(ক) শিয়ালদহ, বালিগঞ্জ ও দমদমে আধুনিক শৌচাগার কমপ্লেক্স
(খ) বিধাননগর সাবওয়ের উন্নয়ন এবং লেভেল ক্রসিংয়ের অ্যাপ্রোচ রোডের উন্নতি
(গ) ব্যারাকপুরে নতুন বুকিং কাউন্টার
(ঘ) দমদমের সার্কুলেটিং এরিয়ার উন্নয়ন
আসন্ন উৎসবের মরশুমের কথা মাথায় রেখে পুজোর সময় যাত্রীদের নিরাপদ, নির্বিঘ্ন ও স্বচ্ছন্দ যাতায়াত নিশ্চিত করতে শিয়ালদহ ডিভিশনে জোরদার প্রস্তুতি চলছে। এই লক্ষ্যে শিয়ালদহের ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার রাজীব সাক্সেনা ভিডিও কনফারেন্সিং-এর মাধ্যমে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রস্তুতি ও পর্যালোচনা বৈঠক করেন।
বৈঠকে সংশ্লিষ্ট শাখার আধিকারিক, স্টেশন আধিকারিক এবং বিভিন্ন স্টেশন ও ইয়ার্ডে কর্মরত ফ্রন্টলাইন সুপারভাইজাররা অংশ নেন।
বৈঠকে পর্যালোচনা করা প্রধান প্রস্তুতি ও ব্যবস্থা:
ভিড় নিয়ন্ত্রণ:
শিয়ালদহ সহ গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলিতে যাত্রী চলাচল, ব্যস্ত সময় এবং সম্ভাব্য ভিড়ের পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত মূল্যায়ন করা হচ্ছে। গত দুর্গাপুজোর সময় শিয়ালদহ স্টেশনে একদিনে প্রায় ২১ লক্ষ যাত্রীর সর্বোচ্চ ফুটফল রেকর্ড করা হয়েছিল।
প্রবেশ ও বহির্গমন ব্যবস্থাপনা:
যাত্রীদের চলাচল আরও মসৃণ করা এবং প্রবেশ ও বহির্গমনকারী যাত্রীদের পারস্পরিক ক্রস-মুভমেন্ট কমানোর জন্য প্রবেশ ও বহির্গমন ব্যবস্থা পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
প্ল্যাটফর্ম ব্যবস্থাপনা:
অতিরিক্ত ভিড় আটকাতে প্ল্যাটফর্মভিত্তিক যাত্রী ধারণক্ষমতা, প্ল্যাটফর্মের দৈর্ঘ্য এবং ট্রেন চলাচলের বিস্তারিত মূল্যায়ন করা হচ্ছে।
২৪×৭ টিকিট পরিষেবা:
শিয়ালদহ ও কলকাতা স্টেশনের সমস্ত টিকিট কাউন্টার ২৪ ঘণ্টা চালু থাকবে। সকাল ও সন্ধ্যার ব্যস্ত সময়ে অতিরিক্ত বুকিং ক্লার্ক মোতায়েন করা হবে, যাতে যাত্রীদের অতিরিক্ত ভিড় দক্ষতার সঙ্গে সামলানো যায়।
ATVM ও তাৎক্ষণিক টিকিট পরিষেবা:
২৪ ঘণ্টা ATVM পরিষেবা চালু থাকবে। পাশাপাশি Hand-Held Terminals (HHTs)-এ সজ্জিত কর্মীদের যাত্রীদের ভিড়ের মধ্যে মোতায়েন করা হবে, যাতে ঘটনাস্থলেই টিকিট ইস্যু করা যায় এবং বুকিং কাউন্টারে দীর্ঘ লাইনের চাপ কমানো যায়।
লাইন ও ভিড় নিয়ন্ত্রণ:
আরপিএফ কর্মীরা যাত্রীদের লাইন ও চলাচল সক্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রণ করবেন। এর পাশাপাশি সময়মতো পাবলিক অ্যানাউন্সমেন্ট এবং কমার্শিয়াল বিভাগের সমন্বয় নিশ্চিত করা হবে।
CCTV নজরদারি:
ভিড়ের ঘনত্বের উপর নজরদারি এবং কোনও সম্ভাব্য ভিড়ের পরিস্থিতি তৈরি হলে, দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য CCTV-ভিত্তিক নজরদারি ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হবে।
জরুরি পরিস্থিতি ও নিরাপদ বহির্গমন প্রস্তুতি: জরুরি পথ, যাত্রীদের নিরাপদ বহির্গমন ব্যবস্থা, চিকিৎসা সহায়তা এবং দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি পর্যালোচনা করা হচ্ছে, যাতে কোনও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
শিয়ালদহে পৃথক Mail/Express Zone:
সদ্য চালু হওয়া Central Gate-কে Mail/Express যাত্রীদের জন্য পৃথক প্রবেশ ও বহির্গমন পথ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এর ফলে স্টেশনের অভ্যন্তরে যাত্রীদের পারস্পরিক ক্রস-মুভমেন্ট কমবে।
দমদমে যাত্রী এলাকা সম্প্রসারণ:
দমদম স্টেশনে প্ল্যাটফর্ম ৪ ও ৫-এর দিকে অবস্থিত বুকিং কাউন্টারগুলি সরিয়ে আরও বড় যাত্রী এলাকা তৈরি করা হচ্ছে। এর ফলে পুজোর ভিড়ের সময় যাত্রী চলাচল আরও স্বচ্ছন্দ হবে।
ব্যারাকপুরে অতিরিক্ত টিকিটিং ও চলাচল ব্যবস্থা:
ব্যারাকপুর স্টেশনে নবনির্মিত টিকিট বুকিং কাউন্টার রানাঘাট প্রান্তে FOB র কাছে , যা প্রায় সম্পূর্ণ, দ্রুত চালু করা হবে। এর ফলে সেন্ট্রাল FOB-এর উপর চাপ কমবে।
আধুনিক শৌচাগার পরিষেবা:
যাত্রীদের সুবিধা, পরিচ্ছন্নতা ও উন্নত যাত্রী পরিষেবা নিশ্চিত করতে শিয়ালদহ, বালিগঞ্জ ও দমদম স্টেশনে আধুনিক শৌচাগার কমপ্লেক্স তৈরির ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
বিধাননগর সাবওয়ের উন্নয়ন:
বিধাননগর সাবওয়েতে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় সংশোধনমূলক ও পরিকাঠামোগত উন্নয়নমূলক কাজ করা হচ্ছে, যাতে যাত্রীদের চলাচল আরও নিরাপদ ও স্বচ্ছন্দ হয়।
লেভেল ক্রসিংয়ের অ্যাপ্রোচ রোডের উন্নতি:
যাত্রী, পথচারী এবং রেল-সংক্রান্ত যানবাহনের নির্বিঘ্ন চলাচলের জন্য লেভেল ক্রসিং গেটগুলির অ্যাপ্রোচ রোডের উন্নতি ও শক্তিশালীকরণ করা
হচ্ছে।
রাজীব সাক্সেনা বলেন যে, সমস্ত প্রস্তুতি যথেষ্ট আগেই গ্রহণ করা হয়েছে এবং বর্তমান পরিকাঠামোগত কাজগুলি অবশ্যই যাত্রী-কেন্দ্রিক হতে হবে। পুজোর ভিড় শুরু হওয়ার আগেই গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলি সম্পন্ন করার উপর তিনি বিশেষ গুরুত্ব দেন।



