হোমPlot1একক লড়াইয়ে এবার কি রাজ্যে কংগ্রেসের শূন্যের গেরো কাটবে?

একক লড়াইয়ে এবার কি রাজ্যে কংগ্রেসের শূন্যের গেরো কাটবে?

একক লড়াইয়ে এবার কি রাজ্যে কংগ্রেসের শূন্যের গেরো কাটবে?

তৃণমূল কংগ্রেস, বিজেপি আগেই ঘোষণা করেছিল। এবার ১০টি আসন বাদ রেখে রাজ্যের ২৮৪টি বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করার পর যে প্রশ্নটি উঠে আসছে, তা হল, ২০২৬-এর বিধানসভার নির্বাচনে কংগ্রেস কি শূন্যের ফাঁড়া কাটিয়ে উঠতে পারবে? এর আগে সিপিএমের সঙ্গে জোট করে ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল এই দল। জোট করে নির্বাচনী সাফল্য তো জোটেইনি, বরং সিপিএমের মতো কংগ্রেসও গত বিধানসভায় শূন্য হয়ে গিয়েছিল।

এবারের তালিকায় দেখা যাচ্ছে, বহরমপুরে প্রার্থী করা হয়েছে প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরীকে। মালদহের মালতীপুর কেন্দ্র থেকে ভোটে লড়ছেন রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ মৌসম বেনজির নূর। উত্তর দিনাজপুুরের চাকুলিয়া থেকে ফের প্রার্থী করা হয়েছে আলি ইমরান রামজ ওরফে ভিক্টরকে। বালিগঞ্জে প্রার্থী করা হয়েছে প্রয়াত কংগ্রেস নেতা সোমেন মিত্রের পুত্র রোহন মিত্রকে। ভবানীপুরে মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে লড়ছে কংগ্রেসের দক্ষিণ কলকাতার জেলা সভাপতি প্রদীপ প্রসাদ। নন্দীগ্রামে কংগ্রেস প্রার্থী করেছে রেখেছে দলের যুব মুখ শেখ জরিয়াতুল হোসেনের উপর। রাসবিহারী কেন্দ্রে ফের প্রার্থী হয়েছেন আশুতোষ চট্টোপাধ্যায়। মানিকতলা থেকে লড়বেন সুমন রায়চৌধুরী।

২০১৬ থেকে ২০২১ পর্যন্ত বিধায়ক থাকা বেশ কয়েক জনকে এই নির্বাচনে টিকিট দিয়েছে কংগ্রেস। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন রায়গঞ্জের মোহিত সেনগুপ্ত, চাঁচলে আসিফ মেহবুব, হরিশ্চন্দ্রপুরে মোস্তাক আলম। তৃণমূল থেকে কংগ্রেসে যোগ দেওয়া অমল আচার্যকে ইটাহার কেন্দ্রে প্রার্থী করা হয়েছে।

কংগ্রেস সূত্রে জানা গেছে, তৃণমূলের টিকিট না-পাওয়া বেশ কয়েকজন বিধায়ক প্রার্থী হতে চেয়েছেন। তাঁদের সেই আবেদন খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে ওই সূত্রের দাবি। ২৮৪ জনের তালিকায় প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের নাম নেই। ২০২১ সালে তিনি শ্রীরামপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। যে আসনগুলিতে প্রার্থীদের নাম জানানো হয়নি, তার মধ্যে রয়েছে শ্রীরামপুরও। ওই আসন থেকে শুভঙ্কর ফের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন কি না, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফায় ১৫২টি আসনে ভোট হবে আগামী ২৩ এপ্রিল। এই ১৫২টি আসনের জন্য প্রার্থীদের মনোনয়ন জমা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে সোমবারই। মনোনয়ন জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার ২৪ ঘণ্টা আগেই প্রার্থিতালিকা প্রকাশ করল হাত শিবির।

প্রার্থী তালিকায় উল্লেখযোগ্য নাম হল, অধীর চৌধুরী ও মৌসম নূর। এই দুজনেরই জেতার সম্ভাবনা প্রবল। ১৯৯৬ সালে শেষ বার বিধানসভা ভোট লড়েছিলেন অধীর রঞ্জন চৌধুরী। তারপর দীর্ঘ ৩০ বছর পরে ফের বিধানসভা ভোট লড়তে চলেছেন তিনি। রাজনীতিতে অধীরের যাত্রা শুরু রাজীব গান্ধীর আমলে কংগ্রেসে যোগদানের মাধ্যমে। ১৯৯১ সালে নবগ্রাম কেন্দ্র থেকে প্রথম বিধানসভা ভোটে লড়লেও জিততে পারেননি। তবে ১৯৯৬ সালে একই কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে বিধানসভায় প্রথম পা রাখেন তিনি।

এরপর ১৯৯৯ সালে বহরমপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে জিতে অধীরের জাতীয় রাজনীতিতে প্রবেশ। টানা ২৫ বছর, অর্থাৎ ১৯৯৯ থেকে ২০২৪ এই দীর্ঘ সময়ে বহরমপুরের সাংসদ ছিলেন তিনি। অধীর চৌধুরী শুধু সাংসদই নন, জাতীয় স্তরেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন। ২০১২ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিনি কেন্দ্রীয় রেল প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। পরবর্তী সময়ে ২০১৯ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত লোকসভায় কংগ্রেসের নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবেও কাজ করেছেন। পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির সভাপতি হিসেবেও দু’দফায় দায়িত্বে ছিলেন। মুর্শিদাবাদ জেলায় কংগ্রেস সংগঠন শক্তিশালী করার পিছনেও তাঁর বড় ভূমিকা রয়েছে।

২০২৪-এর লোকসভা ভোটে বড় ধাক্কা খেতে হয় অধীরকে। তৃণমূল প্রার্থী ইউসুফ পাঠানের কাছে ৮৫ হাজারের বেশি ভোটে তিনি পরাজিত হন। এই পরাজয়ের পরই প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির পদ থেকেও ইস্তফা দেন। সেই হারের পর অধীরের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ঘিরে প্রশ্ন চিহ্ন তৈরি হয়েছিল। কিন্তু ২০২৬ বিধানসভা ভোটে তাঁর প্রার্থী হওয়া কংগ্রেসের পক্ষে এক বড় মাস্টারস্ট্রোক বলা যেতে পারে।

spot_img
spot_img

সবাই যা পড়ছেন

spot_img