হোমআন্তর্জাতিক"যতই দমন-পীড়ন চলুক, রাজপথের দখল ছাড়ব না"

“যতই দমন-পীড়ন চলুক, রাজপথের দখল ছাড়ব না”

“যতই দমন-পীড়ন চলুক, রাজপথের দখল ছাড়ব না”

প্রাইমা হোসেন
চূড়ান্ত বিজয় না আসা পর্যন্ত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সর্বস্তরের মানুষের শান্তিপূর্ণ গণআন্দোলন চলবে। এটা কোনও স্লোগান নয়, এটা শপথ। এটা ৩০ লাখ শহীদের রক্তে কেনা প্রতিজ্ঞা।

মিথ্যা মামলা-হামলায় আন্দোলন থামবে না
ইতিহাস সাক্ষী, মামলা-হামলা-নির্যাতন দিয়ে জনগণের ন্যায্য আন্দোলন কখনও দমিয়ে রাখা যায়নি। যারা আজ মিথ্যা মামলা দিয়ে, হয়রানি করে কর্মীদের ভয় দেখাতে চায়, তাদের শুভবুদ্ধি উদয় না হলে ভবিষ্যতের পরিণতি তাদেরই ভোগ করতে হবে। ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করে না। জনগণ সব দেখছে। নিজের চোখে দেখছে, নিজের বিবেক দিয়ে বিচার করছে।

২৩ জুনের ‘নাটক’ ও মনোবলের পাল্টা জবাব
গত ২৩ জুন সরকার যাকে ‘নাটক’ হিসেবে সাজিয়েছিল, তার উদ্দেশ্য ছিল একটাই – আওয়ামী লীগের তৃণমূল-স্তরের কর্মী-সমর্থকদের মনে ভয় ঢুকিয়ে দেওয়া, তাদের মনোবল ভেঙে দেওয়া। কিন্তু বাস্তবে হয়েছে উল্টো। দমন-পীড়ন যত বেড়েছে, রাজপথের মানুষের মনোবল তত শক্তিশালী হয়েছে। ভয় দেখিয়ে আন্দোলন থামানো যায় না, ভয় কাটিয়ে মানুষ আরও ঐক্যবদ্ধ হয়।

বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগ
গতকালও গ্রেপ্তারের একদিন পর মারা গেছেন চট্টগ্রাম সাতকানিয়া উপজেলার ঢেমশা ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল আলম, আজ বুধবার সাড়ে সাতটার দিকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে হাসপাতালে নেওয়া হলে মৃত্যু হয় তাঁর। পুলিশি হেফাজতে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগ যদি সত্য হয়, তবে তা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। কোনও রাষ্ট্রে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার কারও নেই। এই ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। রক্তের দাগ মুছে ফেলা যায় না।

১৯৭১-এর চেতনা ভুললে চলবে না
১৯৭১ সালে জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সাথে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এদেশে গণহত্যা, লুণ্ঠন ও নারী নির্যাতন চালিয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশে সেই অপশক্তির পুনর্বাসন কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে সুপরিকল্পিতভাবে, শান্তিপূর্ণভাবে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। বিভেদ নয়, ঐক্য। প্রতিশোধ নয়, ন্যায়বিচার।

আজকের আন্দোলন কারও ক্ষমতার জন্য নয়, এই আন্দোলন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, গণতন্ত্র ও মানুষের ভোটের অধিকার রক্ষার জন্য। যত মামলা হোক, যত হামলা হোক, চূড়ান্ত জয় না আসা পর্যন্ত রাজপথ ছাড়ব না। জনগণের আদালতে একদিন সব হিসাব দিতে হবে। সেদিন খুব দূরে নয়।

  • প্রাইমা হোসেন বিশিষ্ট সমাজসেবিকা, সংগঠক ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের কর্মী
spot_img
spot_img

সবাই যা পড়ছেন

spot_img