তৃণমূলের গুন্ডাবাহিনীর অত্যাচারে বাংলার মানুষ কতটা ক্ষিপ্ত, শনিবার তার টের পেলেন সাংসদ তথা দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জি। সোনারপুরে নিহত এক তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে গিয়ে নিজেই আক্রান্ত হলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। চার চাকার গাড়ির বদলে মূল রাস্তা থেকে নেমে বাইকে চেপে নিহত তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে ঢোকার মুখে তাঁর গায়ে হাত তোলেন একদল বিক্ষোভকারীরা। তাঁর মাথায় ও ঘাড়ে এলোপাথাড়ি চড়-ঘুষি মারা হয়। ভেঙে দেওয়া হয় বাইকটি। অভিষেকের জামা ছিঁড়ে যায়। ভেঙে যায় চশমাও।
ক্রিকেট খেলার হেলমেট মাথায় দিয়ে অভিষেক সোনারপুরে নিহত তৃণমূল কর্মী সঞ্জু কর্মকারের বাড়ির দিকে এগোনোর সময় তাঁর গায়ে ডিম ও জুতো ছোড়া হয়। ছিঁড়ে দেওয়া হয় পরনের সাদা রঙের শার্ট। ওঠে ‘চোর-চোর’ স্লোগান।
অভিষেক সোনারপুরে পৌঁছনোর আগে থেকেই কোথাও কোথাও মহিলাদের ডিম হাতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গিয়েছিল। কোথাও আবার কালো পতাকা হাতে নিয়ে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দিচ্ছিলেন বিজেপির লোকজন। এই বিক্ষোভের কারণে চার চাকার গাড়ির পরিবর্তে এক দলীয় কর্মীর বাইকে বসেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক। বাইক ধাওয়া করে দৌড়োতে থাকেন কয়েক জন। তার পর শুরু হয় শারীরিক হেনস্থা।
বিধ্বস্ত অবস্থায় নিহত তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে পৌঁছে তিনি নিশানা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তথা বিজেপি সরকারকে। অভিষেক বলেন, ‘”আমার মাথাটা বেঁচে গিয়েছে হেলমেট ছিল বলে। আমার চশমা ভেঙে দিয়েছে। ওরা আমায় মারতে চায়! মেরে দিক! আমি এখান থেকে যাব না। সঞ্জুর বৃদ্ধ বাবা-মাকে ছেড়ে কোথাও যাব না।”
ভোটের ফল ঘোষণার ২৬ দিনই পর শনিবার অভিষেকের কর্মসূচির মধ্যে ছিল ভোট-পরবর্তী হিংসায় নিহতদের বাড়িতে যাওয়া। কলকাতার বেলেঘাটা হয়ে যান দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরে। এর মাঝে কালীঘাটের বাড়িতে গিয়ে সিআইডির নোটিস নেন অভিষেক। কিন্তু সোনারপুরে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ ঢোকার আগেই রাস্তায় কালো পতাকা নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন বিজেপির নেতা-কর্মীরা। অভিষেককে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দিতে শুরু করেন তাঁরা। পাটুলির কাছে ঢালাই ব্রিজ় থেকে সোনারপুরের কামরাবাদ, সর্বত্র বিজেপি কর্মীরা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন।



