গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ক্ষেত্রগুলিতে রাজস্ব আয়ে ২০২৬ সালের মে মাসে এক অনন্য সাফল্যের ইতিহাস গড়েছে পূর্ব রেল। এই জোন গত আট বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ যাত্রী রাজস্ব আয়ের রেকর্ড অর্জন করেছে। এর পাশাপাশি পার্সেল, লাগেজ এবং টিকিট চেকিং থেকেও উল্লেখযোগ্য আয়ের নজির গড়েছে পূর্ব রেল। পূর্ব রেল সূত্রে দাবি করা হয়েছে, জেনারেল ম্যানেজার মিলিন্দ দেউস্করের নেতৃত্বে ২০২৬ সালের মে মাসে রাজস্ব উপার্জনে এই অসামান্য পারফরম্যান্স দেখিয়েছে পূর্ব রেল।
আট বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ যাত্রী রাজস্ব
২০২৬ সালের মে মাসে যাত্রী পরিবহন থেকে পূর্ব রেলের আয় হয়েছে ৩৭৮.৯৭ কোটি টাকা, যা গত আট বছরের যে কোনও মে মাসের তুলনায় সর্বোচ্চ যাত্রী রাজস্ব আয়ের রেকর্ড। আগের সর্বোচ্চ আয়, অর্থাৎ ২০২৫ সালের মে মাসের ৩২২.৩৪ কোটি টাকাকে ছাপিয়ে গিয়েছে এবং ১৭.৫৭%-এরও বেশি এক শক্তিশালী বৃদ্ধি নথিভুক্ত হয়েছে।
পার্সেল ও লাগেজে ধারাবাহিক আয় বৃদ্ধি
পণ্য ও পার্সেল পরিবহনেও পূর্ব রেল তার পারফরম্যান্স বজায় রেখেছে। ২০২৬ সালের মে মাসে পার্সেল ও লাগেজ বিভাগ থেকে রাজস্ব আয় পৌঁছেছে ১২.৯১ কোটি টাকায়, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ১১.৩৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ, এই ক্ষেত্রে ১৩.৫৪% বৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।
টিকিট চেকিং রাজস্বে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি
২০২৬ সালের মে মাসে টিকিট চেকিং থেকে আয় হয়েছে ১৩.০৫ কোটি টাকা, যা ২০২৫ সালের মে মাসে ছিল ৮.৬৮ কোটি টাকা। এক্ষেত্রে ৫০.৪৫% বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। টিকিট চেকিং অভিযান জোরদার করা, নজরদারি বাড়ানো এবং বৈধ ভ্রমণকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি রেলের রাজস্ব সুরক্ষায় নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টার ফলেই এই সাফল্য এসেছে।
এই প্রসঙ্গে পূর্ব রেলের প্রিন্সিপাল চিফ কমার্শিয়াল ম্যানেজার ড. উদয় শঙ্কর ঝা বলেন, “এই উৎসাহব্যঞ্জক সাফল্যগুলি পূর্ব রেলের গ্রাহক-কেন্দ্রিক উদ্যোগ, সুনির্দিষ্ট বাণিজ্যিক কৌশল এবং সামনের সারির কর্মীদের প্রচেষ্টার কার্যকারিতাকে প্রমাণ করে। যাত্রী, পার্সেল এবং টিকিট চেকিং রাজস্বের এই ধারাবাহিক বৃদ্ধি রেল পরিষেবার প্রতি সাধারণ মানুষ এবং ব্যবসায়ীদের অবিচল আস্থার প্রতীক।”
পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শিবরাম মাঝি জানান, “২০২৬ সালের মে মাসে অর্জিত এই রেকর্ড পূর্ব রেলের শ্রেষ্ঠত্বের নিরলস সাধনা এবং যাত্রী ও অংশীদারদের দক্ষতা ও যত্নের সাথে পরিষেবা দেওয়ার অঙ্গীকারকে প্রতিফলিত করে।”



