টগ্রাম, রংপুর থেকে বরিশাল, কর্মীরা বলছেন, “পুলিশি হয়রানি করে ইতিহাস মুছে ফেলা যায় না। ১৯৭১-এ বুলেটের সামনে দাঁড়িয়েছি, ২০২৬-এ লাঠির ভয় করব কেন?”

. রাষ্ট্রযন্ত্রকে মোকাবিলার প্রস্তুতি
তৃণমূল থেকে খবর আসছে – এবার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন হবে সৃজনশীলভাবে।
. বাড়ি বাড়ি পতাকা উত্তোলন: ২৩ জুন সকাল ৬টায় নিজ বাড়ির ছাদে দলীয় পতাকা ও জাতীয় পতাকা। দলীয় কার্যালয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের স্বাধীনতার পতাকা উড়বেই।
. অনলাইনে প্রচার: 77YearsOfAwamiLeague হ্যাশট্যাগে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ, শেখ হাসিনার উন্নয়নের ছবি শেয়ার।
দোয়া-মিলাদ: মসজিদ-মন্দির-গির্জায় শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা।
. স্বেচ্ছায় রক্তদান: কর্মীদের উদ্যোগে জেলা-উপজেলায় রক্তদান কর্মসূচি।

কর্মীরা বলছেন, “রাষ্ট্রযন্ত্র রাস্তা বন্ধ করবে, আমরা ঘরের দরজা খুলব। মিছিল করতে দেবে না, আমরা হৃদয়ে মিছিল করব।” এবং বাংলাদেশের জেলা উপজেলা ইউনিয়ন ওয়ার্ড বিভাগীয় শহর সব জায়গাতেই মিছিল হবে মিছিল জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন চলমান রয়েছে তা থাকবে।

. জনগণের প্রতি প্রশ্ন
৭৭ বছরে আওয়ামী লীগ কি শুধু ক্ষমতায় ছিল? নাকি দেশের প্রতিটি অর্জনের সাথে জড়িয়ে আছে?

  • ভাষার অধিকার চাইলে আওয়ামী লীগ। স্বাধীনতা চাইলে আওয়ামী লীগ। গণতন্ত্র ফেরাতে চাইলে আওয়ামী লীগ। পদ্মা সেতু, কর্ণফুলী টানেল, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র – সবই এই দলের আমলে। সারা বাংলাদেশটাই আওয়ামী লীগ আর আওয়ামী লীগ। মিথ্যা মামলা হামলা দিয়ে বেশিদিন আটকে রাখা যাবে না গণবিস্ফোরণ হবে হবেই।

আজ যারা “পাচার”, “লুটপাট” বলে প্রচার করছে, তারা ভুলে যায়, ১০টা পদ্মা সেতুর টাকাও যদি পাচার হয়, তবু পদ্মা সেতুটা থেকে যায়। জনগণ সেটা ব্যবহার করে।

উপসংহার: ইতিহাসের কাঠগড়ায় বিচার হবে
২৩ জুন ২০২৬ আসবে। হয়তো বড় সমাবেশ হবে না, হয়তো মিডিয়ায় লাইভ হবে না। কিন্তু কোটি মানুষের বুকে ৭৭ বছরের স্মৃতি জ্বলবে।

বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, “রক্ত দিয়েছি, আরও দেব। এদেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়ব।” সেই রক্তের উত্তরসূরিরা আজও বেঁচে আছে। পুলিশি হয়রানি, মামলা, গ্রেপ্তার – কিছুই তাদের দমাতে পারবে না।

কারণ আওয়ামী লীগ কোনো ব্যক্তির দল নয়, এটি একটি আদর্শের নাম। আদর্শকে কারাগারে বন্দি করা যায় না।
২৩ জুন আমাদের গর্বের দিন, আমাদের শপথের দিন, এবং দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মী সমার্থক প্রতিজ্ঞা সংকল্প বদ্ধপরিকর দেশরত্ন শেখ হাসিনা দ্বিতীয়বার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করেই ঘরে ফিরব । আন্দোলন সংগ্রাম চলমান থাকবে যদি বাধা আসে, বাঁধবে লড়াই, লক্ষস্থলে না পৌঁছনো পর্যন্ত রাজপথই আমাদের ঠিকানা।

  • নয়ন বিশ্বাস রকি প্রাক্তন ছাত্রলীগ নেতা, সমাজসেবক ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের কর্মী
spot_img
spot_img

সবাই যা পড়ছেন

spot_img