হোমসাহিত্য-সংস্কৃতি"বঙ্গ নবজাগরণের চার নক্ষত্র"

“বঙ্গ নবজাগরণের চার নক্ষত্র”

“বঙ্গ নবজাগরণের চার নক্ষত্র”

বিশ্বরূপ মুখোপাধ্যায়
সম্প্রতি হাতে এল বিশিষ্ট চিকিৎসক অধ্যাপক সুবীর কুমার চট্টোপাধ্যায়ের লেখা বই ‘বঙ্গ নবজাগরণের চার নক্ষত্র ‘। বিশ শতকের গবেষকরা উনিশ শতকের নবজাগরণকে আখ্যা দিতেন গ্যালাক্সি অফ ইন্টেলেকচুয়ালস বলে। সেই সময়ের অগণিত নক্ষত্রের মধ্যে থেকে ডাক্তার চট্টোপাধ্যায় বেছে নিয়েছেন চার জনকে। রামগোপাল ঘোষ, প্যারীচাঁদ মিত্র, কালীপ্রসন্ন সিংহ এবং দ্বারকানাথ গঙ্গোপাধ্যায়।

সেই এক অসাধারণ সময়ে হিন্দু কলেজ পেয়েছিল এক অসামান্য শিক্ষককে – হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও, যিনি প্রথাগত শিক্ষা ব্যবস্থার গণ্ডি থেকে বেরিয়ে এসে প্রকৃত জ্ঞান-সাধনার যে পথ, সেই বিষয়ে তাঁর ছাত্রদের উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা করেছিলেন। রামগোপাল ঘোষ তাঁর অন্যতম প্রিয় ছাত্র ছিলেন। হিন্দু কলেজের গণ্ডির বাইরে অ্যাকাডেমিক অ্যাসোসিয়েশন নামে একটি সংস্থা তৈরি করেন। বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব কৃষ্ণ সিংহের বাগানবাড়িতে প্রতি মঙ্গলবার এই অ্যাসোসিয়েশনের বিতর্ক সভার আসর বসত। সেখানে অনেক বিদগ্ধ ব্যক্তি এবং ডিরোজিও-র প্রিয় ছাত্ররাও উপস্থিত থাকতেন। এই বিতর্কসভাই কিন্ত রামগোপাল ঘোষকে এক বিশিষ্ট বক্তায় পরিণত করেছিল।

রামগোপাল জ্ঞানান্বেষণ পত্রিকার সহযোগী সম্পাদক ছিলেন। পরে তিনি সম্পাদক হন। মনে রাখতে হবে, বিদ্যাসাগরের বিধবা বিবাহ আন্দোলনে তাঁর ভূমিকা ছিল বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। ডিরোজিও-র আর এক প্রিয় ছাত্র প্যারীচাঁদ মিত্র ছিলেন সেই সময়ের এক উজ্জ্বল ব্যক্তিত্ব। তাঁর বিবিধ কর্মকাণ্ডের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বোধহয় ব্রিটিশ ইন্ডিয়া সোসাইটির মত প্রতিষ্ঠান তৈরির উদ্যোগ নেওয়া। সাহিত্য ও বিজ্ঞান চর্চা, দুটিতেই তাঁর ভূমিকা অতীব উল্লেখযোগ্য।

সেই সময়ের আরেক বর্ণময় পুরুষ হলেন কালীপ্রসন্ন সিংহ। তিনি বেঁচে ছিলেন স্বল্পদিন। কিন্ত কাজ করেছেন অনেক। প্রভূত ধন-সম্পদের অধিকারী হয়েও, তিনি কিন্ত সেই সময়ের অর্থহীন বাবু কালচারে মেতে উঠেননি। মাত্র ১৩ বছর বয়সে বাংলা ভাষা অনুশীলন করার জন্য একটি সভা তৈরি করেন। মহাভারতের অনুবাদক কালীপ্রসন্ন সিংহ বিদ্যাসাগর মহাশয়ের বিধবা বিবাহ আইন চালু করার জন্য সর্বদা তাঁর পাশে থেকেছেন।

এই বইয়ের চতুর্থ আলোচিত ব্যক্তি দ্বারকানাথ গঙ্গোপাধ্যায়, ঘটনাচক্রে যিনি বিখ্যাত চিকিৎসক কাদম্বিনী দেবীর স্বামী। এই দু’জন বাংলার সামাজিক আন্দোলন ও নারী শিক্ষার প্রসারে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছেন। মনে রাখতে হবে যে, এই দ্বারকানাথ গঙ্গোপাধ্যায় তাঁর পত্নী কাদম্বরী দেবীকে শুধুমাত্র চিকিৎসা বিজ্ঞান পড়ার সুযোগ করে দেননি, সেইসঙ্গে তাঁকে বিদেশে পাঠিয়ে শল্য চিকিৎসক হিসেবে
প্রতিষ্ঠিতও করেছিলেন।

বলাই বাহুল্য, ডাক্তার চট্টোপাধ্যায় খুবই গুরুত্বপূর্ণ কাজ করলেন এই চার ব্যক্তিত্বকে নিয়ে কিছু কথা লিপিবদ্ধ করে। বইটির মূল্যবান ভূমিকা লিখেছেন বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের সভাপতি রতন কুমার নন্দী।

বইটির প্রকাশক: পুস্তক বিপণি, মূল্য ২০০ টাকা।

spot_img
spot_img

সবাই যা পড়ছেন

spot_img