হোমPlot1দিল্লি-ঢাকার সম্পর্ক অত্যন্ত মজবুত, 'বয়কট ভারত' স্লোগানে কাজ হবে না: শ্রিংলা

দিল্লি-ঢাকার সম্পর্ক অত্যন্ত মজবুত, ‘বয়কট ভারত’ স্লোগানে কাজ হবে না: শ্রিংলা

দিল্লি-ঢাকার সম্পর্ক অত্যন্ত মজবুত, ‘বয়কট ভারত’ স্লোগানে কাজ হবে না: শ্রিংলা

দার্জিলিংয়ের সঙ্গে তাঁর শিকড়ের যোগ। বাবা হিন্দু, মা বৌদ্ধ। সিকিমি এই সন্তানের নাম রাখা হয়েছিল হর্ষবর্ধন শেরিং লা। পরে মুম্বইয়ের স্কুল সেই পদবি পাল্টে করে দেয় শ্রিংলা। সম্প্রতি সাংবাদিক ও গবেষক প্রতিম রঞ্জন বসুর সঙ্গে একটি পডকাস্টে যোগ দিয়েছিলেন ভারতের প্রাক্তন বিদেশ সচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলা। সেখানে প্রতিবেশী বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিদেশ নীতি, আন্তর্জাতিক রাজনীতি নিয়ে খোলামেলা মতামত জানিয়েছেন শ্রিংলা।

প্রথাগতভাবে রাজনীতিবিদ বলতে যা বোঝায়, নিজেকে এখনই সেই পর্যায়ের রাজনীতির জগতের মানুষ হিসেবে ভাবতে চান না হর্ষবর্ধন শ্রিংলা। তবে তাঁর নিজের সংস্থা ‘দার্জিলিং ওয়েলফেয়ার সোসাইটি’র মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সেবা করে যেতে চান তিনি।

বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভারতের সাফল্যের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্ব এবং দূরদৃষ্টির  ভূয়সী প্রশংসা করেন প্রাক্তন এই কূটনীতিক। মোদির সুদক্ষ নেতৃত্বের জন্যই ভারতের অগ্রগতি ও রূপান্তর সম্ভব হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। কৌশলগত দিক থেকে শিলিগুড়িকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ করিডর হিসেবে মনে করেন তিনি। তাঁর কথায়, “বাংলাদেশ, ভুটান ও নেপাল, এই তিনটি বিদেশি রাষ্ট্রের সীমান্তের সঙ্গে শিলিগুড়ির সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে। এছাড়া সিকিমের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে চিন সীমান্ত। তাই শিলিগুড়ির গুরুত্ব অপরিসীম।” তাই কৌশলগত গুরুত্বের কথা মাথায় রেখে একে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে স্বীকৃতির প্রস্তাব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবে এখানকার উন্নয়নের উদ্যোগ মার খেয়েছে।

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে তিনি বলেন, “এই সম্পর্ক বর্তমানে অত্যন্ত সন্তোষজনক অবস্থায় রয়েছে এবং প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে এই সম্পর্ককে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।” এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে, এক সময় বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কে চিড় ধরতে শুরু করেছিল। কিন্তু সেই সম্পর্ক মসৃণ করার পথে সফল ভূমিকা পালন করেন এই হর্ষবর্ধনই।

প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রে মোদির ‘প্রতিবেশী সর্বাগ্রে’ নীতির উল্লেখ করে হর্ষবর্ধন বলেন, “ভারতের উন্নয়ন ও অগ্রগতির সঙ্গে জড়িয়ে প্রতিবেশীরাও। প্রতিবেশীদের সঙ্গে নিয়েই ভারত এগোতে চায়। প্রতিবেশীদের বিকাশ হলে, তবেই উন্নতি হবে, বলেন হর্ষবর্ধন।”

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অতিমারীর সময় টিকা সরবরাহ, বাণিজ্যিক লেনদেন, পেঁয়াজ রপ্তানির ওপর রফতানি প্রত্যাহার প্রভৃতির ফলে বাণিজ্যিক সুবিধা পাচ্ছে সব দেশই। শ্রিংলা বলেন, “বিদ্যুতের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়বে। সমুদ্রের তলদেশ দিয়ে  বৈদ্যুতিক তার পাতার কাজ সম্পন্ন হলে, শ্রীলঙ্কায়  বিদ্যুৎ সমস্যার দীর্ঘস্থায়ী সমাধান হবে।”

বাংলাদেশ ও মালদ্বীপে ‘বয়কট ভারত’ প্রচার সম্পর্কে শ্রিংলা বলেন, “সম্পর্কের ভিত্তি এতটাই মজবুত যে, এই স্লোগান তাতে ব্যাঘাত ঘটাতে পারবে না।” এই সূত্রে তিনি আরও বলেন, “দুই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও শেখ হাসিনা পরস্পরের সঙ্গে খুবই ভালো সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন, যাকে দুই দেশের সম্পর্কের সোনালি অধ্যায় হিসেবে গণ্য করা হয়ে থাকে। পর্যটন, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার ক্ষেত্রে দুই দেশের একাত্মতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “দুই দেশের মানুষের মধ্যে অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। তাঁদের দৃষ্টিভঙ্গিও ইতিবাচক।”

২০১১ সালে গৃহযুদ্ধ-বিধ্বস্ত শ্রীলঙ্কায় ৫০ হাজার আবাসন প্রকল্প তৈরির কাজ শুরু করেছিল ভারত। সেসময় বিদেশমন্ত্রী ছিলেন এস এম কৃষ্ণা। তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির ওঠে। পদত্যাগ করতে বাধ্য হন কৃষ্ণা। কিন্তু শ্রিংলার জন্যই এই বিতর্ক বেশিদূর গড়াতে পারেনি। সাফল্যের সঙ্গে তিনি ওই প্রকল্পের কাজও শেষ করেন।

ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কেও উল্লেখযোগ্য সাফল্য এসেছে বলে মনে করেন শ্রিংলা। তাঁর কথায়, “মার্কিন সংস্থাগুলি ভারতে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ করতে শুরু করেছে। দুই দেশের বোঝাপড়া এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, সেখানে সরকার বদল হলেও, তার কোনও প্রভাব পড়বে না।”

সামুদ্রিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে পশ্চিম ভারত মহাসাগর এবং এমনকি পূর্ব ভারত মহাসাগরেও ভারতের ভূমিকা আরও বাড়বে বলে তাঁর ধারণা। হর্ষবর্ধন বলেন, “আন্তর্জাতিক সুরক্ষার ক্ষেত্রে ভারতকেও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে হবে। ভারতও তো এর অংশীদার, তা অন্যদের বোঝাতে হবে।”

২০২২-২৩ সালে ভারতের জি-২০ সভাপতিত্বকালে প্রধান সমন্বয়কারীর দায়িত্বে ছিলেন শ্রিংলা। যেভাবে ভারত জি ২০ শীর্ষ বৈঠক সম্পন্ন করেছে, তা প্রশংসা কুড়িয়েছে গোটা বিশ্বের।

spot_img
spot_img

সবাই যা পড়ছেন

spot_img