ডঃ শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়
“নারায়ণী মহাভাগে দুর্গে দুর্গতিনাশিনী।
দুর্গেতি স্মৃতিমাত্রেণ যাতি দুর্গং নৃণামিহ।।”
তিনিই দুর্গতিনাশিনী নারায়ণী। তাঁর স্মরণেই নাশ হয় দুর্গতি। এই দেবীরই পুজো মহাপুজো। আর সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী – মহাসপ্তমী, মহাষ্টমী এবং মহানবমী। এর সঙ্গে সংযুক্ত চারটি কর্ম – মহাস্নান, পূজন, বলিদান এবং হোমযজ্ঞ।
ভবিষ্যপুরাণে সপ্তমী অষ্টমী এবং নবমী এই তিন দিন দেবী পুজোর কথা বলা হয়েছে। দেবীপুরাণে স্পষ্ট উল্লেখ আছে, আশ্বিনে শুক্ল পক্ষের অষ্টমী ও নবমী তিথিতে মহা – লোকমুখে প্রসিদ্ধি লাভ করবে। সেই হিসেবেই মহাষ্টমী এবং মহানবমী।
এই মহানবমী নির্দেশ করতে গিয়ে আবার বলা হয়েছে : “নবম্যাং বলিদান্তু কর্ত্তব্যং বৈ যথাবিধি।
জপং হোমঞ্চ বিধিবৎ কুর্য্যাত্তত্র বিভূতয়ে॥”
অর্থাৎ বিভূতি লাভের জন্য নবমীতে যথাবিধি বলিদান, জপ ও হোম করা হয়। মহাষ্টমী পরবর্তী এই নবমীই হলো শিবপ্রিয়ার পূজার তিথি – মহানবমী :
“ততেঽনু নবমী যা স্যাৎ সা মহানবমীস্মৃতা।
সা তিথিঃ সর্ব্বলোকানাং পূজনীয়া শিবপ্রিয়া।।”
শাস্ত্রে আছে –
“প্রথমং শৈলপুত্রী চ দ্বিতীয়ং ব্রহ্মচারিণী।
তৃতীয়ং চন্দ্রঘণ্টেতি কূষ্মাণ্ডেতি চতুর্থকম।।
পঞ্চমং স্কন্দমাতেতি ষষ্ঠং কাত্য়ায়নীতি চ।
সপ্তমং কালরাত্রীতি মহাগৌরীতি চাষ্টমম।।
নবমং সিদ্ধিদাত্রী চ নবদুর্গাঃ প্রকীর্তিতাঃ।
উক্তান্য়েতানি নামানি ব্রহ্মণৈব মহাত্মনা।।”
এই হিসেবে দেবীর নবম রূপ সিদ্ধিদাত্রী। ইনি মহানবমী তিথির দেবী। বলা হয়, দেবীর এই রূপের পুজো করলে সাফল্য আসে। দেবী ভক্তদের সিদ্ধি প্রদান করেন।
ভগবান রামচন্দ্রের সঙ্গে রাবণের যুদ্ধে রাবণের বিনাশ হয়েছিল এই দিনেই। আবার মহিষাসুর বধও হয়েছিল নবমীতেই। কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের আগে ভগবান কৃষ্ণের নির্দেশে অর্জুন দেবীর আরাধনা করেছিলেন যুদ্ধে জয়ের কামনায়। সন্তুষ্ট দেবী বর দিয়েছিলেন : “স্বল্পেনৈব তু কালেন শত্রুন্ জেষ্যসি পাণ্ডব।”
রঘুনন্দন স্মৃতিতে ছটি কল্পের বিধান আছে। এই ছটি কল্প হলো – কৃষ্ণনবম্যাদি কল্প, প্রতিপদাদি কল্প, ষষ্ঠ্যাদি কল্প, সপ্তম্যাদি কল্প, মহাষ্টম্যাদিকল্প, এবং মহানবমীকল্প। বাংলায় ষষ্ঠ্যাদি কল্প প্রচলিত। এই ষষ্ঠ্যাদি কল্পের পুজো চার দিন।



