অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্ত স্পষ্ট করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুধুমাত্র নতুন আবেদনকারীরা নন, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের প্রাপকদেরও ফর্ম পূরণ করতে হবে। বুধবার নবান্নে এক সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কারা কারা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন, কারা পাবেন না, তা জানিয়ে দেন। তিনি জানান, ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ প্রকল্পে লক্ষ লক্ষ ‘বেনোজল’ মিশে রয়েছে। তাই অন্নপূর্ণা ভান্ডারের বিশুদ্ধ তালিকা তৈরি করাই সরকারের লক্ষ্য।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, অনলাইন বা অফলাইন, যেভাবেই ফর্ম ভর্তি করা হোক না কেন, বাড়ি বাড়ি গিয়ে যাবতীয় তথ্যের সত্যতা যাচাই করবেন সরকারি আধিকারিকরা।
রাজ্যবাসীর পরিবার সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্যও সরকার সংগ্রহ করছে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ১ জুন থেকে ৩ মাস ধরে ফর্ম ভর্তির প্রক্রিয়া চলবে। তাই ফর্ম ভর্তির জন্য তাড়াহুড়ো না করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। যতদিন না অন্নপূর্ণা যোজনা শুরু হচ্ছে, ততদিন ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ চলবে।
২ জুনের মধ্যে যাঁরা এই প্রকল্পে নাম নথিভুক্তি করাতে পারবেন, তাঁরা জুন মাস থেকেই পুরো টাকা অর্থাৎ ৩ হাজার টাকা করে পাবেন।
কারা কারা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন?
শুভেন্দু জানিয়েছেন, প্রকৃত ভারতীয় নাগরিক এবং আর্থিক ভাবে দুর্বল মহিলারা অন্নপূর্ণা যোজনার সঙ্গে যুক্ত হবেন। যাঁরা আয়কর দেন, যাঁরা সরকারি চাকরি করেন, নিয়মিত যাঁরা বেতন পান বা পেনশন পান, তাঁরা অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাবেন না। তা ছাড়া বাকি সকলকেই এই টাকা দেওয়া হবে।
সরকারি আধিকারিকেরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাঁদের ফর্ম পূরণে সহযোগিতা করবেন। এ ছাড়া, নব নির্বাচিত বিধায়কেরাও এই কাজে সহযোগিতা করবেন। আগামী ১৫, ১৬, ১৭ তারিখ জনকল্যাণ শিবির আয়োজিত হবে।
অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্মে কিছু পারিবারিক তথ্য বিশদে চাওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, এর মাধ্যমে নাগরিকদের পরিবার সংক্রান্ত তথ্যও সংগ্রহ করতে চায় সরকার, যাতে পরবর্তী সময়ে অন্যান্য সরকারি প্রকল্পে এই তথ্য ব্যবহার করা যায়। রাজ্য সরকারের মহিলা এবং শিশুকল্যাণ দফতর অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ন্ত্রণ করবে।
শুভেন্দু বলেন, “লক্ষ্ণীর ভান্ডার প্রকল্পে অনেক ‘বেনোজল’ রয়েছে। ভোটার তালিকা থেকে স্থায়ীভাবে নাম বাদ গিয়েছে এবং ট্রাইবুনালে আবেদন করেননি, এমন প্রায় ৩০ লক্ষ মানুষ লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা পাচ্ছেন। তাঁদের নাম বাদ দেওয়ার লক্ষ্যেই সকলকে অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম ভর্তি করতে হবে।
সিএএ-তে যাঁরা নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেছেন, তাঁরা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। এসআইআর-এ যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে কিন্তু ট্রাইবুনালে আবেদন করেছেন, তাঁদেরও আপাতত এই প্রকল্পের আওতায় রাখা হচ্ছে।



