নয়ন বিশ্বাস রকি
জুলাই মাসে সংঘটিত তথাকথিত “বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন” ছিল একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। জামাত-শিবিরের মদপুষ্ট কিছু স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি, কিছু আন্তর্জাতিক এনজিও এবং বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার এজেন্টরা একত্রিত হয়ে ফেসবুক ও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে মিথ্যা গুজব ছড়িয়ে সাধারণ ছাত্র-জনতাকে উত্তেজিত করেছিল।

তাদের লক্ষ্য ছিল একটাই – বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধ্বংস করা। দুঃখের সাথে বলতে হয়, তাদের প্রতারণার আন্দোলন সাময়িকভাবে সফল হলেও, বাংলাদেশের মানুষ ব্যর্থ হয়েছে। আমরা তখন বুঝতে পারিনি। কিন্তু আজ সময় এসেছে, আজ আমাদের উপলব্ধি করার সময়। আজকের বাস্তবতা কী?
দেশের উন্নতি হয়নি, ব্যক্তির উন্নতি হয়েছে। হাজার হাজার কোটি টাকা আজ দেশের বাইরে পাচার হচ্ছে। দুর্নীতি, লুটপাট, চাঁদাবাজি কয়েক হাজার গুণ বেড়েছে। বিগত ১৬ বছরে আওয়ামী লীগের সময়েও কিছু অনিয়ম হয়েছে। কিন্তু আজ টেন্ডারবাজি, দখলদারি, অগ্নিসংযোগ, হত্যা, ধর্ষণ, নৈরাজ্য আগের যে কোনও সময়ের চেয়ে ভয়াবহ চেহারা নিয়েছে।
আগে যারা বলতো “আওয়ামী লীগ টাকা পাচার করেছে”, আজ তারা ক্ষমতায়। তাহলে টাকা ফেরত আনছে না কেন? কারণ এটা ছিল মানুষকে বিভ্রান্ত করার, উস্কানি দেওয়ার রাজনীতি। এর বাইরে কিছুই নয়।
জামাত-শিবির আজ তাদের চেহারা, পোশাক সব বদলেছে। কিন্তু চরিত্র বদলায়নি। এরা ধর্ম ব্যবসায়ী, বাটপার, ভন্ড, প্রতারক, মিথ্যাবাদী। এরা ‘৭১-এর আল বদর, রাজাকারের উত্তরসূরি। আজ যা দেখছেন, সামনে আরও দেখবেন। তাই এদের ব্যাপারে সতর্ক থাকুন।
দেশের মানুষ হয়তো আগে ভুল করেছেন, প্রতারণার শিকার হয়েছেন। কিন্তু এখনও সময় আছে। দেশকে রক্ষা করার জন্য, মহান মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে আরও শক্তিশালী করুন। আন্দোলন-সংগ্রামে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সহমত পোষণ করুন।
মনে রাখবেন, এই দেশ আপনার। এই স্বাধীনতা আপনার। যদি এখনই সতর্ক না হই, তাহলে আমাদের সোনার বাংলাদেশ হারিয়ে যাবে। আসুন, দেশ বাঁচাই। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে রক্ষা করি।
- নয়ন বিশ্বাস রকি প্রাক্তন ছাত্রলীগ নেতা ও সমাজসেবক, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের কর্মী।



