১৮৫৩ সালে বোরি বন্দর থেকে থানে পর্যন্ত প্রথম বাষ্পচালিত ইঞ্জিন চালুর মাধ্যমে ভারতীয় রেলের যাত্রা শুরু হয়েছিল। সেই স্মরণীয় দিনের ১৭৩তম “জন্মবার্ষিকী” উদযাপন উপলক্ষে পূর্ব রেলের পক্ষ থেকে আজ জোরদার পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হয়। এক মাস ধরে চলা স্বচ্ছতা সচেতনতা অভিযানের চূড়ান্ত পর্বে আজ কোচ ও ট্র্যাকের পরিচ্ছন্নতার উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়।
পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার মিলিন্দ দেওস্কর বলেন, “যেদিন ভারতীয় মাটিতে প্রথম রেলের চাকা ঘুরতে শুরু করেছিল, সেই দিনটি উদযাপন করার সঙ্গে সঙ্গে আমরা আমাদের ঐতিহ্যকে সম্মান জানিয়ে যাত্রীদের জন্য আরও পরিচ্ছন্ন ও উন্নত ভ্রমণ অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করছি।”
পূর্ব রেলের সমস্ত প্রিন্সিপাল হেড অফ ডিপার্টমেন্টস, বিভাগীয় প্রধানগণ, ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজারগণ, বিভাগীয় আধিকারিক এবং কর্মীরা এই কর্মসূচিতে সামিল হন। সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল। জেনারেল ম্যানেজার নিজে আজ হাওড়া স্টেশন পরিদর্শন করে ট্রেনের যাত্রীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন এবং পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে গভীর সচেতনতা গড়ে তোলার জন্য উদ্যোগ নেন। রেল পরিষেবা নিয়ে তিনি যাত্রীদের কাছ থেকে প্রতিক্রিয়া গ্রহণের পাশাপাশি রেলপথে বা ট্রেনের ভিতরে ময়লা না ফেলার বিষয়ে তাঁদের সচেতন করেন। তিনি যাত্রীদের জন্য নির্ধারিত ডাস্টবিন ব্যবহার অথবা সরাসরি সিট থেকে ময়লা সংগ্রহের নিযুক্ত অন-বোর্ড হাউসকিপিং স্টাফের জন্য অপেক্ষা করার পরামর্শ দেন।
এই উদ্যোগে সামিল হয়ে এজিএম, পিএইচওডি, এইচওডি, ডিআরএম, এডিআরএম এবং অন্যান্য শাখা আধিকারিকরা বিভিন্ন স্থানে গিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি মত বিনিময় করেন। শিয়ালদহ, হাওড়া, মালদা এবং আসানসোল স্টেশনে সিনিয়র আধিকারিকরা উপস্থিত থেকে হাজার হাজার যাত্রীর মধ্যে নাগরিক দায়িত্ববোধের বার্তা পৌঁছে দেন। পূর্ব রেলের ভারত স্কাউটস অ্যান্ড গাইডস, সিভিল ডিফেন্স স্বেচ্ছাসেবক, আরপিএফ এবং অন্যান্য বিভাগের কর্মীদের সক্রিয় অংশগ্রহণে এই কর্মসূচি আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে।
এই সাফল্য প্রসঙ্গে পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক এবং ERBS&G-এর রাজ্য সচিব শিবরাম মাজি বলেন, “পরিচ্ছন্ন রেল ব্যবস্থা বজায় রাখা একদিনের কাজ নয়, বরং এটি প্রতিদিনের প্রয়োজন। রেল প্রশাসন পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে সম্পূর্ণভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, তবে যাত্রীদের সক্রিয় সহযোগিতা ছাড়া এই প্রচেষ্টা সফল হতে পারে না।” তিনি আরও বলেন, যখন নাগরিক এবং রেল মিলিতভাবে কাজ করে, তখন রেলব্যবস্থা শুধুমাত্র একটি পরিবহন মাধ্যম হয়ে থাকে না, বরং এটি একটি যৌথ বাসস্থান হয়ে ওঠে।



