হোম দেশ ইভিএম কারচুপির অভিযোগ, ভিভিপ্যাট গণনার পক্ষে বিশেষজ্ঞরা

ইভিএম কারচুপির অভিযোগ, ভিভিপ্যাট গণনার পক্ষে বিশেষজ্ঞরা

হীরক কর : ইলেকট্রনিক্স ভোটিং মেশিন বা ইভিএম জালিয়াতির অভিযোগ নতুন নয়। প্রথম পর্যায়ের ভোটের পর এই নিয়ে সোচ্চার হয়েছে তৃণমূল শিবির। প্রথম দফার ভোটে দক্ষিণ কাঁথি বিধানসভার একটি বুথে ইভিএম কারচুপির অভিযোগ তুলেছিলেন তৃণমূল নেতৃত্ব। তাঁদের অভিযোগ ছিল, তৃণমূলের প্রতীকে বোতাম টিপলে ভোট পড়ছে পদ্মফুলে। এর জেরে বিক্ষোভও
হয়।

এর ঠিক উল্টোটাই ঘটেছে দ্বিতীয় পর্বের নির্বাচনে । নন্দীগ্রাম থেকে বুথ দখলের একাধিক অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। একাধিক সংবাদ মাধ্যমের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে । সাংবাদিকদের মারধর করা হয়েছে। বিজেপির ভয়ে আবার নন্দীগ্রামের অনেক বুথে তৃণমূলের পোলিং এজেন্ট বসতে পারেননি, এমন অভিযোগও করেছে তৃণমূল।

গত দু-চার বছরে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে ইভিএম নিয়ে কারসাজির অজস্র অভিযোগ উঠেছে। ইভিএম নিয়ে এই যে সংশয় বা অবিশ্বাস তৈরি হওয়া, এটাই ভারতবর্ষের রাজনীতির এবং গণতন্ত্রের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। এই পাঁচ রাজ্যের নির্বাচনে ইভিএম নিয়ে ক্রমাগত চর্চা হচ্ছে। কিছু লোকের মনেও সংশয় তৈরি হচ্ছে যে ইভিএমে কারচুপি করা যায় কিনা, সেটাই নির্বাচন কমিশনের পক্ষে অত্যন্ত অস্বস্তিকর। সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট  আইনজীবী প্রশান্তভূষণের মতে, এটাই আসলে এই মুহূর্তে রাষ্ট্র হিসাবে ভারত এবং গণতন্ত্র হিসেসবে বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের জন্য বড় দু:শ্চিন্তার বিষয়।

 ইভিএম কতটা ‘নিঁখুত’, তা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠছে, তার কারণ শুধু পশ্চিমবঙ্গের দুই বিজেপি নেতা, মুকুল রায় এবং শিশির বাজোরিয়ার মধ্যে কথোপথনের ফাঁস হয়ে যাওয়া রেকর্ডিংই নয়। এবারের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার নির্বাচন তো প্রথম থেকেই রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল নির্বাচন কমিশনকে চ্যালেঞ্জ করার খোলা ময়দান করে  দাঁড় করিয়েছে । তৃণমূলের প্রতিটি অভিযোগ আলাদা করে তাৎপর্য পেয়েছে, যখন প্রথম দফার নির্বাচনেই পূর্ব মেদিনীপুরের বিভিন্ন প্রান্তে ইভিএম নিয়ে অভিযোগ সামনে এসেছে। পশ্চিমবঙ্গের ভোটে তাই নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা বা ইভিএম নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত।

এমন কী যন্ত্র খারাপ হলেও ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে সব ভোটই গিয়ে পড়েছে বিজেপির ঝুলিতে, কংগ্রেস বা আম আদমি পার্টি বহুবার এমন অভিযোগও করেছে। গেল বছর বিহারের নির্বাচনেও অভিযোগ ছিল, যেখানেই বোতাম টেপা হোক না কেন, সব ভোট গিয়ে পড়ছে বিজেপির ঝুলিতে ।

এবারে নির্বাচন কমিশনের ডাকা সর্বদলীয় বৈঠকে গিয়ে কংগ্রেস-সহ একাধিক বিরোধী দল দাবি জানিয়েছে ইভিএম পদ্ধতিটাই বাতিল করে দেওয়া হোক। কংগ্রেস মুখপাত্র অভিষেক মনু সিংভি বলছেন, “শুধু আমরাই নই, দেশের অন্তত ৭০ শতাংশ রাজনৈতিক দলই মনে করে, যত দ্রুত সম্ভব কাগজের ব্যালট আবার ফিরিয়ে আনা উচিত। এই দাবিতে আমরা অনড় থাকব। কারণ ইভিএমের ওপর আমাদের বিশ্বাস টলে গেছে। সম্প্রতি কৈরানা আসনের উপনির্বাচনেও দেখা গেছে প্রায় ১৩ শতাংশ মেশিন খারাপ বেরিয়েছে। আমরা জানতে চাই, কারা এগুলো সারায়, কীভাবেই বা সারায় ?”

কংগ্রেস ছাড়াও ইভিএম বাতিলের দাবি তুলেছে সমাজবাদী পার্টি, বসপা বা তৃণমূল কংগ্রেসের মতো আরও অনেক দল। তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষদস্তিদার বলছিলেন ইভিএম নিয়ে ঠিক কোথায় তাঁদের আপত্তি।
তাঁর কথায়, “আমাদের এমন একটা সন্দেহ তৈরি হয়েছে যে, যখন ইভিএমে ভোট রেকর্ড করা হচ্ছে, তখন ভোটারের মতামত বোধহয় সঠিকভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে না। আর সে কারণেই আমরা ব্যালট পেপার ফিরিয়ে আনার কথা বলেছি।”
তিনি বলেন,”আর তা ছাড়া পশ্চিমী দুনিয়ার কোনও আধুনিক ও উন্নত দেশেই তো ইভিএম ব্যবহার করা হয় না। হয় না, কারণ সেখানে ম্যানিপুলেশন বা কারসাজির অবকাশ থাকে। তারা যদি ব্যালট পেপারে ভোট করাতে পারে, তাহলে আমাদেরও ব্যালটে ফিরে যেতে অসুবিধা কোথায়?”

কিন্তু এই দেশে  গত প্রায় কুড়ি বছর ধরে ভোটে ইভিএম ব্যবহার করা হচ্ছে। নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ করে তোলার পেছনেও অনেকেই এতদিন ইভিএমকে কৃতিত্ব দিয়ে এসেছেন। হঠাৎ সেই ইভিএমকে ঘিরে এই যে সন্দেহের ছায়া তৈরি হয়েছে, তার কতটা ভিত্তি আছে?

অবসরপ্রাপ্ত আমলা ও পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য নির্বাচন কমিশনের প্রধান নির্বাচনী অফিসার মীরা পান্ডে বলছিলেন, “যতই হোক, ইভিএম একটা যন্ত্র এবং আমি টেকনিক্যাল বিশেষজ্ঞ নই যে বলতে পারব ওটাতে কোনও গন্ডগোল হচ্ছে, কি হচ্ছে না! তবে এটুকু নিশ্চয় বলতে পারি ইভিএমের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে অনেক সহজ বা স্বচ্ছভাবে পরিচালনা করা যায়। আগে যে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোট করানো হত, তাতে কিন্তু গন্ডগোল করানোর অনেক বেশি সুযোগ থাকত। ইভিএমে সেটা করা মুশকিল। কারণ এখানে বুথ দখল করেও যদি কেউ মেশিনে একধারসে বোতাম টিপে যেতে থাকে তাহলে পরে মেশিনের মেমোরি চিপ থেকে কিন্তু ধরে ফেলা সম্ভব কখন, কতগুলো ভোট পড়েছে। আর সেই জায়গায় সব ব্যালট পেপারই দেখতে এরকম, কাজেই বাক্সে কোনটা সঠিক ভোট আর কোনটা ফল্‌স ভোট, তা ধরা খুব মুশকিল!”

অন্যদিকে, ইভিএমকে পুরোপুরি ক্লিনচিট দিতে নারাজ প্রসার ভারতীরপ্রাক্তন সিইও জহর সরকার। একসময় দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচন প্রক্রিয়ার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন জহরবাবু। তাঁর মতে, ইভিএম পুরোপুরি ক্রুটিমুক্ত, একথা বলা যাবে না। তাঁর স্বচ্ছ নির্বাচন স্বার্থে ইভিএমের পাশাপাশি ভিভিপ্যাট পুরোপুরি গণনা করা প্রয়োজন। তাহলেই ভোটগণনা নিয়ে সন্দেহের অবকাশ থাকবে না।”

ব্যালট পেপার ফিরিয়ে আনলে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বুথ দখল, ছাপ্পা ভোট এবং রিগিংও আবার প্রবলভাবে ফিরে আসবে। এই আশঙ্কা অনেকেরই। আবার কেউ কেউ বলছেন, রাজনৈতিক দলগুলো পরাজয়ের গন্ধ পেলে ইভিএম নিয়ে সোচ্চার হয় । জয় যার দোড়গোড়ায়, সে তখন “স্পিকটি নট”।

ডান-বাম-মধ্যপন্থা নয়, আমরা সোজাসুজি পথেই বিশ্বাসী। সংবাদমাধ্যমকে কুক্ষিগত করতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল লগ্নি করছে বিপুল অঙ্কের অর্থ। আর তার জেরে শিকেয় উঠেছে নির্ভীক, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা। বিপন্ন সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা। আমজনতাই আমাদের শক্তি। তাই আমরা চাই, আপনিও আমাদের পাশে থাকুন। আপনার সামান্য অনুদানও আমাদের চলার পথে সাহস জোগাতে পারে। kolkatanewstoday@gmail.com

সবাই যা পড়ছেন

করোনায় চিকিৎসকদের পরামর্শ, এই ফোন নম্বরগুলি অবশ্যই সঙ্গে রাখুন

দেশে করোনা সংক্রমণ দিন দিন ভয়াবহ চেহারা নিচ্ছে। ইতিমধ্যে চিকিৎসা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার মুখে।কোনওরকম সমস্যা হলে, ফোনে বিনাখরচে চিকিৎসকদের পরামর্শ নিন। এখানে...

আরও ভয়াবহ! দেশে একদিনে আক্রান্ত ২ লক্ষ ৬১ হাজার, মৃত ১৫০১

দেশে করোনা পরিস্থিতি ক্রমশ ভয়াবহ চেহারা নিচ্ছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রকের রিপোর্ট অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্তের সংখ্যা ২ লাখ ৬১ হাজার ৫০০। এ...

বাংলায় দৈনিক আক্রান্ত ৮ হাজারের পথে, মৃত ৩৪, তবু ভোটপ্রচারে লাগাম নেই

নির্বাচনী প্রচারের মধ্যেই রাজ্যে দৈনিক করোনা আক্রান্তের সংখ্যা এবার প্রায় ৮ হাজারের কাছাকাছি পৌঁছে গেল। সেইসঙ্গে সক্রিয় করোনা রোগীর সংখ্যা ৪৫ হাজার...

বাংলায় করোনা ছড়ালে, দায় নিতে হবে মোদী-বিজেপিকে : মমতা

দেশে করোনার ভয়াবহ পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে কাঠগড়ায় তুললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্রের নিষ্ক্রিয়তার জন্যই দেশে ব্যাপক হারে ছড়াচ্ছে করোনা।...

শীতলখুচিকাণ্ডে মমতার অডিও টেপ ফাঁস বিজেপির, ভুয়ো বলল তৃণমূল

পঞ্চম দফার ভোটের আগের দিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আরও একটা অডিও ক্লিপ প্রকাশ্যে আনল বিজেপি, যা নিয়ে ফের তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। যদিও এই...