হোম আন্তর্জাতিক এ বছরেই ভয়াবহ মহামারীতে দুনিয়া ধ্বংস? চর্চায় নস্ট্রাদামুসের ভবিষ্যদ্বাণী

এ বছরেই ভয়াবহ মহামারীতে দুনিয়া ধ্বংস? চর্চায় নস্ট্রাদামুসের ভবিষ্যদ্বাণী

হীরক কর : ভবিষ্যদ্বাণীর কথা আমরা সকলেই জানি। নানান জ্যোতিষীর কাছ থেকে নিজের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে জানতে আগ্রহী আমরা সবাই। কয়েকজন জ্যোতিষী শুধু মানুষের ভবিষ্যতই নয়,‌ আগামী কয়েক শ’ বছরের পৃথিবীর ভবিষ্যৎ-ও বলতে পারেন। মজা হচ্ছে যখন তাঁরা আগামী শতাব্দীর পর শতাব্দীর ভবিষ্যৎ বলে গেছেন, তখন এই বিশ্বে কয়েকটি দেশের জন্মই তো হয়নি। ফলে এই ভবিষ্যৎ বলা কি সম্ভব? সেই ভবিষ্যৎবাণী ফলাও কি সম্ভব?

আজ এমনই এক ভবিষ্যৎ বক্তার কথা বলব, যাঁকে আমরা চিনি নস্ট্রাদামুস নামে। তিনি হাজার হাজার  ভবিষ্যদ্বাণী করে গেছেন। তাঁর বই পৃথিবী জুড়ে হটকেকের মতো বিকোয়। তাঁর প্রথম প্রকাশনা এক দিনেই শেষ হয়ে গিয়েছিল। ৪৭৫ বছর আগে তিনি এই সব বলে গেছেন। ভবিষ্যতে তাঁর কথাগুলো মিলে যাবে, সেটা আদৌ কি তিনি জানতেন ?

তাঁর আসল নাম ছিল মাইকেল ডি নাটাডাম। পরে নাম নেন নস্ট্রাদামুস। ১৫০৩ সালে তাঁর জন্ম ফ্রান্সের এক ধনী পরিবারে। তিনি চিকিৎসাশাস্ত্র নিয়ে পড়াশোনা করেন। ‌ পরে চিকিৎসক হন।‌ এই পর্যন্ত ঠিক ছিল। এই সময় ফ্রান্সে প্লেগ মহামারীর আকার নেয়। ওই সময় তিনি ডাক্তার হিসেবে বহু মানুষকে চিকিৎসা করেন। এবং তাঁদের বাঁচান।

চারদিকে লোকের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে, নস্ট্রাদামুসের হাতে এক অদ্ভুত জাদু আছে। মানুষ তাঁকে দেবতা ভাবতে শুরু করেন। এক ধনী পরিবারের সুন্দরী মেয়ের সঙ্গে নস্ট্রাদামুসের বিয়ে হয়। কিছুদিন পরে প্লেগ আবার ফিরে আসে। এইবার ওই রোগে তাঁর স্ত্রী এবং সন্তানের মৃত্যু হয়। তখন সাধারণ মানুষের মনে সন্দেহ দেখা দেয়। তাঁদের মনে হয়, তিনি যদি এত ভালোই ভবিষ্যৎবাণী করতে পারেন, তবে কেন নিজের বউ এবং বাচ্চাকে বাঁচাতে পারলেন না। মানুষের মনে তাঁর প্রতি বিশ্বাস ক্রমশ কমতে থাকে। এই সময়ে কিছু ধার্মিক ব্যাপারে তিনি মন্তব্য করায় মানুষ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। তাঁকে ফ্রান্স ছাড়তে হয়।

১৫৪৪-এ তিনি ফের ফ্রান্সে ফিরে আসেন। দ্বিতীয়বার বিয়ে করেন। চিকিৎসাও শুরু করেন। তিনি ভবিষ্যৎবাণী শুরু করেন। রাতে একলা বসতেন। একটা বড় ঘটে জল রাখতেন। ওই জল থেকে কিছু একটা বের হতো। তাঁর মগজে অদ্ভুত অদ্ভুত জিনিস ঘুরে বেড়াতো। আর সঙ্গে সঙ্গে সেগুলো তিনি লিখে ফেলতেন। ওইগুলোই হয়ে যেত ভবিষ্যৎবাণী।

কাকতালীয়ভাবে সেগুলো সত্যি হতে থাকে। কিন্তু সেই সব ছিলো বড্ড ছোট আকারের। ধীরে ধীরে যখন ওনার মনে হয় তাঁর সব কথাই সত্যে পরিণত হচ্ছে, তখন ১৫৫৫ সাল থেকে  বার্ষিক ভবিষ্যদ্বাণী করা শুরু করেন।

এরপর নস্ট্রাদামুসকে ফ্রেঞ্চ বাবা বানিয়ে দেয় জনসাধারণ। আজ পৌনে ৫০০ বছর পরেও পৃথিবী জুড়ে তাকে নিয়ে আলোচনা হয়। তাঁর এক ভবিষ্যদ্বাণী, ২০২১-এ এক ধূমকেতু নেমে আসবে, পৃথিবীর সঙ্গে যার সংঘর্ষ অনিবার্য। হিরোসীমা-নাগাসাকিতে যে পরমাণু বোমা পড়েছিল, তার থেকেও বেশি ক্ষতিকর হবে। এরপরে পৃথিবী প্রায় ধ্বংস হয়ে যাবে। কিন্তু আদপে কি সেটা হবে ? একজন মানুষ কি সত্যিই আগামী যুগের পৃথিবী নিয়ে ভবিষ্যৎবাণী করতে পারেন ?

নস্ট্রাদামুস একটি বই লেখেন। রহস্যময় ‘লেস প্রফেটিস’-বইটি  হেঁয়ালি ভাষায় লেখা তাঁর বিভিন্ন ছড়া। বিশ্বযুদ্ধ থেকে অ্যাটম বোমা, হিটলারের উত্থান থেকে কেনেডির হত্যা, এমনকি ৯/১১ র সন্ত্রাসবাদী হামলা, সবই বিভিন্ন ইঙ্গিতময় শব্দে স্থান পেয়েছে কবিতাগুলির ছত্রে ছত্রে। আধুনিক বিজ্ঞানমনস্ক অবিশ্বাসীদের যুক্তির পাঁচিলে বারবার আঘাত হেনেছে যে বইয়ের পাতা, সেই বইয়ের পাতা উল্টেই এ বার আরও বড় প্রলয়ের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে এই  বছরের জন্য। 

‘লেস প্রফেটিস’ নামের এই  ইংরেজি বইতে ভবিষ্যৎবাণীর অনেক অংশই পরবর্তী কালে মিলে গিয়েছে। ১৯৩০-এর দশকে জার্মানিতে এক নেতার উত্থানের কথা, যাঁকে আজ আমরা সকলেই হিটলার নামে চিনি। সেই বই পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষায় ছাপা হয়েছে। এই বইতেই তাঁর ভবিষ্যৎ বাণী আছে।

৬,৩৩৮টি ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন নস্ট্রাদামুস। প্রথমবার এই বইটি ছাপা হয় ১৫৫৫ সালে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, নস্ট্রাদামুসের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ ভবিষ্যৎবাণী সত্যি বলে প্রমাণিত হয়েছে। তাঁর ভবিষ্যৎ বাণী বইটিও আজব। ‌ আসলে এই বইতে কবিতার আকারে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছে। চার চার লাইনের ছন্দে এই কবিতাগুলো লেখা হয়েছে। এই কবিতা গুলোতেই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ বাণী লুকিয়ে আছে। এই কবিতা পড়েই বিশেষজ্ঞরা বুঝে যান ওই চার লাইনের মধ্যে কি ভবিষ্যদ্বাণী করা আছে।

নস্ত্রাদামুস নিজের সম্বন্ধেই ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন। ঠিক ২৪ ঘন্টা আগে বলেছিলেন, পরের দিন সন্ধের মধ্যে তার মৃত্যু হবে। সেইমতো পরের দিনই তাঁর মৃত্যু হয়।

১৫৫৫ থেকে ভবিষ্যদ্বাণী করা শুরু করলেও, তাঁর জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে। কেননা তিনি বার্ষিক ভবিষ্যৎবাণী করতেন। আর সেগুলো পরের বছর থেকে ফলতে শুরু করতো। এই কথা ফ্রান্সের রানি ক্যাথলিনের কানে যায়। তিনি রাজমহলে নস্ট্রাদামুসকে ডেকে পাঠান। ‌ নিজের সন্তানদের জন্মকুণ্ডলী দেখান। এরপর থেকে তিনি রাজ পরিবারের সঙ্গে থাকতে শুরু করেন।

গোটা পৃথিবীতে মহামারী, খরা, বন্যা, বিশ্বযুদ্ধ, বড় বড় রাজনৈতিক নেতার মৃত্যু, সব নিয়েই ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন নস্ট্রাদামুস। ২০২০ সালের করোনার দাপট নিয়ে ভবিষ্যৎবাণী নস্ট্রাদামুস করে রেখেছিলেন। এমন এক রোগ আসবে, যা পুরো পৃথিবীকে নাস্তানাবুদ করে ছেড়ে দেবে। এবার আসছে ২০২১-এর ভবিষ্যৎ বাণী। আগামী মে মাসে পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে। এ ধরনের ভবিষ্যৎবাণী আগেও তিনি করেছিলেন। যা কখনোই সত্যি হয়নি। তাঁর ওই বইতে ৩০৫৭ সাল পর্যন্ত পৃথিবীর নানা ঘটনার ভবিষ্যৎবাণী করে গেছেন তিনি।

১৫৪৮-এ তাঁর একটি ভবিষ্যৎবাণীর জন্য সমস্ত বিশ্বের নজর চলে গিয়েছিল নস্ট্রাদামুসের দিকে। উনি এক যুবককে দেখে বলেছিলেন, এই ছেলেটি হবে ভাটিকান সিটির পোপ। তখন এটা নিয়ে কেউ চিন্তাই করতে পারত না। কারণ ওই যুবক কোনভাবেই ধার্মিক মনোভাবের  সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। কিন্তু ওই যুবক ফিলিপ পরবর্তীকালে পোপ হন। ফ্রান্সের মহারাজ দ্বিতীয় হেনরির মৃত্যুর ভবিষ্যৎবাণী উনি ১৫৫৯-এ করেছিলেন। তাঁর বলা মহারাজের মৃত্যুরূঊ তারিখ মিলে গিয়েছিল। হিটলারের জন্যও একটা ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন। পৃথিবীতে এক ব্যক্তি জন্মাবেন যিনি ডিক্টেটর হবেন। তাঁর স্বৈরাচারী শাসনে পৃথিবীর শুধু যুদ্ধই দেখবে। হিটলারের ব্যাপারে নস্ট্রাদামুসের ভবিষ্যৎবাণী মিলে গিয়েছিল। মিলে গিয়েছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ সম্পর্কে ভবিষ্যৎবাণী।

জাপানে অ্যাটমবোমা পড়বে, সেটাও তিনি বলে গিয়েছিলেন। ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, মানুষ চাঁদে পা রাখবে। আমেরিকান প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি যে খুন হবেন, সেই ভবিষ্যদ্বাণী নস্ট্রাদামুস তাঁর বইতে লিখে গিয়েছিলেন। ভূমিকম্প নিয়ে তাঁর করা ভবিষ্যদ্বাণীগুলো সত্যি প্রমাণিত হয়েছিল।

ভারতের কথা ভাবলে ইন্দিরা গান্ধী হত্যার ভবিষ্যদ্বাণী করে গিয়েছিলেন নস্ট্রাদামুস। তাঁর লেখা চার লাইনের কবিতায় বলা ছিল, ক্ষমতার বাইরে যে মহিলা চলে গিয়েছিলেন। তিনি আবার ক্ষমতায় ফিরবেন। কিন্তু  শত্রুরা তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করবে। তিন বছর বিভিন্ন উন্নয়নের কাজ করার পর ৭০ বছর বয়সের মধ্যে তাঁর মৃত্যু হবে।

বাস্তবে কি ঘটেছিল ? জরুরি অবস্থার পরে ১৯৭৭ সালের লোকসভা নির্বাচনে ইন্দ্রিরা গান্ধী পরাজিত হন। জনতা পার্টির সরকার হয়। কিন্তু তিন বছর পরে ১৯৮০ সালে ইন্দিরা গান্ধী ক্ষমতায় ফিরে আসেন। অমৃতসরের স্বর্ণমন্দিরে অপারেশন ব্লু স্টার হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাঁকে হত্যা করে তাঁর শিখ নিরাপত্তারক্ষীরাই। যখন ইন্দিরা গান্ধীর মৃত্যু হয়, তখন তাঁর বয়স ছিল ৬৬ বছরের আশেপাশে।

নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু সম্পর্কেও ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন তিনি। বলেছিলেন, ভারতীয় একজন সম্রাটের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করবেন, নিজের দেশের স্বাধীনতার জন্য সবকিছুই করবেন তিনি। শাসকের চোখের সামনে একটা কেল্লা স্বাধীন হয়ে যাবে। ওই  নেতা তাঁর দেশ থেকে দূরে একটি ডুবোজাহাজে লুকিয়ে চলে যাবেন। অন্য ভাষা এবং সরকারি সাহায্যে তাঁর নিজের দেশের লোকেদের স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখাবেন । তিনি এক যুদ্ধে অংশ নেবেন যাতে বহু লোক মারা যাবে।

কিন্তু বাস্তবে হয়েছিল কি? সুভাষচন্দ্র বসু নিজের দেশ ভারত থেকে জাপানে গিয়ে পৌঁছেছিলেন। ফের জার্মানি যান। সেখানকার শাসকদের মদত নেন। দেশের মানুষকে স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখান। ‌ নিজের ফৌজ বানান ‘আজাদ হিন্দ ফৌজ’। জাপানি সৈনিকদের সঙ্গে তাঁর আজাদ হিন্দ ফৌজ বার্মার রেঙ্গুন হয়ে ১৯৪৪-এর ১৮ মার্চ ভারতীয় ভূখণ্ডে কোহিমা ও ইম্ফলে পৌঁছয়। ইংরেজদের সঙ্গে লড়াই হয়। শেষ পর্যন্ত তাঁরা পরাজিত হন। তাঁদের পিছু হটতে হয় ‌। নেতাজির তৈরি করা এই সেনাবাহিনী ১৯৪৩ থেকে ৪৫ সাল পর্যন্ত ইংরেজদের সঙ্গে যুদ্ধ করে। শেষ পর্যন্ত ভারত স্বাধীন হয়।

নস্ট্রাদামুস তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধেরও ভবিষ্যদ্বাণী করে গেছেন। বলে গেছেন, তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হবে দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়া থেকে। সংযুক্ত সেনা অভিযান শুরু করবে। ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক আমরা সবাই জানি। চিনের আগ্রাসন তো দেখাই যাচ্ছে। তাহলে কি নস্ট্রাদামুসের ভবিষ্যদ্বাণী মিলে যাবে ? ইদানীংকালে পাকিস্তান এবং চিন সীমান্তের উত্তেজনা দেখে মনে হয় এমনটা হতেই পারে।

যদিও তার অনেক কথাই মেলেনি। ‌ তিনি বলেছিলেন, ১৯৯৯-এ পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে। কিন্তু হয়নি। হলে আপনি এই লেখা পড়তে পারতেন না। এরপরে ২০১২ সালে তিনি মহাপ্রলয়ের কথা বলেছিলেন। বলেছিলেন, সূর্যের ওপর ভূমিকম্পের ফলে রেডিয়েশনের জন্য একটা তুফান উঠবে। ফলে পৃথিবীর মাটি এতটাই গরম করে দেবে যে, সবকিছু গলে যাবে। হিমালয়ের বরফ গলে মহা বন্যার আকার নেবে। পৃথিবীর জলের তলায় চলে যাবে। কিন্তু এই ভবিষ্যদ্বাণী সত্যি হয়নি। ‌ হলে এই লেখা লিখতে পারতাম না।

২০২১ সালে দুর্ভিক্ষ, ভূমিকম্প, বিভিন্ন রোগ এবং মহামারীর দাপট দেখা যাবে বলে জানিয়ে গেছেন নস্ট্রাদামুস। বলা হয়েছে ২০২১ সালে এমন একটি দুর্ভিক্ষ আসবে, যা বিশ্ব আগে কখনও মুখোমুখি হয়নি। বিশ্বের জনসংখ্যার একটি বড় অংশ এই ধ্বংসযজ্ঞ থেকে পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হবে না। সম্পদের জন্য বিশ্বে লড়াই শুরু হবে এবং মানুষ পালিয়ে যাবে।

এক্ষেত্রে ২০২০ সালে করোনার ভাইরাসের মহামারীকে এর শুরু হিসাবে বিবেচনা করা যেতে পারে। নস্ট্রাদামুস ২০২০ সালকে মহামারীর বছর হিসাবে বর্ণনা করেছিলেন। ২০২০ সালে করোনার ভাইরাসের অতিমারীর এক ভয়াবহ রূপ দেখেছে গোটা বিশ্ব। এমতাবস্থায় ২০২১-এ তাঁর পূর্বাভাস উপেক্ষা করা যায় না। ২০২১-এর আগেই ব্রিটেনে করোনার ভাইরাসের নতুন স্ট্রেন পাওয়ার পরে, ভয়ের মেঘ পুরো বিশ্ব জুড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

আগামী দিন সম্পর্কে নস্ট্রাদামুস বলেছেন পৃথিবীর সঙ্গে ধূমকেতুর বিরাট ধাক্কা লাগবে। আর সেটা হবে ২০২১ সালের মে মাসে। ২০২১ সালে পৃথিবীতে ধূমকেতু আঘাত করবে । নস্ট্রাদামুসের আরও ভবিষ্যদ্বাণী ধূমকেতু পৃথিবীতে আঘাত হানবে, যা ভূমিকম্প এবং অনেক প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণ ঘটবে। পৃথিবীর কক্ষপথে প্রবেশের পরে এই গ্রহাণু মারাত্মক আকার নেবে। আকাশে এই দৃশ্যটি ‘গ্রেট ফায়ার’ এর মতো হবে।

এই ধাক্কা ভয়াবহ ভূমিকম্প নিয়ে আসবে। তাতে দুনিয়া প্রায় শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু এমনটা কি হবে ? মে মাস তো ঘাড়ের গোড়ায় নিঃশ্বাস ফেলছে। আশ্চর্যের বিষয়, নাসার বিজ্ঞানীরাও ইতিমধ্যে একটি বিশাল ধূমকেতুকে পৃথিবীতে আঘাত করার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। বিজ্ঞানীরা বলেছেন যে, এই গ্রহাণুটির শক্তি ১৯৪৫ সালে হিরোশিমায় ফেলে আসা পারমাণবিক বোমার চেয়ে ১৫ গুণ বেশি হবে।

২০২১ সালে জোম্বি মানুষ হয়ে উঠবে। একজন রাশিয়ান বিজ্ঞানী এমন জৈবিক অস্ত্র এবং ভাইরাস বিকাশ করবেন, যা মানুষকে জোম্বি করে তুলবে। এভাবে মানুষের প্রজাতি ধ্বংস হয়ে যাবে। করোনার ভাইরাসজনিত গভীর সমস্যার উদাহরণ আমাদের সামনে উঠে এসেছে৷ অনেক বিশেষজ্ঞের বিশ্বাস, করোনার ভাইরাস চিনের একটি ল্যাবে প্রস্তুত করা হয়েছিল। নস্ট্রাদামুসের মতে, রাশিয়া একটি নতুন ভাইরাস তৈরি করে জনজাতি ধ্বংস করবে।

১ জুলাই ১৫৬৬-র সন্ধেবেলা নস্ট্রাদামুস একটি ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন। বলেছিলেন, আগামীকাল সূর্য ওঠার সময় আমি জীবিত থাকব না। সকলকে অবাক করে ২ জুলাই ১৫৬৬ সালে নস্ট্রাদামুসের মৃত্যু হয়। হঠাৎ করে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয়।

৪৭৫ বছর হয়ে গেছে পৃথিবী এখনও নস্ট্রাদামুসের ওই বই ‘লেস প্রফেটিস’ ছাপে। পড়ে । চার লাইনের কবিতা পড়ে উদ্ধার করার চেষ্টা করে আগামী বিশ্বের ভবিষ্যৎ। এই কম্পিউটার সমৃদ্ধ আধুনিক যুগেও নস্ট্রাদামুসের ভবিষ্যৎ বাণী ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ মিলছে দেখলে, লোকেরা সেটা সিরিয়াসলিই নেয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনো পর্যন্ত নস্ট্রাদামুসের ৮০০ ভবিষ্যৎ বাণী সত্য বলে প্রমাণিত হয়েছে। ৩০৫৭ সাল পর্যন্ত আর কি কি ভবিষ্যদ্বাণী মেলে, সেই দিকেই তাকিয়ে বিশেষজ্ঞরা।

যদিও বিজ্ঞানীরা এই ভবিষ্যদ্বাণীগুলিকে খুব বেশি গুরুত্ব দেন না। তবে যারা নস্ট্রাদামুসের বিষয়ে অনেক পড়াশোনা করেন ও বিশ্বাস করেন, তাঁরা মনে করছেন, চলতি বছরটি বিপর্যয় হিসাবে প্রমাণিত হতে পারে। এবার এই দাবিগুলি কতটা সত্যি তার উত্তর দেবে একমাত্র ২০২১।

ডান-বাম-মধ্যপন্থা নয়, আমরা সোজাসুজি পথেই বিশ্বাসী। সংবাদমাধ্যমকে কুক্ষিগত করতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল লগ্নি করছে বিপুল অঙ্কের অর্থ। আর তার জেরে শিকেয় উঠেছে নির্ভীক, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা। বিপন্ন সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা। আমজনতাই আমাদের শক্তি। তাই আমরা চাই, আপনিও আমাদের পাশে থাকুন। আপনার সামান্য অনুদানও আমাদের চলার পথে সাহস জোগাতে পারে। kolkatanewstoday@gmail.com

সবাই যা পড়ছেন

করোনায় চিকিৎসকদের পরামর্শ, এই ফোন নম্বরগুলি অবশ্যই সঙ্গে রাখুন

দেশে করোনা সংক্রমণ দিন দিন ভয়াবহ চেহারা নিচ্ছে। ইতিমধ্যে চিকিৎসা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার মুখে।কোনওরকম সমস্যা হলে, ফোনে বিনাখরচে চিকিৎসকদের পরামর্শ নিন। এখানে...

আরও ভয়াবহ! দেশে একদিনে আক্রান্ত ২ লক্ষ ৬১ হাজার, মৃত ১৫০১

দেশে করোনা পরিস্থিতি ক্রমশ ভয়াবহ চেহারা নিচ্ছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রকের রিপোর্ট অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্তের সংখ্যা ২ লাখ ৬১ হাজার ৫০০। এ...

বাংলায় দৈনিক আক্রান্ত ৮ হাজারের পথে, মৃত ৩৪, তবু ভোটপ্রচারে লাগাম নেই

নির্বাচনী প্রচারের মধ্যেই রাজ্যে দৈনিক করোনা আক্রান্তের সংখ্যা এবার প্রায় ৮ হাজারের কাছাকাছি পৌঁছে গেল। সেইসঙ্গে সক্রিয় করোনা রোগীর সংখ্যা ৪৫ হাজার...

বাংলায় করোনা ছড়ালে, দায় নিতে হবে মোদী-বিজেপিকে : মমতা

দেশে করোনার ভয়াবহ পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে কাঠগড়ায় তুললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্রের নিষ্ক্রিয়তার জন্যই দেশে ব্যাপক হারে ছড়াচ্ছে করোনা।...

শীতলখুচিকাণ্ডে মমতার অডিও টেপ ফাঁস বিজেপির, ভুয়ো বলল তৃণমূল

পঞ্চম দফার ভোটের আগের দিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আরও একটা অডিও ক্লিপ প্রকাশ্যে আনল বিজেপি, যা নিয়ে ফের তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। যদিও এই...