ইরানের সঙ্গে আমেরিকা ও ইজরায়েলের যুদ্ধকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেল ও এলপিজি-র সঙ্কট দেখা দিয়েছে। ভারতে তেল নিয়ে এখনও পর্যন্ত বড়সড় সমস্যা তৈরি না হলেও, রান্নার গ্যাসকে ঘিরে হাহাকার দেখা দিয়েছে।
এর মধ্যেই বুধবার সন্ধ্যায় এক সাংবাদিক বৈঠকে দেশের পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের যৌথ সচিব সুজাতা শর্মা জানিয়েছেন, এলপিজি উৎপাদন বাড়ানো হয়েছে। দেশে আসছে আরও দু’টি এলপিজি ভর্তি কারগো।পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের যৌথ সচিব সুজাতা শর্মা জানিয়েছেন, “এলপিজি সিলিন্ডার বুকিংয়ের ক্ষেত্রে চিন্তার কিছু নেই। বুকিংয়ের আড়াই দিনের মধ্যেই গ্যাস পৌঁছে যাবে। পাশাপাশি, ভারতে অশোধিত তেলের সরবরাহও বজায় রয়েছে।”
ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধের জেরে এখন বন্ধ রয়েছে হরমুজ প্রণালী। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক জানিয়েছে, হরমুজের পরিবর্তে বিকল্প পথে অপরিশোধিত তেল সংগ্রহের কাজ চলছে।
সরকারি তৎপরতার কারণে এলপিজি-র উৎপাদন বেড়ে গিয়েছে ২৫ শতাংশ। মন্ত্রকের যৌথ সচিব বলেন, “তথ্যগত অসঙ্গতির জেরে কিছু জায়গায় মানুষ অযথা গ্যাস বুকিং করছেন। কিন্তু উদ্বেগের কারণ নেই। গৃহস্থের জন্য ডেলিভারি প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রয়েছে।”
এই আতঙ্কের কারণে একাধিক রাজ্যে এখন কালোবাজারি ও মজুতদারি বাড়ছে। প্রতিটি রাজ্যকে সেই গ্যাস ও জ্বালানির কালোবাজারি রুখতে পদক্ষেপ করতে বলেছে পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক। গোটা বিশ্বের ৫৫ শতাংশ অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ নির্ভর করে থাকে হরমুজ প্রণালির উপর। ভারতে আসা ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল আসে এই পথেই। যদিও পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের যৌথ সচিব জানিয়েছেন, “এই পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে যে বিরাট বিপদ এগিয়ে এসেছে এমনটা নয়। ভারতের দৈনিক ৫৫ লক্ষ ব্যারল অপরিশোধিত তেলের প্রয়োজন। আমরা হরমুজের পরিবর্তে থাকা বিকল্প পথগুলি ব্যবহার করে যথেষ্ট তেল মজুত করেছি।”



