পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার লক্ষ্যে এবার কঠোর পদক্ষেপ পূর্ব রেল কর্তৃপক্ষের। রেলের সমস্ত প্রাঙ্গনে কোনওরকম আবর্জনা বা থুতু ফেলে নোংরা করলে দিতে হবে জরিমানা। আজ থেকে এই কঠোর ‘জিরো টলারেন্স’ বা শূন্য সহনশীলতার নীতি কার্যকর করা হয়েছে। হাওড়া স্টেশনে এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে নিবিড় পরিচ্ছন্নতা সচেতনতা অভিযানের দ্বিতীয় পর্ব, “ইস্টার্ন রেলওয়ে ইজ ওয়াচিং ইউ” (পূর্ব রেল আপনার ওপর নজর রাখছে)-এর সূচনা করা হয়েছে।
নতুন পর্বের এই অভিযানের মূল বার্তা হল, স্বাস্থ্যবিধি ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে পূর্ব রেল সদাসতর্ক। রেলকর্মীদের পাশাপাশি সিসিটিভি বা নজরদারি ক্যামেরার মাধ্যমে যাত্রীদের ওপর নজর রাখা হবে এবং কেউ নোংরা বা থুতু ফেলতে গিয়ে ধরা পড়লে, তৎক্ষণাৎ ঘটনাস্থলেই জরিমানা করা হবে।
এই কাজে সাধারণ মানুষকেও যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যদি কোনও রেলযাত্রী কাউকে নোংরা বা থুতু ফেলতে দেখেন, তবে তাঁরা সেই ব্যক্তির ছবি তুলে সঠিক জায়গার নাম উল্লেখ করে, তা হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে 90020-22780 নম্বরে পাঠাতে পারেন। এর পর পূর্ব রেলওয়ে দ্রুত সেই ব্যক্তিকে শনাক্ত করে জরিমানা আদায় করবে এবং যে যাত্রী ছবিটি পাঠিয়েছেন, তাঁকে “ক্যাপ্টেন ক্লিন” হিসেবে সম্মানিত করা হবে। পূর্ব রেলের পক্ষ থেকে তাঁকে একটি শংসাপত্রও দেওয়া হবে।
পূর্ব রেলের ভারত স্কাউটস অ্যান্ড গাইডস-এর পরিবেশনায় একটি আকর্ষণীয় পথনাটিকার আজকের অনন্য অনুষ্ঠানটির সূচনা হয়। এরপর পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার মিলিন্দ দেওস্কর পুরো স্টেশন চত্বর ঘুরে দেখেন এবং রেলযাত্রীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, “পরিচ্ছন্নতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং যাত্রীদের সরাসরি সহযোগিতা ছাড়া এটি বজায় রাখা একেবারেই অসম্ভব।”
তিনি আরও বলেন যে, “স্টেশনের পরিবেশকে একদম নিখুঁত ও পরিচ্ছন্ন করে তোলার মাধ্যমে ভ্রমণের অভিজ্ঞতাকে বদলে দিতে পূর্ব রেল নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। অনন্য ডিজিটাল রিপোর্টিং ব্যবস্থার মাধ্যমে যাত্রীদের চোখ-কান খোলা রাখার ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে এবং পরিচ্ছন্নতাকে একটি সাময়িক পছন্দের পরিবর্তে দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত করার জন্য সমস্ত ডিভিশন জুড়ে জবাবদিহিতার সংস্কৃতি সফলভাবে প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে।”
পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শিবরাম মাঝি বলেন যে, “এই অভিযানটি শুধুমাত্র একটি নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা নয়, এটি সমাজ চালিত পরিচ্ছন্নতার দিকে একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ।”
অনুষ্ঠানে হাওড়ার ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার (ডিআরএম) বিশাল কাপুর, পূর্ব রেলের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (জেনারেল) সহ সদর দপ্তরের শীর্ষ আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন।



