রেল ব্যবস্থা জুড়ে পরিচ্ছন্নতা, স্বাস্থ্যবিধি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশগত স্থায়িত্বের প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে ‘স্বচ্ছতা পখওয়াড়া’র আওতায় আজ (০২.১০.২০২৬) দেশব্যাপী উদযাপনের অংশ হিসেবে পূর্ব রেলে ‘স্বচ্ছ ভারত দিবস’ পালন করা হয়। গান্ধী জয়ন্তীতে কলকাতার নারকেলডাঙায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে জাতির জনকের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার গীতিকা পাণ্ডে।
নারকেলডাঙা রেল কলোনির আরপিএফ ব্যারাকে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে গীতিকা পাণ্ডে রেলকর্মী ও আধিকারিকদের স্বচ্ছতা শপথ পাঠ করিয়ে পূর্ব রেল জুড়ে স্বচ্ছ ভারত দিবস উদযাপনের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন। এছাড়া তিনি নারকেলডাঙা রেল কলোনিতে শ্রমদান ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়ে একটি পরিচ্ছন্ন ও সবুজ রেল পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে কর্মীদের উদ্বুদ্ধ করেন।
এই উপলক্ষে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শ্রীমতী পাণ্ডে বলেন, “স্বচ্ছতা দিবস ও স্বচ্ছতা পখওয়াড়া পালনের মাধ্যমে আমরা মহাত্মা গান্ধীর আদর্শকে ছড়িয়ে দিচ্ছি, কারণ রাষ্ট্র গঠনে তিনি পরিচ্ছন্নতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছিলেন। সারা বছরের নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা উদ্যোগ ছাড়াও রেলওয়ে ২০২৬ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে স্বচ্ছতার জন্য বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে এবং তা অব্যাহত থাকবে।”
এদিন নারকেলডাঙা রেল কলোনির আরপিএফ ব্যারাকের ভিতরে একটি বায়োগ্যাস প্ল্যান্টেরও উদ্বোধন করেন তিনা। পাশাপাশি পূর্ব রেল মহিলা কল্যাণ সংস্থা (শিয়ালদহ) পরিচালিত ‘সৃজন কলা কেন্দ্র’ পরিদর্শন করেন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পূর্ব রেলের অতিরিক্ত জেনারেল ম্যানেজার শীলেন্দ্র প্রতাপ সিং; প্রিন্সিপাল চিফ ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার ধনেশ্বর মোহান্ত; প্রিন্সিপাল চিফ ইঞ্জিনিয়ার শ্রী বিক্রম গুপ্ত; প্রিন্সিপাল চিফ কমার্শিয়াল ম্যানেজার ড. উদয় শঙ্কর ঝা; প্রিন্সিপাল চিফ মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার পরমানন্দ শর্মা; আইজি তথা প্রিন্সিপাল চিফ সিকিউরিটি কমিশনার অমিয় নন্দন সিনহা; শিয়ালদহের ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার রাজীব সাক্সেনা এবং পূর্ব রেলের অন্যান্য প্রধান বিভাগীয় প্রধানগণ।
পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শিবরাম মাঝি বলেন, “স্বচ্ছ ভারত দিবস পরিচ্ছন্নতা, স্বাস্থ্যবিধি এবং পরিবেশগত সুরক্ষার প্রতি আমাদের সম্মিলিত অঙ্গীকারকে পুনরুজ্জীবিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। পূর্ব রেলওয়ে তার কর্মী, সাফাই মিত্র এবং অন্যান্য অংশীদারদের স্বচ্ছতা সংক্রান্ত বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করছে। ধারাবাহিক প্রচেষ্টা, সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং দায়িত্বশীল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আমরা আমাদের যাত্রীসাধারণ এবং সমাজের জন্য একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও পরিবেশবান্ধব টেকসই রেল ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি।”



