হোমসাহিত্য-সংস্কৃতিএমন জনসংযোগ আধিকারিক দেখিনি, পেয়েছি তাঁর সান্নিধ্য, স্নেহ

এমন জনসংযোগ আধিকারিক দেখিনি, পেয়েছি তাঁর সান্নিধ্য, স্নেহ

এমন জনসংযোগ আধিকারিক দেখিনি, পেয়েছি তাঁর সান্নিধ্য, স্নেহ

বিশ্বরূপ মুখোপাধ্যায়
সাংবাদিক জীবনের সূচনায় আমার দেখা প্রথম ব্যুরোক্র্যাট হলেন রথীন সেনগুপ্ত। আর যখন সাংবাদিকতা ছেড়ে জনসংযোগ পেশায় যোগ দিলাম শ’ ওয়ালেস কোম্পানিতে, সেখানে পাঁচ বছর চাকরি করার পর সদ্য প্রয়াত প্রবাদপ্রতিম শেষ মহিকান মণিশঙ্কর মুখোপাধ্যায় আমাকে নিয়ে এলেন ক্যালকাটা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কর্পোরেশন তথা সিইএসসি চৌরঙ্গীর ওপর ভিক্টোরিয়া হাউসে। আর তিনি আমার জনসংযোগ পেশায় দেখা দ্বিতীয় ব্যুরোক্র্যাট, যিনি ইংরেজি এবং বাংলা সমান দক্ষতার সঙ্গে লিখতে পারতেন।

যিনি জানতেন কী করে মানুষ তথা পাবলিকের মন জয় করতে হয়। আর এইটা আমি ওনার পায়ের কাছে বসে শেখার চেষ্টা করেছি। যখন উনি আমাকে শ’ওয়ালেস থেকে সিইএসসি-তে নিয়ে এলেন। পরিষ্কার বলেছিলাম সিইএসসি আমার জায়গা নয়, সিইএসসি নিয়ে আমার মোহ নেই , শ’ওয়ালেস আমাকে পর্যাপ্ত দিয়েছে। কিন্তু আপনার সঙ্গে কাজ করতে পারব। এইটা আমার চাওয়া, এইটা আমার মোহ এবং সেই সময় প্রায় সব কাগজেই এইটা বেরিয়েছিল।

আমি খুব সুস্পষ্টভাবে বলেছিলাম। আমার কাছে সবকিছু আছে। যত্ন করে রেখে দিয়েছি। তো আমার সৌভাগ্য খুব সম্ভবত আমি যদি ভুল না করে থাকি, এমন কোনও জনসংযোগ আধিকারিক নেই। সদ্যপ্রয়াত গোপীনাথ ঘোষ, অশোক মুখোপাধ্যায়, আদিত্য ভট্টাচার্য থেকে শুরু করে। বুড়োশিব দাশগুপ্ত ওর সঙ্গে কাজ করেছেন। তাঁরা খুব বেশিদিন কাজ করতে পারেননি। কারণ আমার মধ্যে কোন ইগো ছিল না। তাঁদের মধ্যে ইগো ছিল। তাই তাঁরা কাজ করতে পারেননি। জলিমোহন কাউল, অদিতি শ্যাম, মণিশঙ্কর মুখোপাধ্যায়, এরা ভারতবর্ষের জনসংযোগে প্রবাদপ্রতিম। উনি সাহিত্যিক অন্য বিষয়।

আমি দুজন সাহিত্যিকের স্নেহ পেয়েছি। একজন এখনও জীবিত, আমাদের সৌভাগ্য রাস্কিন বন্ড, তিনি থাকেন মুসৌরিতে ভিক্টর ব্যানার্জির বাড়ির পাশে। ফি বছর উনি কলকাতায় আসেন, ওঁর নতুন ব‌ইয়ের উদ্বোধনে, পার্ক স্ট্রিটে অক্সফোর্ড বুক স্টোরে। আর একটা ছোট্ট মেসেজ পাই। আসছি, এসো কিন্তু। মণিশংকরবাবুর একটা করে বই বের হতো। ফোন করে বলতেন আরে তোমার তো অনেক বই জমে গেছে আমার কাছে। সত্যিই যাওয়া হয়নি। সাহিত্য পরিষদের অনুষ্ঠানের দিন দেখলাম উনি প্যাক করে রেখেছেন বেশ কিছু ব‌ই। বললাম , আজ নে‌ওয়া মুশকিল, অনেকে আছেন। তুমি আমাকে ফোন করে আসবে বলছো তো! দাদা অবশ্যই ফোন করে আসব।

ওর ছোট মেয়ে তনয়া ছিল সেদিন আর কাজের ওই ভদ্র মেয়েটি ছিলেন। আমি বললাম নিশ্চয়ই আসব। এই দুঃখটা থেকে গেল কিন্তু আমার পরম পরিতৃপ্তি, বিশ্বাস করুন বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে আমি চেয়েছিলাম সম্মান দেওয়া হোক। মাননীয় সভাপতি এবং সম্পাদক মেনে নিয়ে সেই সম্মানটা তাঁকে দিতে পারা গেছে। আমি কৃতজ্ঞ তাঁদের কাছে এবং বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের কাছে।

(বিশ্বরূপ মুখোপাধ্যায় বর্ষীয়ান সাংবাদিক ও জনসংযোগ বিশেষজ্ঞ)

spot_img
spot_img

সবাই যা পড়ছেন

spot_img