নয়ন বিশ্বাস রকি: বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ নয়। কোনও কালো আইন, কোনও আদেশবলে এই দলকে আটকে রাখা যাবে না। এটাই ইতিহাসের শিক্ষা, এটাই বাস্তবতা। বর্তমানে যে নাবালক সরকার রয়েছে, রাষ্ট্রযন্ত্র সমস্ত কিছু ব্যবহার করেও আওয়ামী লীগকে দমিয়ে রাখতে পারবে না। যারা আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করতে চেয়েছে, তারাই ধ্বংস হয়ে গেছে, ইতিহাস থেকে হারিয়ে গেছে। তার ব্যতিক্রম এবারও কিছু হবে না, এরা থাকবে না।

সময় হলে এরা হারিয়ে যাবে। ইতিহাসের আস্তকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হবে। দেশের মানুষ এদের ক্ষমা করবে না। বর্তমানে সরকারের জনসমর্থন একবারেই কমে গিয়েছে। সরকার মানুষের স্বার্থরক্ষার জন্য না কাজ না করে পরাশক্তির স্বার্থে কাজ করছে। এর উপযুক্ত জবাব বাংলাদেশের মানুষ যথাসময়ে দেবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কাজকর্মের ওপর যে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে, দেশের মানুষ তা প্রত্যাখ্যান করেছে। আইনি কাঠামোর অপব্যবহার করে দেশের সাধারণ মানুষের এই দলকে দমিয়ে রাখা সম্ভব নয়।
ইয়াহিয়া খান, ভুট্টো, জিয়াউর রহমান কিংবা হুসেন মহম্মদ এরশাদ, কেউই আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করে দমিয়ে রাখতে পারেননি। বরং যখনই আওয়ামী লীগের উপর আঘাত এসেছে, তখন এই দলটি আরও শক্তিশালী হয়ে, বৃহত্তর জনসমর্থন নিয়ে রাজপথে ফিরে এসেছে। দেশ ও গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছে। এটাই বারবার প্রমাণিত সত্য।
তারেক সরকারের বিরুদ্ধে নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ সহ দেশের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়নে পথে নেমেছেন আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকরা। চলছে বিক্ষোভ-প্রতিবাদ। সমস্ত প্রতিকূলতা ও প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আওয়ামী লীগই দেশকে নেতৃত্ব দেবে। কারণ এই দল বাংলাদেশের মাটি ও মানুষের রক্তের সঙ্গে মিশে রয়েছে।
বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটির জন্ম দিয়েছে আওয়ামী লীগ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে এই দল স্বাধীনতা এনেছে। ১৯৮১ সালে শেখ হাসিনা দলের সভানেত্রী হিসেবে দেশে ফিরেছিলেন। জনগণের বিশ্বাস, তিনি আবারও ফিরবেন বাংলার মানুষের নেত্রী হয়ে।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত হয়েছে, এটি দেশের সর্বস্তরের মানুষের মূল্যায়ন। একটি সুসংগঠিত, সাজানো-গোছানো রাষ্ট্রকে পরিকল্পিতভাবে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা হয়েছে।
জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছে। রাষ্ট্রীয় স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতি, অর্থনৈতিক অস্থিরতা এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তির মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শাখাওয়াত হোসেন নিজেও বলেছেন, কিছু ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্র দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবহার করে না। এসব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার দেশের মানুষের দাবি।
আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উপর হামলা-মামলার ঘটনা এখনও চলছে। সব তথ্য-প্রমাণ সংরক্ষণ করা হচ্ছে। দেশের মাটিতেই সকল অন্যায়ের বিচার হবে, এটাই কর্মীদের প্রত্যাশা। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আমজনতার দল। জনগণকে ঐক্যবদ্ধ ও সুসংগঠিত করে এই দলই দেশকে রক্ষা করবে। কোনও কালা কানুন দিয়ে এই দলকে বন্দি করে রাখা যাবে না, এটাই চিরন্তন সত্য।
(নয়ন বিশ্বাস রকি প্রাক্তন ছাত্রলীগ নেতা, সমাজসেবক ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের কর্মী)



