হোমঅন্যান্যএ এক অন্য জামাই ষষ্ঠী! শতাধিক কনের ভিড়ে জমজমাট বাপে'র বাড়ি

এ এক অন্য জামাই ষষ্ঠী! শতাধিক কনের ভিড়ে জমজমাট বাপে’র বাড়ি

এ এক অন্য জামাই ষষ্ঠী! শতাধিক কনের ভিড়ে জমজমাট বাপে’র বাড়ি

জ্যৈষ্ঠ মাসের শুক্লপক্ষের ষষ্ঠী তিথিতে পালিত হয় জামাই ষষ্ঠী। জামাইয়ের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও মঙ্গল কামনা করেই এই বিশেষ ব্রত পালন করা হয়। যাদবপুরের বারো ভূতের মেলার মাঠ সংলগ্ন এলাকার মানুষ আজ এক অন্য জামাই ষষ্ঠীর সাক্ষী হয়ে রইলেন। এক বা দুজন নন, জামাইদের সঙ্গে নিয়ে বাপের বাড়িতে ভিড় করেছেন শতাধিক কনে। কেউ কেউ সঙ্গে নিয়ে এসেছেন সন্তানদেরও।

তবে এই কনেদের প্রত্যেকেই ধর্মান্তরিত। পারিবারিক নানা বিপর্যয়ের ধাক্কা সামলে আজ তাঁরা ধর্ম বদল করেছেন। বছরের এই একটি দিন তাঁরা এখানে ছুটে আসেন। হিন্দু সংস্কার মেনে পালন করা হয় যাবতীয় রীতিনীতি। জামাইদের আদর-আপ্যায়ন, উপহার দেওয়ার পাশাপাশি জামাইয়ের কপালে মা ষষ্ঠীর ফোঁটা এবং হাতে দেবী ষষ্ঠীর পুজো করা হলুদ মাখানো সুতো বেঁধে মেয়ে জামাইদের ঐশ্বর্য, মান, যশ এবং শ্রীবৃদ্ধি কামনা করা হয়। শাশুড়িরা জামাইয়ের কপালে দইয়ের ফোঁটা দিয়ে আশীর্বাদ করেন। মা ষষ্ঠীর কৃপা যেন জামাই ও মেয়ের সংসারের উপর বজায় থাকে, সেই প্রার্থনাই করেন শাশুড়িরা।

বিগত ৫ বছর ধরে এই ধরনের জামাই ষষ্ঠীর আয়োজন করে আসছেন পশ্চিমবঙ্গ হিন্দু সংহতির সভাপতি শান্তনু সিনহা। শান্তনুবাবুকেই এই কনেরা বাবা বলে ডাকেন। পেশায় আইনজীবী শান্তনুবাবু বললেন, এক মাস আগে থেকেই তাঁর কাছে মেয়েদের ফোন আসতে থাকে, চলে নানা আবদার।

বৈদিক শাস্ত্রে মা ষষ্ঠীর উল্লেখ না থাকলেও বাংলার মানুষের কাছে লোকদেবী তিনি । সন্তানের মঙ্গল, সুস্বাস্থ্য এবং দীর্ঘায়ুর জন্য বাংলার মায়েরা বিভিন্ন সময়ে ষষ্ঠী ব্রত পালন করেন। বিশ্বাস করা হয়, মা ষষ্ঠীর আশীর্বাদে সন্তান লাভ হয় এবং সন্তানের জীবনের নানা বাধা-বিপত্তি দূর হয়। তাই বছরের বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রূপে ষষ্ঠী পালনের রীতি আজও বাংলার সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

spot_img
spot_img

সবাই যা পড়ছেন

spot_img