অর্থ বরাদ্দ নিয়ে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে দোষারোপ-পাল্টা দোষারোপের জেরে বেহাল অবস্থা রবীন্দ্র সরোবরের। দক্ষিণ কলকাতার ফুসফুস হিসেবে পরিচিত রবীন্দ্র সরোবরের গত কয়েক বছর ধরে কোনও অডিট হয়নি, যার ফলে মিলছে না কেন্দ্রের টাকা।
জাতীয় লেকের মর্যাদাপ্রাপ্ত সরোবরগুলির জন্য প্রতি বছর অর্থ বরাদ্দ করে থাকে কেন্দ্রীয় পরিবেশ, বন এবং জলবায়ু মন্ত্রক। এই অর্থ পেতে হলে, সংশ্লিষ্ট লেকের জীববৈচিত্র্যের সমীক্ষা এবং বিভিন্ন জায়গা থেকে পাওয়া অর্থ কোন খাতে খরচ হয়েছে, এই দুটির অডিট থাকা জরুরি।
সরোবরের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা সংস্থা কেএমডিএ-র যে পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ করা উচিত, তার থেকে অনেকটাই কম বরাদ্দ করা হয়। পরিবেশকর্মীদের বক্তব্য, এর জেরেই ক্রমশ খারাপ হচ্ছে সরোবরের হাল। দীর্ঘদিন ধরে তোলা সরবোরের পলি হয়নি। এর ফলে জলের গভীরতা কমে যাওয়ায় এই সরোবর স্নানের অযোগ্য হয়ে উঠেছে। মাসখানেক আগে সরোবরে সাঁতার কাটতে গিয়ে জলের নীচে থাকা আগাছায় পা আটকে গিয়ে এক কিশোরের মৃত্যু হয়।
২০০৩-এ ৭৩ একর জায়গা জুড়ে থাকা রবীন্দ্র সরোবরকে জাতীয় সরোবরের মর্যাদা দেওয়া হয়। এই সরোবরে ৭৫ প্রজাতির গাছ, ১৪টির বেশি প্রজাতির জলজ প্রাণি রয়েছে। ঠিকভাবে পরিচর্যা না হওয়ায় বহু গাছের ডালপালা শুকিয়ে যাচ্ছে। সেইসঙ্গে প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধ করতে না পারার কারণে বেড়ে চলেছে দূষণও। এর ফলে মারা যাচ্ছে মাছ-সহ অন্যান্য জলজ প্রাণিও।
পরিবেশ প্রযুক্তিবিদ কর্মী সৌমেন্দ্রমোহন ঘোষের মতে, “রবীন্দ্র সরোবরের হল জাতীয় সরোবর। এই ধরনের সরোবরের জন্য নির্দিষ্ট প্রকল্প থাকা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সহযোগিতা পাওয়ার জন্য যা করা দরকার, রাজ্য সরকারের তা করা উচিত।”
দীর্ঘদিন ধরেই রবীন্দ্র সরোবরের পরিবেশ রক্ষায় লড়াই করে আসছেন সুমিতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, “এই সরোবরের পলি বহু বছর ধরে তোলা হয়নি। গাছেরও ঠিকভাবে যত্ন নেওয়া হচ্ছে না।”
রাজ্যের নগরোন্নয়নমন্ত্রী এবং কেএমডিএ–র চেয়ারম্যান ফিরহাদ হাকিম বলেন, “রবীন্দ্র সরোবরের উন্নয়নের জন্য কেন্দ্রের কাছ থেকে বহুবার টাকা চেয়েও পাওয়া যায়নি। তবে, সরোবরের পরিবেক্ষ রক্ষায় কোনও ঘাটতি রাখা হয় না।”