হোমPlot1পিংলার পটের গান

পিংলার পটের গান

পিংলার পটের গান

ডঃ বিকাশ পাল, লন্ডন
পিংলার পটের গান। এটা আমাদের লোক সংস্কৃতি। পিংলা আমাদের বিধানসভা। আমি যে গ্রামে জন্মেছি, তার নাম কিশমৎ রাজপুরা । আমার স্কুলের নাম মুকসুদপুর প্রাথমিক বিদ‍্যালয়। পাশের গ্রামের নাম মুকসুদপুর। দুটো নামের মধ‍্যেই একটা উর্দুর প্রভাব আছে। কিন্তু দুই গ্রামে এক ঘরও মুসলমান নেই।

পাশের গ্রামের নাম মহেশপুর, এক ঘরও হিন্দু নেই, সবাই মুসলমান। পর পর তিনটি গ্রাম কাঁসাই নদীর বাঁধ বরাবর। এঁরা বছরে দু একবার গান করেন স্থানীয় মেলা বা গ্রাম‍্য অনুষ্ঠানে। আমার ছোটবেলায় এই ধরনের মানুষকে আমাদের বাড়িতে এসে পটের গান শোনাতে দেখেছি। গানের শেষে এদের ৫০ পয়সা আর আধ সের চাল দিতে দেখেছি আমাদের বাড়িতে বা পাড়ায়।

১৯৬০ সালে একটি হিন্দি সিনেমা হয়েছিল – কোহিনুর । তাতে দিলীপকুমারের লিপে মহম্মদ রফির একটি গান ছিল। “মধুবন মে রাধিকা নাচেরে – গিরিধর কি মুরলিয়া বাজেরে।” সবই হিন্দি শব্দ। গান লিখেছিলেন শাকিব আলবাদুয়িনী, সুর দিয়েছিলেন নৌশাদ আলি। সকলেই মুসলমান কিন্তু বিষয়টা বৃন্দাবনে রাধাকৃষ্ণের প্রেম লীলার উপর।

পরের বছর (১৯৬১) রবিঠাকুরের শতবর্ষে বিমল রায়ের কাবুলিওয়ালা ছবিতে একটি গান ছিল।
“অ্যায় মেরে পেয়ারে ওয়াতন
অ্যায় মেরে বিছড়ে চমন,
তুঝপে দিল কুরবান”
সব উর্দু শব্দ, লিখেছেন প্রেম ধাওয়ান (ডেভিড ধাওয়ানের বাবা)। সুর করেছিলেন সলিল চৌধুরী। গেয়েছেন মান্না দে বলরাজ সাহানীর লিপে। এঁদের সকলের হিন্দু বাড়িতে জন্ম। বিষয়টা আফগানিস্তানের কাবুল থেকে আসা রহমত কাবুলিওয়ালার কলকাতার জীবন নিয়ে। গল্প রবিঠাকুরের। যে কোনও দেশের সংস্কৃতি সে দেশের মানুষের ধর্মের উপরে। কয়েক বছর আগে ইন্দোনেসিয়ায় দেখলাম মুসলমান মালিকের দোকানের নাম বাটিক যুধিষ্ঠিরা – মুসলমান ছেলেমেয়েরা জাভানী রামায়ণ নৃত‍্যনাট‍্য পরিবেশন করল। অনেক দাম টিকিটের। বেশ ভালো লেগেছিল।

  • লন্ডন-প্রবাসী ডঃ বিকাশ পাল ইম্পিরিয়াল কলেজের ফ্যাকাল্টি।
spot_img
spot_img

সবাই যা পড়ছেন

spot_img