ড. শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়
তিনি শক্তির দেবী। সেই রূপেই তাঁর আরাধনা করেন শাক্ত বাঙালি। তন্ত্র মতে, যে সব দেবদেবীর পুজো বাংলায় প্রচলিত, তার মধ্যে কালী পুজো অন্যতম তো বটেই, মনে হয় – প্রধানতম। কিন্তু এই কালীপুজো কখন করা উচিত?
কালীপুজো মানেই মধ্যরাত। আঁধারের রহস্যময়তা না থাকলে, কিছুতেই যেন ফুটে ওঠে না কালীমাহাত্ম্য। দীপের আলোয় দেবীর আরাধনা – প্রত্যক্ষে যেন বয়ে আনে ভক্তির এক অলৌকিক বাতাবরণ। শুধু দেবীর আরাধনা নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে সাধক শিল্পী পান্নালাল ভট্টাচার্যের শ্যামা সংগীতে বাঙালির হৃদয় জাগানো আবেগ এবং আরও অনেক কিছু…।
কার্তিক মাসের অমাবস্যার অর্ধ রাত্রিতে রয়েছে মা কালীর পুজোর বিধান। বলা হয়েছে, এই অর্ধ রাত্রিই দেবীর পুজোর মূল সময়। কিন্তু কেন এই বিধান? এর উত্তর আছে বিশ্বসার তন্ত্রে। সেখানে বলা হয়েছে, এই সময়ে স্বয়ং দেবী কোটি যোগিনী পরিবৃত হয়ে পৃথিবীতে আবির্ভূত হয়েছিলেন। তাই এই তিথির অর্ধরাত্রে দেবীর আরাধনা করলে সাধক সিদ্ধি লাভ করেন :
“কার্তিকে কৃষ্ণপক্ষে তু পঞ্চদশ্যাং মহানিশি।
আবির্ভূতা মহাকালী যোগিনীকোটিভিঃ সহ ॥ অতোঽত্ৰ পূজনীয়া সা তস্মিন্নহনি মানবৈঃ। বলিপূজাদিকং সৰ্ব্বং নিশায়াং ক্রিয়তে তু যৎ ।
তত্তদক্ষয়তাং যাতি কালী বিদ্যা প্রসীদতি ॥”
অবশ্য এক্ষেত্রে চতুর্দশীযুক্ত অমাবস্যার আলাদা গুরুত্ব আছে। এই তিথিই অর্ধরাত্রিকালে দেবী পুজোর জন্য সবচেয়ে প্রশস্ত। এক্ষেত্রে যদি মঙ্গলবার এবং শনিবারের সংযোগ হয়, তাহলে এই পুজো আরও ফলদায়ক হয়।
দেবীর আরাধনার ক্ষেত্রে মহানিশা এবং মহাতিনিশাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সূর্যাস্তের এক প্রহরের পরের দুই ঘটিকা হলো মহানিশা এবং তার পরবর্তী কাল হলো মহাতিনিশা। ভাবভিত্তিক পুজোর ক্ষেত্রে এই মহানিশা এবং মহাতিনিশা গুরুত্বপূর্ণ। এই মহানিশা কালেই তান্ত্রিকরা পুজো এবং জপে নিজেদের নিযুক্ত করেন। এক্ষেত্রে মহাবিদ্যাকে প্রসন্ন করারও বিষয় রয়েছে। কারণ মহাবিদ্যা প্রসন্ন হলে, সাধক বীরভাব লাভ করেন। বীরভাবের প্রসাদে আবার লাভ হয় দিব্য ভাব। বীর এবং দিব্য ভাবকেই বলা হয়েছে মহাভাব। এগুলি পুরোপুরি তন্ত্রের বিষয়।
বাঙালির ঘরে ঘরে মা কালীর যে পুজো, তার মধ্যে কার্তিকের অমাবস্যার পুজো নিত্য। কারণ, এই পুজো না করলে প্রত্যবায় হয়। অন্য সময়ের পুজো কাম্য।



