এই বছর আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলায় রাত ১০টা পর্যন্ত মেট্রো পরিষেবা চালু থাকবে। তাই রেকর্ড ভিড়ের আশা করছে মেলার উদ্যোক্তা পাবলিশার্স অ্যান্ড বুক সেলার্স গিল্ড। গিল্ডের সাধারণ সম্পাদক ত্রিদিব কুমার চট্টোপাধ্যায় সোমবার (১২ জানুয়ারি) এক সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, মেট্রো রেলের মাধ্যমে হাওড়া থেকে এসপ্ল্যানেড হয়ে সরাসরি মেলা প্রাঙ্গনে পৌঁছনো সম্ভব হবে। তাই এবারে বইমেলায় বিভিন্ন জেলা থেকে অনেক বেশি সংখ্যক মানুষ আসবেন বলে ত্রিদিববাবুর আশা।
তিনি বলেন, “আমাদের অনুরোধে মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষ মেলার দিনগুলিতে রাত প্রায় ১০টা পর্যন্ত আরও বেশি সংখ্যক মেট্রো চালানোর এবং ছুটির দিনেও এই পরিষেবা চালু রাখতে সম্মত হয়েছেন।” তিনি জানান, এবারের বইমেলা প্রাঙ্গনে মেট্রোর একটি বিশেষ বুথ থাকবে, যেখান থেকে UPI-এর মাধ্যমে সরাসরি টিকিট কাটা যাবে।
কলকাতা বইমেলার সভাপতি সুধাংশু শেখর দে জানান, “মেলায় থাকছে ১০০০-এর বেশি স্টল। সরাসরি ও যৌথভাবে আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলায় অংশ নিচ্ছে প্রায় ২০টি দেশ। এ বছরের ফোকাল থিম কান্ট্রি আর্জেন্টিনা।” তিনি আরও জানান, ২২ জানুয়ারি ২০২৬ বিকেল ৪টেয় বইমেলার উদ্বোধন করবেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শ্রীমতী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সম্মানীয় অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন আর্জেন্টিনার বিশিষ্ট সাহিত্যিক গুস্তাবো কানসোব্রে এবং ভারতে নিযুক্ত আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত মারিয়ানো কাউসিনো।
এবারের আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলার আরও বিশেষ উল্লেখযোগ্য দিকগুলি হল:
১) সিনিয়র সিটিজেন দিবস ‘চিরতরুণ’ উদ্যাপিত হবে ৩০ জানুয়ারি। বইমেলায় শিশু দিবস উদ্যাপন হবে ১ ফেব্রুয়ারি।
২) ৯টি তোরণের মধ্যে দুটি হচ্ছে আর্জেন্টিনার স্থাপত্যর আদলে। কিছুদিন আগে যাঁরা প্রয়াত হয়েছেন, প্রফুল্ল রায় এবং প্রতুল মুখোপাধ্যায়ের নামে থাকছে দুটি তোরণ। সাহিত্যিক শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে একটি তোরণ থাকছে তাঁর নামাঙ্কিত। লিটল ম্যাগাজিন প্যাভিলিয়ন হচ্ছে কবি রাহুল পুরকায়স্থর নামে। জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে শিল্পী ময়ুখ চৌধুরীর নামে থাকবে বইমেলার শিশু মণ্ডপ।
৩) ভূপেন হাজারিকা এবং সলিল চৌধুরীর জন্মশতবর্ষ আলোচনাসভা ও সঙ্গীত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উদ্যাপিত হবে যথাক্রমে ২৬ ও ২৭ জানুয়ারি।
৪) আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলার অ্যাপের মাধ্যমে গুগল লোকেশন মারফত মেলার মধ্যে যে কোনো স্টল খুঁজে পাওয়ার সুবিধা থাকবে। এছাড়াও আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলা সরাসরি ভার্চুয়ালি দেখা যাবে আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া পেজ এবং ওয়েবসাইটের মাধ্যমে। এবারেও কলকাতা বইমেলার ডিজিটাল পার্টনার সিস্টার নিবেদিতা ইউনিভার্সিটি।
৫) খুব সহজেই কিউ আর কোড স্ক্যান করে মেলার ডিজিটাল ম্যাপ এবং অংশগ্রহণকারীদের তালিকা পেয়ে যাবেন। মেলার সব গেটে থাকবে এই কিউ আর কোড। এছাড়াও বরিষ্ঠদের জন্য থাকছে মুদ্রিত গ্রাউণ্ড ম্যাপ।
৬) বই কিনুন লাইব্রেরি জিতুন! এবারের মেলাতেও থাকবে প্রতিদিনের লটারি যেখানে ভাগ্যবান বিজেতারা পাবেন বুক গিফট কুপন।
৭) বইমেলার অন্যতম আকর্ষণ কলকাতা লিটারেচার ফেস্টিভ্যাল হবে ২৪ ও ২৫ জানুয়ারি ২০২৬।



