হোমরাজ্যদেশভাগের যন্ত্রণার স্মৃতি উস্কে শিয়ালদহ স্টেশনে ভূমিপূজন, প্রদর্শনী

দেশভাগের যন্ত্রণার স্মৃতি উস্কে শিয়ালদহ স্টেশনে ভূমিপূজন, প্রদর্শনী

দেশভাগের যন্ত্রণার স্মৃতি উস্কে শিয়ালদহ স্টেশনে ভূমিপূজন, প্রদর্শনী

ভারত বিভাজনের শিকার মানুষদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে স্মারক মূর্তি স্থাপনের জন্য আজ শিয়ালদহ রেলওয়ে স্টেশনে ভূমিপূজন অনুষ্ঠিত হয়। ভারত সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রক এবং ইন্দিরা গান্ধী ন্যাশনাল সেন্টার ফর দ্য
আর্টস-এর যৌথ উদ্যোগে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রস্তাবিত এই স্মারক আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম জোরপূর্বক অভিবাসনের সময় বাস্তুচ্যুতি, যন্ত্রণা, হিংসা এবং প্রিয়জনকে হারানোর অসহনীয় কষ্ট সহ্য করা অগণিত মানুষকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের নগরোন্নয়ন ও পৌর মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, তথ্য ও সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী পূর্ণিমা চক্রবর্তী, শিল্প পুনর্গঠন এবং অপ্রচলিত ও পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি উৎস বিষয়ক মন্ত্রী তাপস রায়, পূর্ব রেলের মহা ব্যবস্থাপক গীতিকা পাণ্ডে, শিয়ালদহের বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজার রাজীব সাক্সেনা সহ পূর্ব রেলের ঊর্ধ্বতন আধিকারিক এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

অনুষ্ঠানের অঙ্গ হিসেবে দেশভাগের শিকার মানুষদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে একটি বিশেষ আলোকচিত্র প্রদর্শনীরও আয়োজন করা হয়। প্রদর্শনীতে দেশভাগ, মানুষের ব্যাপক স্থানান্তর, উদ্বাস্তু পরিবারগুলির দুর্বিষহ জীবন এবং নতুন করে জীবন গড়ে তোলার সংগ্রামের বিভিন্ন ঐতিহাসিক ছবি তুলে ধরা হয়। এই প্রদর্শনী হল, সেই সমস্ত মানুষের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি, যাঁরা চরম প্রতিকূলতার মধ্যেও সাহস, ধৈর্য এবং অদম্য মানসিকতার পরিচয় দিয়েছিলেন।

দেশভাগের ইতিহাসে শিয়ালদহ স্টেশনের এক অনন্য স্থান রয়েছে। ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতার পর নব নির্ধারিত সীমান্তের ওপার থেকে পশ্চিমবঙ্গে আসা উদ্বাস্তুদের জন্য শিয়ালদহ অন্যতম প্রধান প্রবেশদ্বারে পরিণত হয়েছিল। হাজার হাজার মানুষ তাঁদের বাড়ি, পরিবার, সম্পদ এবং পরিচিত পরিবেশ পিছনে ফেলে নিরাপত্তা ও নতুন জীবনের সন্ধানে শিয়ালদহে এসে পৌঁছেছিলেন। বহু উদ্বাস্তু মানুষের কাছে শিয়ালদহ শুধুমাত্র একটি রেলস্টেশন ছিল না, এটি ছিল এক অচেনা ও অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে তাঁদের নতুন জীবনের প্রথম পদক্ষেপ।

বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলির অসীম দুর্দশা ও সংগ্রামের পাশাপাশি তাঁদের সাহস, আশা এবং নতুন করে জীবন গড়ে তোলার অদম্য সংকল্পেরও সাক্ষী হয়ে রয়েছে এই স্টেশন। এই উপলক্ষে পূর্ব রেলের মহা ব্যবস্থাপক গীতিকা পাণ্ডে বলেন, শিয়ালদহ দেশভাগের ইতিহাস এবং তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা গভীর মানবিক যন্ত্রণার এক জীবন্ত সাক্ষী। তিনি বলেন, এই স্মারক তাঁদের প্রতি এক বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি, যাঁরা বাস্তুচ্যুতি এবং অকল্পনীয় দুর্ভোগের সম্মুখীন হয়েছিলেন।

শিয়ালদহের বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজার শ্রী রাজীব সাক্সেনা বলেন, এই পবিত্র স্মারকের স্থান হিসেবে শিয়ালদহ বিভাগ অত্যন্ত সম্মানিত। এই স্মারক সেই লক্ষ লক্ষ মানুষের প্রতি একটি স্থায়ী শ্রদ্ধাঞ্জলি হয়ে থাকবে, যাঁরা চরম প্রতিকূল পরিস্থিতিতে এই প্ল্যাটফর্মগুলির মধ্য দিয়ে অতিক্রম করেছিলেন।

শিয়ালদহে নির্মীয়মাণ এই স্মারক শুধুমাত্র একটি মূর্তি নয়; এটি হবে স্মৃতি, সংগ্রাম, প্রত্যয় ও আশার প্রতীক। আলোকচিত্র প্রদর্শনীর সঙ্গে এই স্মারক ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসের অন্যতম কঠিন সময়ে শিয়ালদহের মধ্য দিয়ে যাঁরা অতিক্রম করেছিলেন, তাঁদের স্মৃতি সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। সমস্ত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও নতুন করে জীবন শুরু করার তাঁদের অদম্য সংকল্পকেও এই স্মারক শ্রদ্ধার সঙ্গে তুলে ধরবে।

পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শিবরাম মাঝি বলেন, এই ধরনের স্মারক ও আলোকচিত্র প্রদর্শনীর মাধ্যমে পূর্ব রেল নিশ্চিত করছে যে, শিয়ালদহ স্টেশনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা মর্মস্পর্শী ইতিহাস এবং মানুষের সহনশীলতা, সাহস ও সংগ্রামের চেতনা চিরকাল মানুষের স্মৃতিতে অমলিন হয়ে থাকবে।

spot_img
spot_img

সবাই যা পড়ছেন

spot_img