হোমসাহিত্য-সংস্কৃতিঅণু গল্প : গ্যালারি টু হোয়াটসআপ

অণু গল্প : গ্যালারি টু হোয়াটসআপ

অণু গল্প : গ্যালারি টু হোয়াটসআপ

দেবদাস কুণ্ডু

— গোপালদা ডি. ও. আসবেন না?
—- ফোন করেন।
ফোন করলাম।
— রিং হলো। ধরল না।
— কিছু থাকলে আমারে দিয়া যান।
নতুন প্রোপোজাল ফর্ম ও চেক দিয়ে নিচে এলাম।

এখন ডিসেম্বর মাস। বাড়ি মানে ঘুম। কাগজ পড়া মানে খুন ধর্ষণ, দাঙ্গা। এলাম সেন্ট্রাল পার্কে।
বিরাট মেলা। কিন্তু ফাঁকা। হঠাৎ চমকে উঠলাম।
এখানে রামকৃষ্ণ? নিখুঁত রামকৃষ্ণ। আমি ছবি তুললাম। দিলাম দশ টাকা। টাকায় ভরে গেছে পাত্র।

বাড়ি এসে রিনাকে ছবিটা দেখালাম। ভেবেছিলাম প্রশংসা পাবো। রিনা রামকৃষ্ণের বড় ভক্ত। তা হল না। নির্বিকার গলায় রিনা বলল- হয়নি।
–কি হয়নি?
–রামকৃষ্ণ।
–কেন?
–রামকৃষ্ণের বাঁ হাতের মধ্যমা, অনামিকা আর বৃদ্ধা আঙুল ভাঁজ করা। কনিষ্ঠ আর তর্জনী আঙুল খোলা। এনার কনিষ্ঠ আঙুল ভাঁজ করা।
—আর কিছু?
—-ঠাকুরের গায়ে জামা ছিল। এনার খালি গা।
—-এ ছাড়া?
—-ঠাকুরের কাপড়টা আরও নামানো ছিল। এনারটা কত উপরে উঠে গেছে দেখ।
—-দেখলাম। অন্য কিছু অমিল?
রিনা কিছুক্ষণ চুপ করে থাকে।

–কি হল বল আর কোন ত্রুটি?
—ঠাকুরের ডান হাত ছিল বুকের কাছে। এনার ডান হাত পেটের কাছে।
—আর কি অমিল আছে?
রিনা আবার ছবিটা দেখল। বলল—ঠাকুরের ডান পায়ের পাতা ছিল সোজা। বাঁ পাযের পাতা একটু বাঁদিকে বাঁকা। এনার কিন্তু উল্টো।
—আর কিছু?
—ঠাকুরের মাথায় এত চুল ছিল না।
—–আর কিছু ভুল?
——আসল জিনিসটা তো নেই।
—–কি সেটা?
—–কল্পতরুর দিন ঠাকুরের মুখে ছিল স্বর্গীয় হাসি। সেটাই তো নেই।
—-এরপরও কি-1-

—- ঠাকুরের দুটি দাঁত ছিল না। এনার সবকটা আছে।
—–খুঁতগুলি বাদ দাও। এই সময় উনি যে রামকৃষ্ণ সেজেছেন, এটাই তো বড় কথা।
— উনি টাকা আয় করতে সেজেছেন।
—-অন্য কিছু তো সাজতে পারতেন? তা না করে রামকৃষ্ণ সাজলেন কেন? একবার ভেবেছো?
—- এটা ওনার প্রফেশন।
— হতে পারে। কিন্তু তুমি এই সময়টার কথা ভাবো। যখন কাগজে রোজ দাঙ্গা…
রাতে শোবার আগে রিনা বলল – – – তুমি ছবিটা গ্যালারি থেকে আমার হোযাটসআপে পাঠিয়ে দাও।

spot_img
spot_img

সবাই যা পড়ছেন

spot_img