হোমআন্তর্জাতিকমমতাকে ঘিরে ঢাকার রাজপথে মানুষের উষ্ণতা, সাক্ষী আমরা দুই সাংবাদিক

মমতাকে ঘিরে ঢাকার রাজপথে মানুষের উষ্ণতা, সাক্ষী আমরা দুই সাংবাদিক

মমতাকে ঘিরে ঢাকার রাজপথে মানুষের উষ্ণতা, সাক্ষী আমরা দুই সাংবাদিক

kamalকমল ভট্টাচার্য

সেদিন ঢাকার রাজপথে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতাদি বলে ওই দেশের মানুষের হাত নাড়া, নমস্কারের উত্তর উনিও দিচ্ছিলেন হাত নেড়ে, নমস্কার করে। মনে হচ্ছিল, এদেশের কোনও জায়গায় আছি। অন্য দেশের বনেদি ঐতিহাসিক রাজধানী নয়। এত উষ্ণ, আন্তরিক ছিল সেই মুহূর্তগুলো। এখন তিনি দিদি নামেই সারা দেশে সুপরিচিত। সেদিন উনি ছিলেন মমতাদি।

রিকশায় কিছুক্ষণ ঘুরে সোজা চলে গিয়েছিলেন মন্দিরে পুজো দিতে। সেখানেও দেখা গেল ওঁকে নিয়ে ব্যাপক উচ্ছ্বাস। মানুষের ভালোবাসা, শ্রদ্ধা, আন্তরিকতা। আমরা দুই রিপোর্টার বিস্মিত হয়ে দেখছিলাম।

বলে রাখি, ওই সময়ে এদেশের আরও বেশ কয়েকজন মন্ত্রী, ভিআইপি ঢাকায় গিয়েছিলেন। কিন্তু কেউই গাড়ি ও নিরাপত্তা পাহারা ছাড়া বাইরে যাননি। তাঁদের ঢাকার মানুষ হাত নাড়েননি, নমস্কার করেননি। মমতা ব্যানার্জির মত তাঁদের ঘিরে উচ্ছ্বাস ছিল না।

বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের ভালো সম্পর্কের ভিত গড়ার কারিগরদের একজন যে মমতা ব্যানার্জি ইতিহাস তার সাক্ষী। ওদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সম্পর্ক অত্যন্ত ভালো। সেটা একেবারেই ব্যক্তিগত, রাজনৈতিক নয়।

যাই হোক কটা দিন বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় চমৎকার কাটিয়ে আমরা দুই সাংবাদিক কলকাতায় ফিরে এলাম। প্রবীর ঘোষাল তখন বর্তমান আর আমি ছিলাম প্রতিদিন কাগজে। দুটি কাগজের প্রথম পাতায় বিশাল করে মমতার সেই রিকশায় চড়ে ঢাকার পথে ঘুরে বেড়ানোর ছবি সহ আমাদের লেখা খবর ছাপা হয়েছিল। সেই ছবি ও খবর পাঠকদের খুবই পছন্দ হয়েছিল।

এরপরে একদিন খবরাখবর জানতে সিপিএম অফিসে গিয়েছিলাম আমি। আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের ওই অফিসে উঠবার সিঁড়িতে দেখা তখন দলের অন্যতম নেতা ও দলীয় মুখপত্র গণশক্তির সম্পাদক প্রয়াত দীপেন ঘোষের সঙ্গে। তিনি আমাকে দেখেই বলে উঠলেন, উহ্, তোমরা দালালি করতে পারো বটে।

বানিয়ে বানিয়ে মমতাকে নিয়ে দিব্যি গপ্প ফাঁদলে পয়সা খেয়ে! আমরা জানি ওসব কিছুই হয়নি। আমি বলেছিলাম, ছবি তো মিথ্যে কথা বলে না।পয়সা খেয়ে খবর লেখার জন্য আমি এই পেশায় আসিনি, এই কথাটা আপনার জানা আছে ভেবেছিলাম। উনি কোনও কথা না বলেই নেমে গিয়েছিলেন।

সি পি এমের একটা বড় অংশই মমতাকে গুরুত্ব দিত না সেদিন। বুদ্ধদেববাবু তাঁদের একজন ছিলেন। আবার কয়েকজন মনে করতেন, মমতা ব্যানার্জি একজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেত্রী হতে চলেছেন। তাঁর রাজনৈতিক আন্দোলন, কাজকর্ম লক্ষ্য করা জরুরি।

সেদিন তাঁরা দলে পাত্তা পাননি। যাঁরা মমতাকে পাত্তা দিতে চাননি, দলে তাঁরাই ক্ষমতায় ছিলেন। সরকারের সব কিছুই ঠিক করতেন তাঁরাই। এঁদের ভুল সিদ্ধান্তের ফলেই আজ মমতা ব্যানার্জি এই রাজ্যের দু’দুবার মুখ্যমন্ত্রী। তিনবার তিনি আবার নবান্নয় মুখমন্ত্রীর কুর্শিতে বসবেন কিনা আর কয়েক মাস পরেই তা বোঝা যাবে। কিন্তু ভাগ্যের পরিহাসে আলিমুদ্দিনের সেই দলটি আজ এই রাজ্যে প্রায় অপ্রাসঙ্গিক হয়ে গেছে।

spot_img
spot_img

সবাই যা পড়ছেন

spot_img