কুম্ভমেলা থেকে শিক্ষা নিয়ে গঙ্গাসাগর মেলায় ভিড় সামাল দিতে একগুচ্ছ ব্যবস্থা নিয়েছে পূর্ব রেলের শিয়ালদহ ডিভিশন। আগামী ৯ তারিখ থেকে শুরু হচ্ছে এবারের গঙ্গাসাগর মেলা। শুক্রবার এলাকা পরিদর্শন করেন শিয়ালদহের ডিআরএম রাজীব সাক্সেনা। তিনি জানান, শিয়ালদহ থেকে নামখানা, কাকদ্বীপ, লক্ষ্মীকান্তপুর পর্যন্ত মোট ১০টি ইএমইউ এবং ২৩ জোড়া ‘মেলা স্পেশাল ট্রেন’ চালানো হবে। এই ট্রেনগুলি মোট ৭ দিন ধরে চলবে। গত বছর গঙ্গাসাগর মেলায় মোট ৬ দিন বাড়তি ট্রেন চালানো হয়েছিল। কিন্তু এবছর পুণ্যার্থীদের সুবিধার্থে ৭ দিনই চলবে অতিরিক্ত বিশেষ ট্রেন।
বিশেষ ট্রেন:
১০ থেকে ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত একগুচ্ছ বিশেষ লোকাল ট্রেন চালানো হবে। ২০২৫ সালে বিশেষ ট্রেনের সংখ্যা ছিল ৭২। ২০২৬ সালে তা হয়েছে ১২৬টি।
নামখানা এবং কাকদ্বীপ থেকে শিয়ালদহ ও কলকাতা স্টেশনের দিকে ৫৬টি এবং উল্টোদিকে ৭০টি স্পেশাল ট্রেন চলবে।
শিয়ালদহ থেকে নামখানার দিকে স্পেশাল ট্রেন:
রাত ১২:০১, ০১:২৩, ০২:৫৫
ভোর ০৬:১৫
দুপুর ০২:৪০
কলকাতা স্টেশন নামখানার দিকে স্পেশাল ট্রেন:
সকাল ০৭:৩৫, ০৮:২৪ এবং রাত ০৯:৩০
নামখানা থেকে শিয়ালদহের দিকে স্পেশাল ট্রেন:
রাত ১২:০৭, ০১:০৬, ০১:২৫, ০২:৫২
সকাল ০৯:১০, ১১:১৮ এবং সন্ধ্যা ০৬:৩৫
রাত ১০টা ১০-এর নামখানা থেকে ছাড়বে ট্রেন
কাকদ্বীপ থেকে শিয়ালদহের স্পেশাল ট্রেন: দুপুর ২:১৬
এ ছাড়া ওই রুটে আরও একাধিক ট্রেন চলবে।
রানাঘাট-গেদে শাখায় অতিরিক্ত ৩ জোড়া (৬টি) নতুন ট্রেন চালানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
এই বিশেষ ট্রেনগুলি সব স্টেশনে দাঁড়াবে না। মূলত বালিগঞ্জ, সোনারপুর, বারুইপুর, লক্ষ্মীকান্তপুর,নিশ্চিন্দপুর, কাকদ্বীপ এবং নামখানা স্টেশনে থামবে।
কলকাতা স্টেশন থেকে ছাড়া স্পেশাল ট্রেনগুলি কলকাতা এবং মাঝেরহাট স্টেশনের মধ্যবর্তী সমস্ত স্টেশনে থামবে।
ভিড় সামলাতে এবং দুর্ঘটনা এড়াতে রেলের পক্ষ থেকে হোল্ডিং এরিয়া বা প্রতীক্ষালয় ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।
শিয়ালদহ এবং কাকদ্বীপ স্টেশনে একাধিক যাত্রী প্রতীক্ষালয় তৈরি করা হয়েছে। পানীয় জল, শৌচালয়, বসার জায়গা এবং প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকবে।
শিয়ালদহ স্টেশনের ১৫ ও ১৬ নম্বর প্ল্যাটফর্ম শুধুমাত্র কাকদ্বীপ ও নামখানা ট্রেনগুলি ছাড়বে।
প্রতি ট্রেনে ২ হাজার থেকে আড়াই হাজার যাত্রী যাতায়াত করতে পারবেন। এর জন্য শিয়ালদহে আলাদা করে ‘এন্ট্রি’ ও ‘এক্সিট’ পয়েন্ট নির্ধারণ করা হয়েছে।
গঙ্গাসাগর মেলার নিরাপত্তায় রেল সুরক্ষা বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে। মেলার রুটে ৩৪০ জন আরপিএফ ও ৫৪ জন অফিসার নজরদারির দায়িত্বে থাকবেন। থাকছে সিসিটিভি।



