হোমআন্তর্জাতিকTaliban : আফগানিস্তানে ফিরবে মধ্যযুগীয় শাসন! আতঙ্কে ফাহাদরা

Taliban : আফগানিস্তানে ফিরবে মধ্যযুগীয় শাসন! আতঙ্কে ফাহাদরা

Taliban : আফগানিস্তানে ফিরবে মধ্যযুগীয় শাসন! আতঙ্কে ফাহাদরা

tirthankarতীর্থঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

(আফগানিস্তান এখন খবরের শিরোনামে। তালিবান রাজধানী কাবুল দখলের পথে। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে চূড়ান্ত রাজনৈতিক টালমাটাল অবস্থা। এই পরিস্থিতিতে কাবুলের বেশ কয়েকজন বন্ধুর কথা স্মৃতিচারণ করলেন বিবিসির এক সময়ের সাংবাদিক লন্ডন প্রবাসী তীর্থঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, শুধুমাত্র এই পোর্টালে।)

কোথাও নিম্নচাপ আবার কোথাও উচ্চচাপ না থাকলে বোধহয় গোটা পৃথিবীটাই গুমোট মনে হতো। এই যে ফুরফুরে লাগে, তার কারণ বায়বিক চাপের তারতম্যের ফলে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় বাতাস ধেয়ে যায় ঝড়বেগে আপেক্ষিক শূন্যতা ভরাট করতে।

ভৌগোলিক পৃথিবীর মতো রাজনৈতিক বিশ্বেও ব্যাপারটা প্রায় একইরকম। ভূ-রাজনৈতিক flashpoint একেকটা নিম্নচাপের মতো। এখন যেমন আফগানিস্তান। প্রতিনিয়ত তালিবান যোদ্ধাদের অগ্রযাত্রায় শিহরিত সমগ্র বিশ্ব।

মধ্যযুগীয় শাসনব্যবস্থা থেকে আফগানিস্তানের (Afghanistan) সামাজিক এবং রাজনৈতিক আধুনিকতায় উত্তরণ দুনিয়া দেখেছে। যত দিন গেছে তত আশার বুনোট দৃঢ় হয়েছে। স্বদেশ থেকে পালিয়ে আসা শরণার্থীরা কল্পদৃষ্টিতে পর্বত এবং উপত্যকায় সজ্জিত আফগানিস্তানের কথা মনে করে হয়ত ভেবেছেন, “যাহা দেখিলাম জন্ম জন্মান্তরেও ভুলিব না।”

আমার বন্ধু প্রীতপাল সিং-ও জননী-জন্মভূমি ত্যাগের জ্বালা দুধের বদলে ঘোলের স্বাদে মেটাতে চেয়েছেন একবার, অন্তত একবার আফগানিস্তানে বেড়াতে গিয়ে। হোক না বেড়াতে যাওয়া, তাও তো নিজের চোখে দেখা হবে হারিয়ে যাওয়া জীবনস্মৃতি।

উত্তর-পশ্চিম কাবুলের (Kabul) কারতে পারওয়ান (Karte Parwan) থেকে একদিন পথযোগে পেশাওয়ার পাড়ি দিয়েছিলেন পিপি। প্রীতপাল বন্ধুমহলে পিপি নামেই পরিচিত। তারপরে আর স্বদেশমুখো হওয়া হয়নি। প্রথমে উত্তর দিল্লির কিংসওয়ে ক্যাম্পে বছর দুয়েক তারপরে বিলেতে। গত প্রায় ১৫ বছর ধরে পশ্চিম লন্ডনের বাসিন্দা পিপি। সেই সূত্রেই আমার সাথে আলাপ।

Every life is a story. আর সেই গল্পের আকর্ষণ অমোঘ। সুযোগ পেলেই খুঁটিয়ে জানতে ইচ্ছে হয়। জীবনে আমার সহযাত্রীরা অবশ্য মনে করেন এই অযাচিত কৌতূহল আদতে অনধিকার চর্চা। তাও এই “অনভিপ্রেত” কাজ অব্যাহত রয়েছে।

অনধিকার চর্চার মাথা খেয়েই পিপি-র জীবনকাহিনী জানা। কাবুলে হিন্দু এবং শিখদের সবচেয়ে বড় বসতি কারতে পারওয়ানেই। ওখানে একটা গুরুদ্বারও আছে। অন্তত একসময় ছিল। এখন কী অবস্থা জানি না। সেখানেই পিপিদের দু’কামরার ফ্ল্যাট। বাবা-কাকাদের ওষুধ আর ছাট কাপড়ের ব্যবসা। পিপি-রও একদিন সেই পারিবারিক ব্যবসা সামলানোর কথা ছিল। তার আগে কাবুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভূ-তত্ত্ব নিয়ে পড়াশোনা করতে চেয়েছিল পিপি।

কারতে পারওয়ান থেকে সোজা রাস্তা চলে যায় কাবুল বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে। ঐ পথেই আফগানিস্তানের অধুনালুপ্ত প্রধান কার্যনির্বাহী আবদুল্লাহ আব্দুল্লাহর বিশাল বাসভবন। প্রধান কার্যনির্বাহী হওয়ার আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন আবদুল্লাহ। এখন তালিবান বাহিনীর সাথে আফগান সরকারের সমঝোতা আলোচনায় প্রধান মধ্যস্থতাকারী। বাঘে-বালা প্রাসাদ থেকে শুরু করে জুনিয়র স্কুল সবটাই স্পষ্ট ধরা আছে পিপির স্মৃতিতে।

পিপি’র মতোই শরণার্থী হিসেবে ব্রিটেনে ঠাঁই হয়েছে কান্দাহারের ফাহাদের। কয়েক বছর লন্ডনে কাটিয়ে এখন বার্মিংহামের কাছে থাকে। Just Eat-এর হয়ে খাওয়ার পৌঁছে দেওয়ার কাজ করে, পিঠে ব্যাগ নিয়ে আর সাইকেলে চড়ে।

বাবা নর্দার্ন অ্যালায়েন্সের সমর্থক হওয়ায় প্রথম থেকেই তালিবান যোদ্ধাদের রোষানলে ছিল ফাহাদের পরিবার। বাবা আর দাদা নিখোঁজ আজ কুড়ি বছর। দালাল ধরে ইরান, তুরস্কসহ বহু দেশ ঘুরে ইউরোপে পৌছেছে ফাহাদ। ওর মা আর বোন পেশাওয়ারের কাছে শরণার্থী শিবিরে। নিজের ঘর থেকে জানালার বাইরে আর্দ্র চোখে তাকিয়ে অতীত আর অনাগত ভবিষ্যতের কথা ভাবে ফাহাদ।

ফাহাদের বন্ধু ফিরোজ খান। ভালো ক্রিকেটার। Ealing-এ যে ক্লাবের হয়ে খেলত অর্জুন তেন্ডুলকর, সেখানে খেলেছে কিছুদিন। ২০১৯-এ ক্রিকেট বিশ্বকাপের আগে ব্রিটেনে বসবাসকারী আফগান শরণার্থীদের জন্য স্কটল্যান্ডে প্রশিক্ষণ শিবিরের আয়োজন করে আফগান ক্রিকেট বোর্ড। তাতেও ডাক পেয়েছিল ফিরোজ। বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধে আফগানিস্তানের দুর্দান্ত লড়াইয়ের পরে ফিরোজরা আশায় ছিলো ক্রিকেটকে আশ্রয় করে সংঘাত থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে আফগান যুবকরা। ক্রিকেট প্রশিক্ষকের দায়িত্ব নিয়ে স্বদেশে ফেরার স্বপ্নও দেখেছিল ফিরোজ। যুদ্ধে ফিরেছে আফগানিস্তান। ক্রিকেট মাঠে এখন শুধুই গুলির লড়াই।

spot_img
spot_img

সবাই যা পড়ছেন

spot_img