পুলক মিত্র: পশ্চিমবঙ্গে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ পর্ব শেষ। এখন সব পক্ষই ৪ মে-র ভোট গণনার অপেক্ষায়। বলতে গেলে, এবারের ভোট এককথায় নজিরবিহীন। কোনও বড় ধরনের হিংসা বা মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। অন্যদিকে, ৯২ শতাংশের বেশি মানুষ ভোট দিয়েছেন, যা স্বাধীনতার পর কখনও ঘটেনি। এত বিপুল সংখ্যক মানুষের ভোটদান নিয়ে তৃণমূল, বিজেপি, দুই শিবিরেই নানা জল্পনা চলছে।
ভোটের ফল কী হতে পারে, তা নিয়ে খুব একটা স্বস্তিতে নেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। দ্বিতীয় দফার ভোটের দিন তিনি সকাল থেকেই নিজের নির্বাচনী কেন্দ্র ভবানীপুরে ভোট-পরিস্থিতি দেখতে বুথে বুথে ঘুরেছেন, যা অতীতে কখনও দেখা যায়নি। সাধারণত ভোটের দিন নিজের কালীঘাটের বাড়িতেই থাকেন মুখ্যমন্ত্রী। বিকেলের দিকে ভোট দিতে বেরোন। তবে এবারও অবশ্য তিনি বিকেলেই ভোট দিয়েছেন।
এবার আরও একটি ঘটনা রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের নজর কেড়েছে। ২৭ এপ্রিল ছিল ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারের শেষদিন। সেদিন বিকেলে ভোটারদের কাছে শেষবারের মতো আবেদন জানাতে তিনি দক্ষিণ কলকাতায় প্রায় নয় কিলোমিটার পথ পদযাত্রা করেন। এই পদযাত্রা শুরু হয়েছিল যাদবপুর থেকে, যেখানে ১৯৮৪ সালে প্রথমবার ভোটে দাঁড়িয়ে হারিয়েছিলেন সিপিএমের দোর্দণ্ডপ্রতাপ সাংসদ সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়কে। এই পদযাত্রা শেষ হয় ভবানীপুরে, যেখান থেকে মুখ্যমন্ত্রী টানা চতুর্থবার ক্ষমতায় আসার জন্য লড়াই করছেন।
যাদবপুরে রাস্তার দু’ধারে জড়ো হওয়া তাঁর নির্বাচনী কেন্দ্রের ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “এবার নিজের অধিকার রক্ষার জন্য ভোট দিন। এসআইআর-এর (বিশেষ নিবিড় সংশোধন) কারণে যেভাবে আপনাদের লাইনে দাঁড় করানো হয়েছে, শুধুমাত্র ভোটের মাধ্যমেই এই অপমানের জবাব দেওয়া সম্ভব।” বাংলার এবারের বিধানসভা নির্বাচন আগের অন্য নির্বাচনগুলির চেয়ে অনেকটাই আলাদা।
এই নির্বাচনে রাজ্যের ভোটার সংখ্যা প্রায় ১২ শতাংশ কমেছে এবং ২০২১ সালের তুলনায় প্রায় ৯০ লক্ষ কম নাম নথিভুক্ত হয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ২৭ লক্ষেরও বেশি ভোটারকে ট্রাইব্যুনালে আপিল করতে হয়েছে, যা ভোটাধিকার হরণের এক নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত হয়ে রয়েছে।
গত ১৫ বছর ধরে রাজ্য শাসন করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দীর্ঘকাল ক্ষমতায় থাকার সুবাদে স্বাভাবিকভাবেই মানুষের মধ্যে সরকার-বিরোধী ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তার ওপর রয়েছে দীর্ঘকাল সরকারে থাকার সুবাদে ব্যাপক দুর্নীতি, থমকে থাকা উন্নয়ন, কর্মসংস্থানহীনতা এবং সর্বোপরি পাড়ায় পাড়ায় সিন্ডিকেটরাজ, তোলাবাজি আর গুন্ডামির অভিযোগ।
প্রধান বিরোধী দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) চ্যালেঞ্জের মুখে পাল্টা আক্রমণকে হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। দলের প্রচারে বারবার বিজেপি-কে “বহিরাগতদের” দল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সেইসঙ্গে নির্বাচন কমিশনের এসআইআর প্রক্রিয়াকে মানুষের ভোটদানের অধিকার কেড়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র আখ্যা দিয়ে কমিশন তথা বিজেপির বিরুদ্ধে সর্বাত্মক আক্রমণের পথে হেঁটেছেন মমতা।
শুধু তাই-ই নয়, তিনিই হলেন প্রথম মুখ্যমন্ত্রী, যিনি এসআইআর-এর বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে পর্যন্ত দরবার করেছেন, কলকাতায় পাঁচ দিন ধরে ধর্নায় বসেছেন এবং নির্বাচন কমিশনকে বারবার “বিজেপি-র দালাল” আখ্যা দিয়ে তীব্র ভাষায় আক্রমণ শানিয়েছেন। “অনুপ্রবেশকারীদের” হটানোর লক্ষ্যকে সামনে রেখে এসআইআর-এর মাধ্যমে বিজেপি যে রাজ্যে সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের চেষ্টা চালিয়েছে, তা তুলে ধরেছেন। পাশাপাশি নির্বাচনকে উপলক্ষ করে রাজ্যে সিআরপিএফ, সিএপিএফ, এনআইএ, এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট এবং সিবিআই-এর মতো কেন্দ্রীয় সংস্থাকে পাঠানোর ঘটনাকে যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার পরিপন্থী আখ্যা দিয়েছেন।
গত ১৫ বছর বহু ঘটনা ঘটলেও, দুটি ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারকে যথেষ্ট বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে। দুটি ক্ষেত্রেই সাধারণ মানুষকে বিপুল সংখ্যায় পথে নামতে দেখা গেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় ঘটনাটি হল, ২০২৪ সালের অগাস্টে আর. জি. কর হাসপাতালে এক চিকিৎসককে ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা। এই ঘটনায় শুধু রাজ্য নয়, তোলপাড় হয়েছিল গোটা দেশ। এমনকি দেশের বাইরেও এই ঘটনা যথেষ্ট আলোড়ন ফেলেছিল। বিদেশ সফরে গিয়েও প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রীকে। নারীর নিরাপত্তার প্রশ্ন তুলে বাংলার রাজপথে আছড়ে পড়েছিল লাখো মানুষের বিক্ষোভ-আন্দোলন।
অন্যদিকে, এসএসসি (স্কুল সার্ভিস কমিশন) নিয়োগ নিয়েও যথেষ্ট বিপাকে পড়তে হয়েছে রাজ্য সরকারকে। চাকরি প্রার্থীরা তো বটেই, তাঁদের পাশে দাঁড়িয়ে পথে নেমেছিলেন অসংখ্য রাজ্যবাসী। কলকাতা হাইকোর্টের রায়কে মান্যতা দিয়ে সুপ্রিম কোর্ট ইতিমধ্যে প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষকের নিয়োগও বাতিল করে দিয়েছে।
তৃণমূল সরকারের চালু করা কন্যাশ্রী, লক্ষ্মীর ভান্ডারের মতো কল্যাণমূলক প্রকল্পগুলির সীমাবদ্ধতাও সামনে এসে পড়েছে। কারণ কর্মসংস্থান এবং উন্নয়নের অভাবে এই প্রকল্পগুলি থেকে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পাওয়া সম্ভব ছিল না। ৭৭টি সম্প্রদায়কে দেওয়া ওবিসি (অন্যান্য অনগ্রসর সম্প্রদায়) স্বীকৃতি সুপ্রিম কোর্ট বাতিল করে দেওয়ায় তৃণমূল সরকার ধাক্কা খায়। এর ফলে প্রায় ৫ লক্ষ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হন।
সরকারি চাকরির প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থতা, মুসলিম ওবিসি সার্টিফিকেট বিতরণ এবং ওয়াকফ ইস্যুতে তাঁর আকস্মিক অবস্থান পরিবর্তনের কারণে তৃণমূল তথা মমতার প্রতি মুসলিমদের একটি বড় অংশ কার্যত হতাশ হয়ে পড়েছিলেন। এসআইআর ইস্যু মমতাকে তাঁর হারানো জমি ফিরে পেতে সাহায্য করবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
অন্যান্য রাজ্যের মত পশ্চিমবঙ্গে ভোটারদের শুধুমাত্র ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে নিজেদের নাম মিলিয়ে নিলেই হয়নি, সেইসঙ্গে তাঁদের ‘তথ্যগত অসঙ্গতি’ নামক এক নতুন শর্তের বিরুদ্ধেও লড়াই করতে হয়েছে। এর ফলে একই নামের একাধিক ভোটারের নামে অমিল দেখা দেয়। এতে ভোটার সংখ্যা প্রায় ৯০ লক্ষ কমে গেছে এবং নির্বাচনের দুই সপ্তাহেরও কম সময় আগে উদ্বেগজনকভাবে ২৭ লক্ষ ভোটারকে ১৯টি বিচার বিভাগীয় ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে।
একদিকে, বিজেপি যেখানে রাজ্যে তথাকথিত অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের হটানোর দাবি তুলে এসআইআর-কে সামনে রেখে তাদের সাম্প্রদায়িক প্রচার চালিয়েছে, সেখানে মমতা তুলে ধরেছেন ভোটারদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করার বিষয়টিকে। এই বিষয়টিকে তিনি বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলিতে বাংলাভাষী পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর আক্রমণ এবং এমনকি তাদের বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনার সঙ্গে যুক্ত করেছেন। সরকারের ব্যর্থতার চেয়ে ভোট প্রচার পরিণত হয় “বাঙালি এবং বহিরাগত”-র লড়াইয়ে।
যাঁদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, তাঁদের জন্য সুপ্রিম কোর্টে যাওয়া এবং তারপরে কলকাতার প্রাণকেন্দ্র ধর্মতলায় ধর্না দেওয়া, এই পুরো প্রক্রিয়ার উদ্দেশ্য ছিল বাংলার মানুষকে একটি বার্তা দেওয়া। রাজনৈতিক লড়াই করেই মমতার উত্থান। তিনিই বাংলার প্রথম মহিলা মুখ্যমন্ত্রী, যাঁর রাজনৈতিক জীবন নানা লড়াই-সংঘাত, উত্থান-পতন এবং নাটকীয়তায় ভরা।
মমতা তখন ছাত্র সমাজের নেত্রী। ১৯৭৫ সালে কলকাতায় সমাজবাদী নেতা জয়প্রকাশ নারায়ণের গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ দেখিয়ে তিনি প্রথম নজর কাড়েন। পরবর্তীকালে বামফ্রন্টের বিরুদ্ধে আন্দোলনে তিনি প্রধান মুখ হয়ে ওঠেন। তাঁর প্রতিবাদে বারবার আন্দোলিত হয়েছে মহানগরীর রাজপথ।
১৯৮৪ সালে তিনি কলকাতার যাদবপুর থেকে তাঁর প্রথম লোকসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হন। ১৯৯৮ সালে তিনি কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে এসে গঠন করেন তৃণমূল কংগ্রেস। এরপর বিভিন্ন সময়ে তিনি কেন্দ্রে কখনও ইউপিএ, কখনও এনডিএ সরকারকে সমর্থন করেন।
টিএমসি গঠনের এক বছর পর বিজেপি-নেতৃত্বাধীন এনডিএ-কে সমর্থন করেন এবং রেলমন্ত্রী হন। ২০০১ সালে তিনি এনডিএ জোট ত্যাগ করেন। ২০০৩-এ তিনি আবার এনডিএ-তে ফিরে আসেন এবং কয়লা ও খনি মন্ত্রী হন। ২০০৪ সালে দলের বিপর্যয় সত্ত্বেও লোকসভায় তাঁর দলের একমাত্র সাংসদ নির্বাচিত হন মমতা। ২০০৯ সালে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ সরকারে যোগ দেন। তবে ২০১২ সালে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং মাল্টি-ব্র্যান্ড রিটেলে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) অনুমোদনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে তিনি ইউপিএ থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে নেন। এর এক বছর আগে ২০১১ সালে সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রামে আন্দোলনের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গে প্রায় সাড়ে তিন দশকের বাম শাসনের পতন ঘটান মমতা।
সিপিআই(এম) সরকারের পতনের পর, গত এক দশক ধরে পশ্চিমবঙ্গে নিজেদের শক্তি বাড়াতে নিরন্তর চেষ্টা চালিয়েছে বিজেপি। ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি লোকসভা নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেও, পশ্চিমবঙ্গে এই দল মাত্র দুটি আসনে জিতেছিল এবং ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পেয়েছিল মাত্র তিনটি আসন। তবে, ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি ১৮টি আসন জিতে তৃণমূলকে বড় ধাক্কা দেয়। এরপর ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ৭৭টি আসন জিতে সেই ধারা বজায় রাখে। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তাদের আসন সংখ্যা কমে হয় ১২টি।
গত দুটি বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি-র ভোটের হার বেড়েছে। ২০১৬ সালের ১০.১৭% থেকে বেড়ে ২০২১-এ ৩৭.৯% হয়েছে। এর বিপরীতে, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির ভোটের হার ছিল ৩৮.৭৩%, যেখানে ২০১৯ সালের নির্বাচনে তা ছিল ৪০.৬%। বিজেপির আদর্শগত মূল সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (আরএসএস) বাংলায় পাঁচগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই রাজ্যে ইতিমধ্যেই তাদের ৪,০০০-এর বেশি শাখা তৈরি হয়েছে।
২০১৯ সালের পর টিএমসি বুঝতে পারে, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া এবং উত্তরবঙ্গের কিছু অংশে আরএসএস শাখার উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি ঘটেছে। গত পাঁচ বছরে, বিজেপির পিছনে হিন্দুদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া আটকাতে এবং বিজেপির তোলা মুসলিম তোষণের অভিযোগের মোকাবিলায় হিন্দু ভোট টানতে গত বছর রাজ্য কোষাগার থেকে ২৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে দিঘায় তৈরি ২১৩ ফুট উঁচু জগন্নাথ মন্দিরের উদ্বোধন করেন মমতা।
২০২১ সালে বিজেপি ৭০ শতাংশ হিন্দু ভোটের মধ্যে প্রায় ৪৫ শতাংশ পেয়েছিল। একটানা ১৫ বছর সরকারে থাকার কারণে দুর্নীতি এবং সুশাসনের বিষয়টিকে সামনে এনে বাংলাকে তার গৌরবময় দিনগুলিতে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে বিজেপি তাদের প্রচারে পরিবর্তনের উপর জোর দিয়েছে। অন্যদিকে, এই নির্বাচনকে দিল্লি-বিরোধী লড়াইয়ে পরিণত করেছেন, যেমনটি দেখা গিয়েছিল বাম জমানায়। বিজেপির ধর্মীয় মেরুকরণকে ভোঁতা করতে এবং শাসনতান্ত্রিক ব্যর্থতা থেকে নজর ঘোরাতে এসআইআর-বিরোধী প্রচারের পাশাপাশি বাঙালি অস্মিতাকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছেন তৃণমূল নেত্রী।
পরিবর্তন নাকি প্রত্যাবর্তন? আগামী দিনে রাজ্যের শাসনভার কোন দলের হাতে যাবে, তৃণমূল না বিজেপি, তা ৪ মে বেলা ১২টার মধ্যেই মোটামুটি স্পষ্ট হয়ে যাবে। যদি মমতা ক্ষমতায় ফিরে আসেন, তবে তা তাঁর রাজনৈতিক জীবনে এক কঠিন, উল্লেখযোগ্য জয় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। কারণ, নিজের চার দশকের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে এমন কঠিন পরিস্থিতির মোকাবিলা তাঁকে আগে কখনও করতে হয়নি। আর বিজেপি ক্ষমতায় এলে, তা রাজ্যের পটভূমিতে এক ঐতিহাসিক ঘটনা হয়ে থাকবে। কারণ, স্বাধীনতার পর এই বাংলায় ধর্মীয় মেরুকরণে বিশ্বাসী কোনও দল কখনও ক্ষমতায় আসেনি।



