হোমআন্তর্জাতিকগণতন্ত্রের নামে সেনা মোতায়েন কেন? প্রশ্ন দেশবাসীর

গণতন্ত্রের নামে সেনা মোতায়েন কেন? প্রশ্ন দেশবাসীর

গণতন্ত্রের নামে সেনা মোতায়েন কেন? প্রশ্ন দেশবাসীর

নয়ন বিশ্বাস রকি
আজ ২৩ জুন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী। যে দলটি মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়ে এই দেশ সৃষ্টি করেছে, যে দলের হাত ধরে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের জন্ম, সেই দলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি, আবেগ, শ্রদ্ধা, এটাই স্বাভাবিক ছিল।

কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এবার কোনও জোরালো কেন্দ্রীয় কর্মসূচি দেওয়া হয়নি। তবুও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তৃণমূল স্তরের নেতা-কর্মী, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে শ্রদ্ধা জানাতে চেয়েছেন। আর ঠিক তখনই প্রশ্ন জাগে, গণতান্ত্রিক সরকার যদি সেনাবাহিনী মোতায়েন করে, পুলিশ-সেনা-বিজিবি-বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ন দিয়ে রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে জনগণের কর্মসূচিতে বাধা দেয়, তাহলে দেশ ও বিশ্ববাসীর কাছে প্রশ্ন জাগে—এই দেশে কি আদৌ গণতন্ত্র আছে?

তারেক রহমানের সরকার ক্ষমতায় আসার আগে মুখে ছিল আইনের শাসন, গণতন্ত্র, মানবাধিকার, বাক স্বাধীনতার কথা। বিএনপির নেতারা বক্তৃতায় গণতন্ত্রের ফেরিওয়ালা সেজেছিলেন। অথচ ৭৭তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর দিনে সেই বয়ান কোথায় গেল?

ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে – যেখানে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি বিজড়িত বাড়ি রয়েছে – সেখানে শ্রদ্ধা জানাতে আসা সাধারণ মানুষকে বাধা দেওয়া হয়েছে। সাংবাদিকদের উপর হামলা হল। জামাত-শিবিরের ক্যাডারদের হামলায় ৬-৭ জন সাংবাদিক আহত। এটাই কি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা? এটাই কি রাষ্ট্রের চরিত্র?

চেকপোস্ট আর হয়রানির রাজনীতি
রাজধানী থেকে জেলা-উপজেলা – সব জায়গায় চেকপোস্ট। মানুষকে তল্লাশি, হয়রানি, গ্রেফতারের ভয় দেখানো। আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে গণ গ্রেফতার চলছে। অথচ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা নাশকতা করেননি। কারণ এই দেশকে তাঁরা সৃষ্টি করেছেন। দেশের সম্পদ রক্ষা করাই তাঁদের সংকল্প।

জনগণ আজ পাল্টা প্রশ্ন করছে: আওয়ামী লীগ যদি সত্যিকার অর্থে মাঠে নামে কর্মসূচি দেয়, তাহলে কি ন্যাটো সদস্য আনবে সরকার? নাকি জাতিসংঘ থেকে শান্তিরক্ষা বাহিনী ডেকে আনবে? গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নিজ দেশের নাগরিকের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি ঠেকাতে সেনা নামানো, বিজিবি দিয়ে বর্ডার গার্ড মোতায়েন—এটা কোন গণতন্ত্রের নমুনা?

মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির অঙ্গীকার
আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের নেতা-কর্মী আজও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তাঁরা জানেন, এই দেশ তাঁদের। বঙ্গবন্ধুর রক্তে কেনা এই স্বাধীনতা তাঁরা নষ্ট হতে দেবেন না। মিথ্যা মামলা, গ্রেফতার, হয়রানি দিয়ে ইতিহাস মুছে ফেলা যায় না।

গণতন্ত্রের নামে যারা সেনা মোতায়েন করে, তারা আসলে নিজেদের ভয়টাই প্রকাশ করে। জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত আবেগকে ভয় পায়। কারণ তারা জানে, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি যতদিন বেঁচে আছে, ততদিন বাংলাদেশের মূল্যবোধ মরবে না।

আজকের দিনে দাঁড়িয়ে রাষ্ট্রের কাছে আমাদের প্রশ্ন: গণতন্ত্র মানে কি শুধু নির্বাচন? নাকি মত প্রকাশের স্বাধীনতা, শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকারও গণতন্ত্রের অংশ? যদি গণতান্ত্রিক সরকারই সেনা দিয়ে জনগণকে দমানোর চেষ্টা করে, তাহলে ইতিহাস একদিন জবাব দেবেই।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭৭ বছরের পথচলা সাক্ষী – এই দল জনগণের দল, মুক্তিযুদ্ধের দল। হয়রানি করে, সেনা নামিয়ে সেই ইতিহাস মুছে ফেলা যাবে না।

  • নয়ন বিশ্বাস রকি প্রাক্তন ছাত্রলীগ নেতা, সমাজসেবক ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের কর্মী
spot_img
spot_img

সবাই যা পড়ছেন

spot_img