শেষ বসন্ত উৎসব

দেবস্মিতা নাগ
বিশ্ববিদ্যালয়ে এটাই শেষ বসন্ত। “বসন্তের এই ললিত রাগে বিদায় ব্যথা লুকিয়ে জাগে ফাগুন দিনে গো” এই দুকলি বার বার করে মনের মধ্যে কোথাও বেজে উঠছে অমৃতার। আর মাত্র কটা মাত্র দিন ,তার পরেই তো জীবনটা কতখানি পাল্টে যাবে।

শান্তিনিকেতনের এই আম্রকুঞ্জ, এই সবুজ ছায়া, এই লাল পথ, সব ছেড়ে সে চলে যাবে অনেক দূরে।প্রথমে চুঁচুড়ায় নিজের বাড়ি আর তার পরেই মাত্র ৬ মাসের অপেক্ষা। সে চলে যাবে সেই সুদূর নিউজিল্যান্ডে। তার যে বিয়ে। শুধু আর মাস দুয়েকের অপেক্ষা। তার হবু স্বামী সেখানকার আইটি ইঞ্জিনিয়ার। আপাতত বছর পাঁচেক তো সেখানেই।তার পর জানা নেই।

অমৃতার ইচ্ছে ছিল, নিজের একটা গানের স্কুল খুলবে বাড়িতেই। কিন্তু তার জন্যে তো সময় লাগবে।সময়ই তো নেই। একদমই নেই। বাড়িতে ছোট বোন আছে। সবে উচ্চমাধ্যমিক। বাবার পেনশনটুকুই যা ভরসা। ডাক্তার একরকম জবাব দিয়েই দিয়েছে। এই অবস্থায় মায়ের মাথায় ঠিক কতটা চিন্তা, সেটা বোঝার ক্ষমতা অমৃতার হয়েছে।

জীবনটা একদমই পাল্টে যাবে আর কদিনের মধ্যে। ঠিক কতখানি পাল্টে যাবে সে নিজেও জানে না।এসব ভাবতে ভাবতেই বসন্ত এসেই গেল। শীতের শেষে এক বিয়ে বাড়িতে অনিরুদ্ধর অমৃতাকে দেখে পছন্দ হয়েছিল। বাড়িতে মা অমৃতার মতামত জানতে চেয়েছিলেন। প্রথমে অনিচ্ছা থাকলেই শেষটায় সব দিক বিবেচনা করে অমৃতা সম্মতি জানায়। বিয়ে একরকম পাকা। পাত্রপক্ষ দেরি করতে চায় না। তাঁরা বৈশাখ মাসেই একটা বিয়ের দিন স্থির করেছেন।

ফাল্গুন মাস। আম্রকুঞ্জ উৎসবে মেতে উঠেছে। “হোরিখেলা” কবিতাটির নৃত্যনাট্য হবে। তারই মহড়া চলছে। মহড়ার ফাঁকে চা-এর বিরতি। মৃন্ময় অমৃতাকে জিজ্ঞেস করলো, “তুই decide করে ফেলেছিস? একদম ফাইনাল? আরেকটু সময় নিলে পারতিস”।
অমৃতা বললো, “কি হবে সময় নিয়ে? কাউকে সময় দেওয়ার তো ব্যাপার নেই। নিজে নিজে সময় নিয়ে কী ভাববো। আমার যা পরিস্থিতি, বিয়ে একটা করে ফেলাই ভালো। করতেই যখন হবে…”

মৃন্ময় দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেলে বললো, “আর তোর গানের স্কুল?”
অমৃতা বললো,”গানের স্কুল তো পরেও করা যাবে।situation এই মুহূর্তে একটা বিয়ে demand করছে, বুঝলি।”

মৃন্ময় অবাক হয়ে বললো, “তুই এতো calculative!”
অমৃতা দৃঢ় ভাবে বললো, “পরিস্থিতি অনেক হিসেব নিকেশ করা শিখিয়ে দেয়।”

এক পশলা বসন্ত বাতাস এসে ওদের মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে গেল। বাতাসে মেশানো আম্রকুঞ্জের ভারী গন্ধ পরিস্থিতি পাল্টে দিল। হঠাৎ সেই পরিস্থিতি তৈরি হলো, যা সব হিসেবনিকেশ ওলট-পালট করে দেয়। মৃন্ময় ভায়োলিনে ছড় টানলো “কতবার ভেবেছিনু আপনা ভুলিয়া তোমারো চরণে দিব হৃদয় খুলিয়া।”

অমৃতা গলা মেলালো “ভেবেছিনু মনে মনে দূরে দূরে থাকি, চিরজন্ম সঙ্গোপনে পূজিব একাকী”।
ছড় থামলো। অমৃতা বললো, “মৃন্ময় বসন্ত আসে, আবার চলেও যায়। আজ এই আবহে দাঁড়িয়ে মন যা চাইছে, সেই চাওয়াটা কিন্তু ভবিষ্যতের প্রয়োজন মেটাবে না। তাই “কেহ জানিবে না মোর গোপন প্রণয়, কেহ জানিবে না মোর অশ্রু বারিচয়”। তুই নিজেকে আরো সময় দে। খুব বড় হ। সফল হ,এগিয়ে যা। শেষ বসন্ত উৎসবের স্মৃতিটুকু নিয়ে বাকি পথ আমি হেঁটে চলে যাব। বিদায়।

ডান-বাম-মধ্যপন্থা নয়, আমরা সোজাসুজি পথেই বিশ্বাসী। সংবাদমাধ্যমকে কুক্ষিগত করতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল লগ্নি করছে বিপুল অঙ্কের অর্থ। আর তার জেরে শিকেয় উঠেছে নির্ভীক, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা। বিপন্ন সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা। আমজনতাই আমাদের শক্তি। তাই আমরা চাই, আপনিও আমাদের পাশে থাকুন। আপনার সামান্য অনুদানও আমাদের চলার পথে সাহস জোগাতে পারে। kolkatanewstoday@gmail.com

সবাই যা পড়ছেন

করোনায় চিকিৎসকদের পরামর্শ, এই ফোন নম্বরগুলি অবশ্যই সঙ্গে রাখুন

দেশে করোনা সংক্রমণ দিন দিন ভয়াবহ চেহারা নিচ্ছে। ইতিমধ্যে চিকিৎসা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার মুখে।কোনওরকম সমস্যা হলে, ফোনে বিনাখরচে চিকিৎসকদের পরামর্শ নিন। এখানে...

আরও ভয়াবহ! দেশে একদিনে আক্রান্ত ২ লক্ষ ৬১ হাজার, মৃত ১৫০১

দেশে করোনা পরিস্থিতি ক্রমশ ভয়াবহ চেহারা নিচ্ছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রকের রিপোর্ট অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্তের সংখ্যা ২ লাখ ৬১ হাজার ৫০০। এ...

বাংলায় দৈনিক আক্রান্ত ৮ হাজারের পথে, মৃত ৩৪, তবু ভোটপ্রচারে লাগাম নেই

নির্বাচনী প্রচারের মধ্যেই রাজ্যে দৈনিক করোনা আক্রান্তের সংখ্যা এবার প্রায় ৮ হাজারের কাছাকাছি পৌঁছে গেল। সেইসঙ্গে সক্রিয় করোনা রোগীর সংখ্যা ৪৫ হাজার...

বাংলায় করোনা ছড়ালে, দায় নিতে হবে মোদী-বিজেপিকে : মমতা

দেশে করোনার ভয়াবহ পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে কাঠগড়ায় তুললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্রের নিষ্ক্রিয়তার জন্যই দেশে ব্যাপক হারে ছড়াচ্ছে করোনা।...

শীতলখুচিকাণ্ডে মমতার অডিও টেপ ফাঁস বিজেপির, ভুয়ো বলল তৃণমূল

পঞ্চম দফার ভোটের আগের দিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আরও একটা অডিও ক্লিপ প্রকাশ্যে আনল বিজেপি, যা নিয়ে ফের তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। যদিও এই...