নয়ন বিশ্বাস রকি
কোনও অন্ধকার চিরকাল থাকে না। কোনও দুর্যোগ চিরকালের জন্য নয়। রাত যত গভীর হয়, প্রভাত তত ঘনিয়ে আসে। এই বাংলার মাটি, এই বাংলার মানুষ মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে জন্মেছে। মুক্তিযুদ্ধই এই দেশের অস্তিত্ব। যতই অপচেষ্টা হোক, ইতিহাস মুছে ফেলা যায় না – ইতিহাস বারবার ফিরে আসে আপন গতিতে।

প্রিয় দেশবাসী, অচিরেই রাজপথে দেখা হবে। মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের সর্বস্তরের সহযোদ্ধা-সমর্থককে নিয়ে বিজয়ের বেশে ফিরব। এটা চিরন্তন সত্য – দেশরত্ন শেখ হাসিনা, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সংগ্রামী সভানেত্রী, পাঁচবারের সফল প্রধানমন্ত্রী, তাঁর দ্বিতীয়বার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন হবেই।
সাজানো গোছানো স্বাধীন সোনার বাংলাদেশকে কোথায় নিয়ে গেল?
বিগত দুই বছরে জাতি দেখেছে কীভাবে সাজানো-গোছানো বাংলাদেশকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করা হয়েছে। আজ দেশে মানুষের নিরাপত্তা নেই। ধর্ষিতা নারীর মিছিল থামছে না। চারিদিকে নৈরাজ্য, অস্থিরতা। নদী-নালা, খাল-বিলে এখন শুধু মানুষের লাশ ভাসে। এই কি সেই বাংলাদেশ? প্রশ্ন দেশবাসীর কাছে?
‘বৈষম্য বিরোধী কোটা আন্দোলন’ নামের আড়ালে যা হয়েছে, তা ছিল দেশ ও জাতির সাথে চরম প্রতারণা। চারিদিকে লুটপাটের মহোৎসব। মানুষের ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর, লুটপাট চলছে অবাধে।
ধানমন্ডি ৩২: জাতির হৃদয়ে আঘাত!
মহান মুক্তিযুদ্ধের আঁতুড় ঘর, বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক ধানমন্ডি ৩২ নম্বর বাড়ি। এই বাড়ি বাংলাদেশের মানুষের সম্পদ। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায়, ড. ইউনূসের সন্ত্রাসীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘোষণা দিয়ে পরিকল্পিতভাবে বাড়িটি ভেঙে উড়িয়ে দিয়েছে।
প্রশ্ন হল, বাড়িটির প্রতি তাদের প্রতিহিংসা কেন? বাড়িটি তাদের কী ক্ষতি করেছে? স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তি ধর্মের নামে ব্যবসা করে, মিথ্যা বয়ান দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। তাদের আসল চরিত্র আজ দেশবাসীর কাছে পরিষ্কার।
অর্থনীতি ধ্বংস, বেকারত্বের হাহাকার
দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, অর্থনীতি ভেঙে পড়েছে। বিদেশিরা বাংলাদেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। বিনিয়োগ স্থবির। লক্ষ মানুষ বেকার। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে। ২০২৬ সালে মূল্যস্ফীতি ৯% ছাড়িয়েছে। বিদ্যুৎ-গ্যাস-জ্বালানির দাম দফায় দফায় বাড়িয়ে জনগণের পিঠ দেয়ালে ঠেকিয়ে দেওয়া হয়েছে।
অথচ একই সময়ে সুইস ব্যাঙ্কে বাংলাদেশিদের আমানত ২০২৫ সালে ৪১% বেড়ে ৮৩৪.২ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁ বা ১২,৭৬৩ কোটি টাকা হয়েছে। SNB রিপোর্ট বলছে এটি ২০২১ সালের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ব্যাঙ্কের নামে ৯৮.৬% টাকা গেলেও, বৈধ পথে বিদেশে অর্থ রাখার সুযোগ না থাকায় পুরোটাই প্রশ্নবিদ্ধ। আগে “শেখ হাসিনার আমলে পাচার” বলে গলা ফাটানো হতো। এখন ইউনূস আমলে কয়েকগুণ বেশি টাকা বিদেশে গেলে প্রচারের সুর কেন নরম?
আইনের শাসন? মানবাধিকার? গণতন্ত্র?
আজ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের নামে মিথ্যা মামলার বাণিজ্য চলছে। অভিযোগ নেই, তবু অন্যায়ভাবে গ্রেফতার। জেল থেকে লাশ হয়ে বাড়ি ফিরছে নেতা-কর্মী। জেলখানার ভিতরে বিচার-বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড চলছে। হাজার হাজার ছাত্র-ছাত্রীর ছাত্রত্ব কেড়ে নিয়ে তাদের জীবন অন্ধকারে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। শুধু “জয় বাংলা” বলা আর মুক্তিযোদ্ধাদের সমর্থন করার কারণে।
যারা আজ ক্ষমতার রঙিন চশমা পরে অন্ধ হয়ে আছে, তাদের সতর্ক করে বলতে চাই—বাংলার মানুষের কাঠগড়ায় আপনাদের দাঁড়াতেই হবে। জবাব দিতেই হবে। এই বাংলার জমিনে সুষ্ঠু বিচার হবে।
আগে বিএনপির মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলতেন “আইনের শাসন, গণতন্ত্র, মানবাধিকার, বাকস্বাধীনতা”। এখন সেই কথাগুলো কি হারিয়ে গেছে? নাকি আইসিইউতে চলে গেছে?
পাকিস্তানি ভাবধারা, ইতিহাস মুছে ফেলার ষড়যন্ত্র
দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছিল। পদ্মা সেতু, মেট্রো, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, ১০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল—এই উন্নয়ন তাদের সহ্য হয় না। তাই তারা গণতন্ত্রের নামে পাকিস্তানি ভাবধারা কায়েম করতে চায়। লাল-সবুজের পতাকা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা মুছে ফেলতে চায়।
বাংলাদেশের এমন কোনো স্থান নেই যেখানে এই হায়েনারা আক্রমণ করেনি। রাষ্ট্রীয় যন্ত্র ব্যবহার করে হুমকি, ভয় প্রদর্শন, নির্যাতন-জুলুম-অন্যায়-অবিচারের দুঃশাসন চলছে।
এরা মিথ্যা বলে জাতির সাথে প্রতারণা করছে। তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করছে। তাই দেশকে, দেশের ইতিহাস-ঐতিহ্যকে রক্ষা করতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ-সুসংগঠিত হতে হবে। প্রত্যেক এলাকায়, প্রত্যেক মহল্লায় গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
মনে রাখবেন – অন্ধকার যতই দীর্ঘ হোক, সূর্য একদিন উঠবেই। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আবার ঘুরে দাঁড়াবে। বিজয় আমাদের হবেই।
- নয়ন বিশ্বাস রকি প্রাক্তন ছাত্রলীগ নেতা ও সমাজসেবক, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের কর্মী



