প্রাইমা হোসেন
গৃহহীন ও ভূমিহীন মানুষের মাথার উপর ছাদ দিয়েছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যাঁদের রাত কাটত খোলা আকাশের নীচে, ‘আশ্রয়ন প্রকল্পে’র মাধ্যমে তাঁদেরকে পাকা ঘর, জমির দলিল সহ তিনি স্থায়ী ঠিকানা দিয়েছিলেন। এক সময়ের ‘ছিন্নমূল’ মানুষগুলো পেয়েছিলেন বসবাসের নিরাপত্তা ও সম্মান।

কিন্তু আজ সেই ঘরগুলোই হুমকির মুখে। দেশের সাধারণ মানুষ প্রশ্ন তুলছেন, বর্তমানে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার ‘খাল খনন’-এর নামে হাজার হাজার অসহায় মানুষকে উচ্ছেদ করতে চাইছে। এটি কি দেশের উন্নয়ন, নাকি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ?
সাধারণ মানুষের যুক্তি স্পষ্ট। যে সরকার গরিব মানুষের শেষ আশ্রয়টুকু কেড়ে নিতে চায়, সে সরকার জনগণের কল্যাণে কাজ করতে পারে না। ডিজিটাল ও তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে কোদাল দিয়ে খাল খননের অজুহাতে মানুষ উচ্ছেদের যৌক্তিকতা কোথায়? খাল খননে দেশের মানুষের প্রকৃত উপকার হবে, নাকি হাজার হাজার পরিবার পথে বসবে, এই প্রশ্ন এখন সবার মুখে মুখে।
উচ্ছেদের নোটিশ পেয়ে অসহায় মানুষগুলির চোখে এখন জল। শেখ হাসিনার দেওয়া ঘরে তাঁরা শান্তিতে ঘুমোতেন, সন্তানদের ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখতেন। আজ সেই শান্তি, সেই মুখের হাসিটুকু কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। হাজার হাজার মানুষ দিশেহারা, কোথায় যাবেন, কোথায় মাথা গুঁজবেন?
বিশিষ্ট সমাজসেবিকা ও সংগঠক, বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের কর্মী প্রাইমা হোসেন এই বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন’ “আশ্রয়ন প্রকল্প ছিল এক মানবিক প্রকল্প। রাষ্ট্রের সবচেয়ে অবহেলিত মানুষকে মর্যাদা দেওয়ার প্রকল্প। সেই ঘর ভেঙে খাল খননের নামে মানুষকে বাস্তুহারা করে কোনওভাবেই উন্নয়ন হতে পারে না। এটি একটি পরিষ্কার প্রতিহিংসা। একটি সভ্য রাষ্ট্রে মানুষের আবাসনের অধিকার এভাবে হরণ করা যায় না। সরকারের উচিত বিকল্প ব্যবস্থা না করে কাউকে উচ্ছেদ না করা।”
মানুষের দাবি, খাল খনন প্রয়োজন হলে, তার বিকল্প পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে। গৃহহীন মানুষকে পুনর্বাসন না করে উচ্ছেদ করলে সেটি উন্নয়ন নয়, মানবাধিকারের লঙ্ঘন।
প্রাইমা হোসেন বিশিষ্ট সমাজসেবিকা ও সংগঠক, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের কর্মী



