ইংল্যান্ডের লুটন শহরে ‘লুটন মেয়র অ্যাওয়ার্ড’-এ সম্মানিত হলেন কলকাতার বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী ও সুরকার সৌম্যেন অধিকারী। লুটনের মেয়র জাভেদ হোসেন তাঁর হাতে এই বিশেষ সম্মাননা তুলে দেন। দীর্ঘদিন ধরে লুটনের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে বিশেষ অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে এই পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
লুটনের ঐতিহ্যবাহী মেয়র পার্লার কক্ষে আয়োজিত এই বিশেষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় মেয়র এবং ‘পূর্বাচল – দ্য ইস্টার্ন স্কাই’ সংস্থার বিশিষ্ট গুণীজনেরা। অনুষ্ঠানে বিশেষ আসন অলংকৃত করেন ইউনাইটেড নেশনস অ্যাসোসিয়েশন (UNA), লুটন শাখার চেয়ারপারসন ড. নাজিয়া খানম OBE DL, UNA লুটন শাখার সম্পাদক ড. ডেভিড চিসম্যান এবং পূর্বাচল – দ্য ইস্টার্ন স্কাই সংস্থার সম্পাদক তথা বিশিষ্ট নাট্যকার ড. আনোয়ারুল হক।

উপস্থিত বিশিষ্টজনদের সামনে এই বিশেষ সম্মান গ্রহণ করে সৌম্যেন গভীরভাবে অভিভূত। তাঁর কথায়, এই সম্মান জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে আরও অর্থবহ করে তোলার পাশাপাশি সমাজ ও সংস্কৃতির প্রতি দায়িত্ববোধও অনেকখানি বাড়িয়ে দিল।
লুটন শহরের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলের সঙ্গে সৌম্যেন অধিকারীর সম্পর্ক প্রায় দুই দশকের। এই দীর্ঘ সময়ে তিনি শহরের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ও কর্মশালায় সংগীত পরিবেশনের আমন্ত্রণ পেয়েছেন। সংগীতের মাধ্যমে দুই দেশের সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও তাঁর অবদান উল্লেখযোগ্য।

এর আগে ২০২২ এ সৌমেন ব্রিটিশ পার্লামেন্টের ঐতিহ্যবাহী জুবিলী হলে ‘দর্পণ অ্যাওয়ার্ডে’ ভূষিত হন। ২০২৩ সালে পূর্বাচল সংস্থার পক্ষ থেকে তিনি বিশেষ ‘সংগীত পরিচালক সম্মান’ লাভ করেন। ২০২৪ সালে ইংল্যান্ডের প্রয়াত রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের স্মরণে প্রথম বাংলা গানে সুরারোপ ও কণ্ঠদানের জন্য ইউনাইটেড নেশনস অ্যাসোসিয়েশন, লুটন শাখার বিশেষ সম্মাননাও অর্জন করেন তিনি। আর এবার তাঁর মুকুটে যুক্ত হলো ‘লুটন মেয়র অ্যাওয়ার্ড’-এর নতুন পালক।
লুটনের মেয়র জাভেদ হোসেনের সঙ্গে সৌম্যেনের প্রথম পরিচয় হয় ২০২৬ সালের ‘বিশ্ব সংগীত দিবস’ উপলক্ষে ড. নাজিয়া খানম ও ড. ডেভিড চিসম্যানের আমন্ত্রণে আয়োজিত একটি বিশেষ একক সংগীতানুষ্ঠানে। সেই অনুষ্ঠানে সৌম্যেনের গান শুনে মুগ্ধ হন মেয়র জাভেদ হোসেন। সেই পরিচয় ও সংগীতের প্রতি তাঁর মুগ্ধতার সূত্র ধরেই এবার মেয়র পার্লারে এই বিশেষ সম্মানে ভূষিত হলেন সৌম্যেন অধিকারী।
এই সম্মান নিঃসন্দেহে তাঁর দীর্ঘ সংগীতযাত্রার এক স্মরণীয় প্রাপ্তি। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে বাংলা সংগীতের মর্যাদা ও পরিচিতিকে আরও উজ্জ্বল করে তোলার এক অনন্য স্বীকৃতি।



