হোমফিচারকবিগুরুর মুখোমুখি পণ্ডিতজি

কবিগুরুর মুখোমুখি পণ্ডিতজি

কবিগুরুর মুখোমুখি পণ্ডিতজি

তপন দাস

১৯৩৬ সাল শান্তিনিকেতনে কবি গুরুর সাথে দেখা করতে আসছেন পণ্ডিতজী। অমৃতবাজারের প্রধান আলোক চিত্রগ্রাহক তারক দাস ( আমার বাবা) এক জেলা পুলিশ অফিসারের কাছে খবর পেলেন একটা দারুণ ছবির সম্ভাবনার কথা। সন্ধের কিছু আগে নিউজ এডিটরকে ছুঁয়ে ট্রেন ধরে খুব রাতে নামলেন বোলপুর স্টেশনে। রাত কাটাতে হলো স্টেশনেই। পরের দিন সকালে সরাসরি পৌছলেন উত্তরায়নে। ভিতরে ঢুকতে বাধা পেলেন কালি মোহন ঘোষ ( সাগর ময় ঘোষের বাবা) বললেন ,এই রকম খবর তো নেই। বাবা বললেন আমি নিশ্চিত। আরো কয়েকজনের সাথে বাদানুবাদ চলাকালীন একটু চেঁচামেচি হতেই কবিগুরু নিজে ভিতরে যাবার অনুমতি দিলেন।যাঁরা কবিগুরু সাথে ছিলেন বললেন শম্ভু তো নেই (কবিগুরুর নিজস্ব চিত্রগ্রাহক যিঁনি কবি গুরুর যত ভাল ছবি দেখেন সেই সব ছবি শম্ভু সাহার তোলা)। কবিগুরুই বললেন ওকে ছবি তুলতে দাও। বাবা ট্রাইপড বসিয়ে (বাবা বলতেন তিন ঠাঙা) ফেললেন, ঘোমটা দেওয়া প্লেট বক্স ক্যামেরা। কিছুপরেই চলে এসেছেন পণ্ডিতজী।
বাবা চেয়ারটা একটু কাছে টেনে কবিগুরুর ঠিক সামনে বসালেন। ছবি তুলেছিলেন খান চারেক। ভীষণই কঠিন ছিল ঐ ক্যামেরায় ছবি তোলা। এই ছবিটি ছিল ওয়ার্ল্ড exclusive। তখন বাবা ফ্রিল্যনস চিত্র গ্রাহক ছিলেন পরে 1940 সালে স্টাফ হন। তখনকার দিনে ফ্রিল্যানসরা অনেক ঐতিহাসিক ছবি তুলেছেন। আজ কবিগুরুর জন্মদিনে দুজনের প্রতি আমার শ্রদ্ধার্ঘ।

spot_img
spot_img

সবাই যা পড়ছেন

spot_img