প্রাইমা হোসেন
ইতিহাস মুছতে চাইলে ইতিহাসই তাদের মুছে দেবে, আজ যাঁরা বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য আর ৩০ লাখ শহীদের রক্তে লেখা মহান মুক্তিযুদ্ধকে মুছে ফেলতে চায়, তাঁদের উদ্দেশে স্পষ্ট ভাষায় হুঁশিয়ারি দিচ্ছি।

মনে রাখবেন, ইতিহাস তার আপন গতিতে ফিরে আসে। বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশকে যারা অস্বীকার করে, মুক্তিযুদ্ধকে যারা ‘উন্মাদনা-উল্লাস’ দিয়ে কলঙ্কিত করতে চায়, এই মহান মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশই তাদের উপযুক্ত জবাব দেবে। এই মাটি রাজাকার-আলবদরদের জায়গা নয়। এই মাটি মুক্তিযোদ্ধার।
প্রিয় দেশবাসী, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের সর্বস্তরের কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বলছি:
ভয় পাবেন না:
রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে আজ একদল অপশক্তি ভয়-ভীতি দেখাচ্ছে। মামলা, হামলা, গ্রেপ্তার দিয়ে তাঁরা আপনাদের নীরব করাতে চায়। কিন্তু মনে রাখবেন, অন্যায়ের সামনে মাথা নত করা মানেই পরাজয় মেনে নেওয়া।
নীরব থাকবেন না:
আপনার নীরবতা আজ দেশকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেবে। আর আপনার একটি শক্তিশালী প্রতিবাদ, একটি সাহসী কণ্ঠস্বরই দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্থিতিশীলতা রক্ষা করবে।
সংগঠিত হোন, রাজপথে নামুন:
জনগণকে সঙ্গে নিয়ে গণ প্রতিরোধ গড়ে তুলুন। জনমত গঠন করুন। সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ, সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করুন। রাজপথে যারা স্বাধীনতার বিরোধিতা করে, যারা তথাকথিত মৌলবাদের মুখোশে জঙ্গি-উগ্রপন্থাকে প্রশ্রয় দেয়, তাদের বিরুদ্ধে আপসহীন লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। কারণ বিজয় আমাদের আসবেই। বিজয় সবসময় সত্যের, মুক্তিযুদ্ধের, জনগণের।
এই হোক আমাদের অঙ্গীকার:
আসুন, সব বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হই। দল-মত নির্বিশেষে মুক্তিযুদ্ধের পতাকাতলে দাঁড়াই। দেশকে রক্ষা করি। ৭১-এর চেতনাকে রক্ষা করি। এটাই আমাদের প্রতিজ্ঞা। এটাই আমাদের বদ্ধপরিকর শপথ।
- প্রাইমা হোসেন বিশিষ্ট সমাজসেবিকা ও সংগঠক, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের কর্মী।



