সম্প্রতি লন্ডন প্রবাসী লেখক ও গীতিকার অমলেন্দু বিশ্বাসের কথায় লেখা গান প্রকাশিত হলো কলকাতা থেকে। কলকাতার বিশিষ্ট সংগীত শিল্পী ও সংগীত পরিচালক সৌম্যেন অধিকারীর সুর করেছেন এই গানগুলিতে । নানা রঙের দশটি গান গেয়েছেন কলকাতার জনপ্রিয় সংগীত শিল্পীরা, যেমন – সৌম্যেন অধিকারী, সিসপিয়া ব্যানার্জি, অরিত্র দাশগুপ্ত, সোনালী রায় ও অন্বেষা গাঙ্গুলী মান্না। গানগুলি প্রকাশিত হয়েছে Ott Solution, Raga music, Beethoven Records এর মত জনপ্রিয় কোম্পানি থেকে। গানগুলি ইতিমধ্যেই সংগীত মহলে বেশ সাড়া ফেলেছে। এর আগে ‘সকল গানের মাঝে’ শীর্ষক আরও দশটি গানের একটি অ্যালবাম প্রকাশিত হয়েছে।
তাঁর লেখা কবিতা পাঠ করেছেন কলকাতার বিশিষ্ট বাচিক শিল্পী দেবাশিস বসু ও মহুয়া বসু সেন ‘ এক মুঠো সূর্য’ শীর্ষক অ্যালবামে। সেই অ্যালবামে কয়েকটি কবিতায় কন্ঠ দিয়েছেন এই প্রবীণ লেখক। সৌমেন অধিকারীর সুরে আরো একটি অ্যালবাম প্রকাশিত হয়েছে তাঁর লেখা গানের। সেই অ্যালবামের কন্ঠ দান করেছেন অন্বেষা গাঙ্গুলী মান্না, সৌমিলি অধিকারী ও সৌম্যেন অধিকারী।

যুক্তরাজ্য প্রবাসী অমলেন্দু বিশ্বাস প্রবীণ লেখক, কবি ও রবীন্দ্র গবেষক। ১৯৩৭ সালে কলকাতায় জন্ম, তারপর পড়াশোনার পাঠ শেষ করে বিলেত পাড়ি। দীর্ঘদিন বিলেত প্রবাসী কিন্তু দেশের সংস্কৃতির সঙ্গে অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক তাঁর। সারা জীবন লিখে গেছেন অজস্র কবিতা, গান। প্রবাসী হয়েও পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন বাংলার চিরায়ত সংস্কৃতির। বাংলা ভাষার প্রতি টান তাঁর এতোটুকু কমেনি, বরং দিনে দিনে ক্রমশ বেড়েছে বাংলা চর্চা। তাঁর এই জীবনস্রোতে সর্বসঙ্গী ছিলেন তাঁর সহধর্মিনী সুগায়িকা অরুন্ধতী বিশ্বাস, যিনি একাধারে রাগপ্রধান, দ্বিজেন্দ্রগীতি, অতুলপ্রসাদি ও নানা রঙের বাংলা গানের শিল্পী।
সম্প্রতি স্ত্রী বিয়োগের পর একাকীত্ব তাঁকে নতুন করে জীবনকে চিনিয়েছে। আঁকড়ে ধরেছেন কলমকে, নিয়মিত গান লিখে চলেছেন। সংরক্ষিত ক্যাসেট থেকে স্ত্রীর গাওয়া গানগুলিকে পরিমার্জন করে সঙ্গীত আয়োজনসহ প্রকাশ করেছেন দুটি অ্যালবাম ‘এসো প্রাণ সখা’ এবং ‘আমি তোমার গাহি গান ‘ তাঁর স্মৃতিকে বাঁচিয়ে রাখার উদ্দেশ্যে। এ বিষয়ে তাঁকে সর্বদা অনুপ্রাণিত করেছেন তাঁর দুই পুত্র অংশুমান বিশ্বাস ও কিংশুক বিশ্বাস। নব্বই বছর বয়সী এই প্রবীণ লেখক বয়সের কাছে হার মানেন নি, মনের দিক দিয়ে অনেকটা সবল আছেন লেখালেখিকে আঁকড়ে ধরে।
ষাটের দশকের শেষে তিনি বৃটেনে গিয়েছিলেন ভাগ্য অন্বেষণে, তারপর বাকিটা ইতিহাস। কঠিন পরিশ্রম, নিষ্ঠা, ও সততা তাঁকে সাফল্যের পথে এগিয়ে দেয়। ইউরোপীয় সংস্কৃতি ও নিজের দেশের সংস্কৃতির মেলবন্ধন তাঁর জীবনকে অন্য মাত্রা দিয়েছে। নিজেকে ক্রমশ বিলেতের বাংলা সাহিত্য, সংস্কৃতি মহলে সুপরিচিত করেছেন তাঁর কাজের মাধ্যমে। বলা যেতে পারে সেসময়কার সংস্কৃতিমনা যাঁরা বিলেতে এসেছেন তাঁদের হাত ধরেই বিটেনে বাংলা সাহিত্যের প্রাতিষ্ঠানিক চর্চা শুরু হয়। তাঁর লন্ডনের বাড়িতে বাংলা গানের বিশিষ্ট সংগীত শিল্পী ও কবি, লেখকদের আড্ডা হয়েছে নিয়মিত। সেসব আড্ডায় গান গেয়েছেন কণিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, সুবিনয় রায়, স্বপন গুপ্ত, গোরা সর্বাধিকারী প্রমূখ, কবিতা পড়েছেন শক্তি চট্টোপাধ্যায়, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, শরৎ মুখোপাধ্যায় সহ একাধিক গুণীজন।
লন্ডনের টেগোর সেন্টারের সঙ্গে তিনি সূচনা পর্ব থেকেই যুক্ত, দীর্ঘ দশ বছর এই সেন্টারের সভাপতি হিসেবে গুরুদায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০৬ সালে শতাধিক রবীন্দ্র গবেষকের লেখা সম্বলিত ‘ A Creative Unity Anthology of Rabindranath Tagore’ এবং ‘Timeless Mind Anthology of Rabindranath Tagore ‘ এই দুটি গ্রন্থে তাঁর লেখা বিশেষ খ্যাতি অর্জন করে। দুটি গ্রন্থই লন্ডন টেগোর সেন্টার থেকে প্রকাশিত।
১৯৯৬ সালে তাঁর লেখা প্রথম কবিতার বই ‘ সংবেদন ‘ প্রকাশিত হয় ‘সুবর্ণরেখা ‘প্রকাশন থেকে। তাঁর আত্মজীবনী মূলক বই ‘সেই দিন সেই মন‘ সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে গুরুচণ্ডালী প্রকাশন থেকে কলকাতা বই মেলায় ২০২৬ এ। বইটি পাঠক মহলে বিশেষ ভাবে সমাদৃত হয়েছে। এই বইটির ইংরেজি অনুবাদ করছেন বর্তমানে। আরো একটি কবিতার বই প্রকাশের ইচ্ছা আছে ভবিষ্যতে।



