হোমরাজ্যএকটানা দীর্ঘক্ষণ কম্পিউটারে কাজ করেন? বড় ক্ষতি থেকে চোখকে বাঁচাবেন কী...

একটানা দীর্ঘক্ষণ কম্পিউটারে কাজ করেন? বড় ক্ষতি থেকে চোখকে বাঁচাবেন কী করে?

একটানা দীর্ঘক্ষণ কম্পিউটারে কাজ করেন? বড় ক্ষতি থেকে চোখকে বাঁচাবেন কী করে?

purnendu vikas sarkarপূর্ণেন্দু বিকাশ সরকার, বিশিষ্ট চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ

অয়ন সেনগুপ্ত। বছর ত্রিশের ঝকঝকে তরুণ। সল্টলেকের সেক্টর ফাইভের একটি নামী তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থায় কাজ করছে অত্যন্ত সুনাম ও দক্ষতার সঙ্গে। দিনের মধ্যে প্রায় ১২ থেকে ১৩ ঘণ্টা কম্পিউটারের সামনে বসে থাকতে হয়। চোখে তেমন কোনও সমস্যা নেই। নেই কোনও চশমাও। কিন্তু সে পড়েছে চোখ নিয়ে চূড়ান্ত বেকায়দায়। দিন দিন কাজের উৎসাহে ভাটা পড়ছে, বেড়ে যাচ্ছে টেনশন। দিনের প্রথম দিকে তার কাজ করতে কোনও অসুবিধা হয় না। কিন্তু বেলা যতই বাড়তে থাকে শুরু হয় ঝামেলা। প্রথমে চোখ একটু শুকনো ভাব, তারপর শুরু হয় কড়কড় করা আর শেষে টিসটিসে মাথার যন্ত্রণা। কাজ করবার ইচ্ছাটাই তখন কমে যায়। বাড়ি ফিরে প্রিয়জনদের সঙ্গ, ম্যাগাজিনের পাতা ওল্টানো বা টিভি দেখা কিছুই ভালো লাগে না। তার উপরে রাতে ঘুমের ব্যাঘাত। অনেক রাত পর্যন্ত ছটফট করে ভোরের দিকে একটু ঘুম আসতে না আসতেই পরের দিন অফিসে ছোটা।

অয়ন যখন আমার চেম্বারে বসে তার চোখের সমস্যাগুলো বলছে, তখনই মনে হয়েছিল, সে নিশ্চয়ই ‘কম্পিউটার ভিশন সিনড্রোমে’ (Computer Vision Syndrome) ভুগছে। কম্পিউটার ভিশন সিনড্রোম আসলে চোখের কতকগুলি সমস্যার সমষ্টিগত প্রকাশ, যার মূল কারণ কম্পিউটারের মনিটরের দিকে দীর্ঘক্ষণ তাকিয়ে থাকা। তথ্য ও প্রযুক্তি বিজ্ঞানের ক্রমবর্ধমান উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে কম্পিউটারের ব্যবহারও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

জীবনের প্রায় সমস্ত ক্ষেত্রেই আমরা এই ছোট্ট যন্ত্রটির উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা মনিটরের সামনে বসে কাজ করার ফলে এক ধরনের চোখের অস্বস্তি ও ব্যথা শুরু হতে থাকে, যা পরবর্তীকালে যথেষ্ট উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। যাদের দীর্ঘক্ষণ কম্পিউটার মনিটরের দিকে তাকিয়ে থাকতে হয়, তাদের শতকরা ৫০ থেকে ৮০ শতাংশ কম্পিউটার ভিশন সিনড্রোমের কবলে পড়েন।

অয়ন জানতে চাইল এই কম্পিউটার ভিশন সিনড্রোমের লক্ষণগুলি কী কী? অর্থাৎ কীভাবে বোঝা যাবে যে, কম্পিউটার ব্যবহারের জন্যেই চোখের সমস্যা হচ্ছে?

তার আগে বুঝতে হবে, কম্পিউটার ভিশন সিনড্রোম কেন হয়? আমাদের চোখের কর্নিয়ার উপরে টিয়ার ফিল্ম (Tear Film) নামে এক ধরনের তরল পদার্থের আবরণ থাকে, যা কর্নিয়াকে সবসময় ভিজিয়ে রাখে আর বাইরের ধুলোবালি, হাওয়া বা আঘাত থেকে রক্ষা করে। চোখের পাতা ওঠানামা করবার ফলে এই তরল আবরণটা কর্নিয়ার উপর সমানভাবে ছড়িয়ে থাকে। কোনো কারণে টিয়ার ফিল্মের এই আবরণটা শুকিয়ে গেলে কর্নিয়া হাওয়ার সংস্পর্শে এসে ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে।

সাধারণত আমরা মিনিটে ১০ থেকে ১২ বার চোখের পাতা ফেলি। কিন্তু আমরা যখন একমনে কম্পিউটার মনিটরের দিকে তাকিয়ে কাজ করি, তখন চোখের পাতা মিনিটে ৫-৬ বারের বেশি ওঠানামা করে না এবং এর ফলেই কর্নিয়ার উপরের টিয়ার ফিল্ম (Tear Film) শুকিয়ে যায়। তখনই শুরু হয় চোখের জ্বালাভাব, ব্যথা, খচখচ করা।

আবার বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কম্পিউটার ব্যবহারকারীরা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে বসে কাজ করেন। এই ধরনের পরিবেশে বাতাসে আদ্রর্তা বা জলীয়বাষ্পের পরিমাণ অনেক কম থাকে। তার ফলেও চোখের টিয়ার ফিল্ম সহজেই শুকিয়ে যেতে পারে। এই জন্য মনিটরের সামনে দীর্ঘক্ষণ কাজ করার ফলে কিছুদিন পরেই চোখের অস্বস্তি শুরু হয়। কাজ করতে অসুবিধা, অনীহা, বিরক্তিভাব ইত্যাদি দিন দিন বৃদ্ধি পায়। এতে শুধুমাত্র কাজের উৎকর্ষ ও মানই কমে যায় না, কিছুদিন পরে চোখের ও শরীরের নানাবিধ জটিলতা শুরু হয়।

এতটা বলার পরে একটু থামতে হল। কফির মগটা টেনে নিয়ে দীর্ঘ চুমুক দিয়ে গলাটা একবার ভিজিয়ে নিলাম। এবার অয়নের প্রশ্নটার উত্তরে বলতে শুরু করলাম, “এক্ষেত্রে মনিটরের পর্দায় বেশিক্ষণ তাকিয়ে থাকা যায় না। কিছুক্ষণ কাজ করার পরে দূরের দিকে তাকালে সবকিছু ঝাপসা লাগে। চোখে জ্বালাভাব, চুলকানি, খচখচ করার সঙ্গে সঙ্গে চোখ শুকনো লাগে, মনে হয় চোখের মধ্যে বালি বা ওই জাতীয় কিছু ঢুকেছে। ভুরু ও কপালে দপদপে ব্যথা হয়। এ ছাড়া ঘাড় ও মাথা ব্যথা, বমিবমি ভাব এমনকী অনিদ্রা এবং বদহজমও হতে পারে।”

অয়ন একমনে আমার কথাগুলো শুনছিল। বুদ্ধিমান ছেলে। বুঝতে পারল তার চোখের সমস্যার মূলটা কোথায়। এরপরে সে যে প্রশ্নটা করল তা অত্যন্ত জরুরি। বলল, “কিন্তু আমার যা পেশা তাতে কম্পিউটারকে বাদ দিয়ে তাতো চলতেই পারে না। সেক্ষেত্রে এই ঝামেলা থেকে মুক্তির উপায় কী?”

কম্পিউটার নিয়ে যাদের নিয়মিত কাজ করতে হয়, তাদের কতকগুলি জিনিস জেনে রাখা দরকার। পেশাগত কারণে কম্পিউটারকে ব্রাত্য করে রাখা আজ আর কারও পক্ষে সম্ভব নয়। কিন্তু কয়েকটি নিয়ম ও কিছু সতর্কতা মেনে চললে ভবিষ্যতের অনেক জটিলতার হাত থেকে সহজেই মুক্তি পাওয়া যায়। প্রথমেই দেখে নেওয়া যাক কম্পিউটার ব্যবহারজনিত চোখের সমস্যার অন্য কারণগুলি কী কী।

১. মনিটর থেকে চোখের দূরত্ব।
২. চোখের সঙ্গে মনিটরের কৌণিক অবস্থান।
৩. মনিটরের পর্দার প্রতিবিম্বের ঔজ্জ্বল্য।
৪. প্রতিবিম্বের আকার ও কনট্রাস্ট (Contrast)।
৫. প্রেক্ষাপট এবং প্রতিবিম্বের রঙের সামঞ্জস্য।
৬. কম্পিউটার স্ক্রিনের রেজলিউশন, স্ক্রিন ফোকাস ইত্যাদি।
৭. ঘরের পারিপার্শ্বিক আলোর উজ্জ্বলতা।
৮. ঘরের শীতাতপ-নিয়ন্ত্রিত যন্ত্র।

তা হলে বোঝা গেল শুধুমাত্র একটানা মনিটরের দিকে তাকিয়ে থাকা ছাড়াও আরও কিছু কারণ আছে এই কম্পিউটর ভিশন সিনড্রোমের পিছনে। কিন্তু এগুলির থেকে প্রতিকারের উপায় কী? অয়নের জিজ্ঞাসা। একটু ভেঙেই বললাম, “উপরের কারণগুলির মধ্যে কয়েকটিকে আমরা নিজেরাই নিয়ন্ত্রণ করতে পারি কিন্তু কয়েকটি কম্পিউটার হার্ডওয়্যারের (Hardware) সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত।”

মনিটরটকে চোখ থেকে সঠিক দূরত্বে রাখুন
মনিটরটিকে ২২ থেকে ৩০ ইঞ্চির মধ্যে রাখলে সবচেয়ে ভালভাবে দেখতে পান। আপনার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট দূরত্বটি জানবেন কী করে? মনিটরটিকে ২০ ইঞ্চি দূরে রাখুন এবং ২০ মিনিট কাজ করুন। এরপর এটিকে আরও ১ ইঞ্চি পিছিয়ে দিন এবং ২০ মিনিট কাজ করুন এভাবে সামান্য আগে পিছে করে দেখুন কোন দূরত্বে মনিটরটিকে রাখলে আপনার চোখ সবচেয়ে আরাম পায়।

পর্দায় প্রতিবিম্বের আকার নিয়ন্ত্রণে রাখুন
চোখ থেকে মনিটরের দূরত্ব যত বাড়বে প্রতিবিম্বের আকার ততই বড় হওয়া দরকার। এক্ষেত্রে একটা বাস্তব অসুবিধা হল প্রতিবিম্বের আকার যত বড় হয় কম্পিউটারের পর্দায় প্রয়োজনীয় তথ্যের পরিমাণ ততই কমে যায়। এটি কম্পিউটার ব্যবহারকারীর পক্ষে খুবই অসুবিধাজনক।

কম্পিউটারের সমান্তরাল অবস্থান ঠিক রাখুন
কম্পিউটারের সমান্তরাল অবস্থান কীভাবে নির্ণয় করবেন ? মনিটরের উপরিতলের এক বিন্দুর সঙ্গে আপনার দুই ভুরুর মাঝামাঝি কোনও বিন্দুর মধ্যে একটি কাল্পনিক রেখা টানুন। মনিটরটিকে এই কাল্পনিক রেখার নীচে রাখা উচিত যাতে করে ৫ থেকে ১০° কোণ (angle) সৃষ্টি করে।

মনিটরের ঔজ্জ্বল্য ও কনট্রাস্ট নিয়ন্ত্রণে রাখুন
সাধারণত উচ্চ কনট্রাস্ট এবং মাঝারি ধরনের ঔজ্জ্বল্য চোখের পক্ষে সবচেয়ে আরামদায়ক হয়।

পারিপার্শ্বিক আলোর ব্যবহার
কম্পিউটারে কাজ করবার সময় আমরা সাধারণত ঘরের বা পারিপার্শ্বিক আলো ও তার উজ্জ্বলতা বিষয়ে মাথা ঘামাই না। এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং এদিকে যথেষ্ট মনোযোগ দেওয়া দরকার। দরজা বা জানালা দিয়ে আসা প্রাকৃতিক আলো নিঃসন্দেহে সর্বাপেক্ষা ভাল। কৃত্রিম আলোর ক্ষেত্রে উচ্চকম্পাঙ্কের ফ্লুরোসেন্ট লাইট বা সাধারণ ফিলামেন্ট বালব ব্যবহার করা উচিত। ঘরের আলো হবে মৃদু এবং সবদিকে সমানভাবে পড়া উচিত।

কাজের সময় মাঝে মাঝে বিরতি নিন
২০ মিনিট বাদে বাদে মনিটর থেকে চোখ সরিয়ে নিন। দুরের কোনও লক্ষ্যবস্তুর দিকে কয়েক সেকেন্ড দৃষ্টি নিবদ্ধ রাখুন। ২০ মিনিট অন্তর কাজের চেয়ার ছেড়ে উঠে পড়ুন। ঘাড় ও পিঠ টানটান করে আড়মোড়া ভাঙুন। ঘাড় ঘুরিয়ে এদিক ওদিক তাকান। এই প্রক্রিয়াটিকে বলা হয় ২০-২০-২০ ফরমুলা।

একটানা এত কথা শুনে অয়ন বোধহয় একটু ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল। নার্স মানসী আমাদের জন্য আবার কফি নিয়ে এসেছে। তাতে একটা দীর্ঘ চুমুক দিয়ে অয়ন একটু চনমনে হয়ে উঠল। জিজ্ঞাসা করল, ‘আচ্ছা এই কম্পিউটার ভিশন সিনড্রোমের সঙ্গে চশমার কি কোনও সম্পর্ক আছে?’

‘অবশ্যই আছে। কম্পিউটার ব্যবহার করবার আগে চোখের দৃষ্টিশক্তি যথাযথভাবে পরীক্ষা করিয়ে প্রয়োজন মতো সঠিক পাওয়ারের চশমা পরা দরকার। চশমার পাওয়ার ও মাপ নির্ভুল না হলে কম্পিউটার ভিশন সিনড্রোমের উপসর্গগুলির উৎপাত শুরু হয়ে যায়। জেনে রাখা দরকার যে, কম্পিউটার ব্যবহারকারী, বিশেষ করে যারা তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পের সঙ্গে যুক্ত, তাদের চোখের পাওয়ার অল্প হলেও তা থেকে কম্পিউটার ভিশন সিনড্রোম শুরু হতে পারে।

এক্ষেত্রে আপনারা কোনও ওষুধ বা আই-ড্রপ ব্যবহার করতে পরামর্শ দেন কি? অয়নের পরের প্রশ্ন। বললাম, “অবশ্যই। আমি আগেই বলেছি কর্নিয়ার উপরকার টিয়ার ফিল্ম শুকিয়ে যাওয়া এই সিনড্রোমের অন্যতম কারণ। সেজন্য কৃত্রিম চোখের জল বা artificial tear-এর ব্যবহারে যথেষ্ট উপকার পাওয়া যায়। চিকিৎসকের পরামর্শমতো বিশেষ ধরনের কৃত্রিম চোখের জল বা আইড্রপ ব্যবহার করা দরকার। আর এই আইড্রপগুলি কম্পিউটারে কাজের সময় লাগানোই সবচেয়ে ভাল।

‘কিন্তু আই-ড্রপ চোখে লাগানোর পরে কেমন করে কাজ করব? চোখ তো ঝাপসা হয়ে যাবে।’ অয়নকে আশ্বস্ত করে জানালাম যে, artificial tear জাতীয় আইড্রপগুলির ব্যবহারে ঝাপসা হয় না, সঙ্গে সঙ্গেই স্বাভাবিকভাবে কাজকর্ম শুরু করা যায়। এবং এই ধরনের ড্রপ অনেকদিন ধরেই ব্যবহার করা চলতে পারে। এছাড়া কম্পিউটার ব্যবহারকারীকে চোখের পাতা ওঠানামা বিষয়টিকে খেয়াল রাখতে হবে এবং কাজের ফাকে ফাকে ঘন ঘন চোখের পাতা ফেলতে হবে।

কর্মক্ষেত্রে অত্যধিক টেনশন বা মানসিক চাপ নানারকম সমস্যার সৃষ্টি করে। মনকে কিছুটা চাপমুক্ত রাখবার চেষ্টা করা দরকার। অনেকে এজন্য ধূমপান করে থাকেন। বলাই বাহুল্য যে, এর ফলে কোনো লাভ তো হয়ই না, বরং জটিলতা আরও বেড়ে যায়। কাজের সময় খুব মৃদু শব্দে নিজের পছন্দের গান বা যন্ত্রসংগীত শোনা কারও কারও মতে টেনশন কমাতে সাহায্য করে। এছাড়া মাঝে মাঝে দুই হাতের তালু দিয়ে চোখদুটিকে ঢেকে চোখের পাতার উপর আলতোভাবে ম্যাসাজ করলে চোখের ক্লান্তি কিছুটা দূর হয়। এই পদ্ধতিটাকে বলা হয় পামিং (palming)।

মনে হল আমার কথায় অয়ন কিছুটা ভরসা পেয়েছে। অন্তত এটুকু বুঝেছে যে কম্পিউটার ভিশন সিনড্রোম তেমন মারাত্মক কোনও চোখের অসুখ নয়। দরকার শুধুমাত্র একটু সচেতনতা ও সতর্কতা। আর অবশ্যই সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া।

অয়নের বোধহয় অফিসের সময় হয়ে গেছে। আমাকে ধন্যবাদ জানিয়ে উঠে পড়ল। বললাম, “যাবার আগে একটা কথা বলে রাখি অয়ন, অফিসকে বাড়িতে আনবেন না। অর্থাৎ অফিসের কাজ এবং টেনশন অফিসেই থাক। আর বাড়িটা হোক আপনার নিজের জগত।” স্মিত হাসিতে আমাকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে অয়ন ফিরে গেল।

spot_img
spot_img

সবাই যা পড়ছেন

spot_img